ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:০৭:৪৫
ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের

মাত্র ৩০ বছর বয়সে থেমে গেল স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের জীবন। এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে বুকে আঘাত পাওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব টেনেরিফের এই স্ট্রাইকারকে। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

হেসুস দে মিগেলের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর শোকের বার্তা এসেছে স্পেনের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাব থেকে। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদও এই ফুটবলারের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর পরিবার, সতীর্থ এবং টেনেরিফের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ক্লাব দুটি।

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

গত সোমবার রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল টেনেরিফ। ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও দুই দলের লড়াই চলছিল ২-২ সমতায়। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে একটি লম্বা বল সামলাতে নিজের বক্স ছেড়ে সামনে এগিয়ে যান আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনো।

সেই বল ক্লিয়ার করার প্রচেষ্টার মধ্যেই ঘটে বিপত্তি। গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি আঘাত করে দে মিগেলের বুকে। সংঘর্ষের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান টেনেরিফের স্ট্রাইকার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের সহায়তা চান।

মাঠের মধ্যেই পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলে তাঁর চিকিৎসা। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে আসে তাঁর মৃত্যুর খবর।

শোকাহত টেনেরিফ, শোকবার্তা বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের

নিজেদের খেলোয়াড়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে টেনেরিফ। ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা হেসুস দে মিগেল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। এই শোক প্রশমনের কোনো ভাষা নেই।’

২০২৫ সালে কাস্তেয়ন থেকে টেনেরিফে যোগ দিয়েছিলেন দে মিগেল। ক্লাবটির হয়ে গত মৌসুমে ১১টি গোল করেন তিনি। টেনেরিফের জার্সিতে তাঁর এই পারফরম্যান্সের পর ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার পথেই ছিলেন ৩০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।

কিন্তু মাঠের সেই সংঘর্ষই কেড়ে নিল তাঁর জীবন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু টেনেরিফ নয়, শোক জানিয়েছে স্পেনের বিভিন্ন ক্লাব। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদও দে মিগেলের পরিবারের সদস্য, সতীর্থ এবং টেনেরিফের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

FAQ

১. হেসুস দে মিগেল কোন ক্লাবের ফুটবলার ছিলেন?

তিনি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব টেনেরিফের স্ট্রাইকার ছিলেন।

২. কীভাবে দুর্ঘটনার শিকার হন দে মিগেল?

এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে গোলরক্ষক হেসুস ওওনোর হাঁটুতে তাঁর বুকে আঘাত লাগে।

৩. কত বছর বয়সে মারা গেছেন হেসুস দে মিগেল?

মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৩০ বছর।

৪. টেনেরিফের হয়ে গত মৌসুমে কত গোল করেছিলেন তিনি?

গত মৌসুমে টেনেরিফের হয়ে ১১টি গোল করেছিলেন দে মিগেল।

৫. তাঁর মৃত্যুতে কোন কোন ক্লাব শোক জানিয়েছে?

স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদও শোক প্রকাশ করেছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: