ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

জমি বিক্রির সময় বায়না করলে যে ১০টি শর্ত রাখবেন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১১:৫৫:১১
জমি বিক্রির সময় বায়না করলে যে ১০টি শর্ত রাখবেন

জমি বিক্রির জন্য বায়না করার সময় শুধু মোট দাম ও অগ্রিম টাকার পরিমাণ লিখে রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। জমির মালিকানা, দখল হস্তান্তর, বাকি টাকা পরিশোধ, দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা কিংবা কোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে কী হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট না থাকলে পরে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়কেই আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির বায়নাচুক্তি লিখিত ও নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক। তাই চুক্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা এবং সই করার আগে জমির কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি।

বায়নানামা মূলত জমি বিক্রির বিষয়ে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে নির্ধারিত শর্তের লিখিত চুক্তি। এতে কত দামে জমি বিক্রি হবে, কত টাকা অগ্রিম দেওয়া হলো এবং কখন চূড়ান্ত দলিল সম্পন্ন হবে—এসব বিষয় উল্লেখ থাকে। তবে বায়নাচুক্তি করলেই জমির মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে যায় না। মালিকানা হস্তান্তরের জন্য আইন অনুযায়ী বিক্রয় দলিল নিবন্ধন করতে হয়।

বায়নানামা করার আগে যে বিষয়টি জানা জরুরি

বাংলাদেশের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৪ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় ও বিক্রয়চুক্তির বিষয়ে বিধান রয়েছে। এ ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিক্রয়চুক্তি নিজে থেকে জমির ওপর কোনো স্বত্ব বা দায় সৃষ্টি করে না। অন্যদিকে, একই আইনের ৫৪এ ধারায় বলা হয়েছে, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি লিখিত দলিলের মাধ্যমে করতে হবে এবং সেটি নিবন্ধিত হতে হবে।

নিবন্ধিত বায়নাচুক্তিতে চূড়ান্ত বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনের সময়সীমা উল্লেখ করতে হয়। সময়সীমা উল্লেখ না থাকলে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ছয় মাস সময় আইন অনুযায়ী গণ্য হবে।

বায়নানামায় যে ১০টি শর্ত রাখা উচিত

১. জমির সঠিক পরিচয় ও পরিমাণ উল্লেখ করুন

বায়নানামায় জমির পরিচয় এমনভাবে লিখতে হবে, যাতে কোন জমিটি বিক্রি হচ্ছে তা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে। শুধু মৌজা বা এলাকার নাম লিখে দায়িত্ব শেষ করা ঠিক নয়।

চুক্তিতে উল্লেখ রাখুন—

জেলার নাম, উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা এলাকার নাম।

মৌজার নাম ও জে.এল. নম্বর।

খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর।

জমির শ্রেণি এবং মোট পরিমাণ।

জমির চারপাশের সীমানা—উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে কী রয়েছে।

জমির অবস্থান ও প্রয়োজনে নকশা বা দাগের অংশবিশেষের বিবরণ।

একটি দাগের সম্পূর্ণ জমি নয়, বরং নির্দিষ্ট অংশ বিক্রি করলে সেই অংশের অবস্থান ও পরিমাণ পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করতে হবে। সম্ভব হলে জরিপ করে নকশা সংযুক্ত করুন।

২. মোট বিক্রয়মূল্য ও অগ্রিম টাকার পরিমাণ লিখুন

জমির মোট দাম কত, বায়নার সময় কত টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং বাকি কত টাকা পরিশোধ করতে হবে—এগুলো আলাদা করে উল্লেখ করুন।

উদাহরণ হিসেবে, জমির মোট মূল্য ২০ লাখ টাকা হলে বায়নার সময় ২ লাখ টাকা দেওয়া হলে চুক্তিতে লিখতে হবে—

মোট বিক্রয়মূল্য: ২০ লাখ টাকা।

বায়না হিসেবে পরিশোধ: ২ লাখ টাকা।

অবশিষ্ট মূল্য: ১৮ লাখ টাকা।

অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতি।

টাকা নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার, পে-অর্ডার বা অন্য মাধ্যমে দেওয়া হলে তার বিবরণ রাখুন। প্রতিটি লেনদেনের রসিদ বা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

৩. বাকি টাকা পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখুন

বায়নানামায় শুধু 'পরবর্তী সময়ে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে'—এমন অস্পষ্ট কথা লেখা উচিত নয়। বরং নির্দিষ্ট তারিখ বা নিবন্ধিত চুক্তির তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা উল্লেখ করুন।

এ ছাড়া লিখুন—

কোন তারিখে বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

টাকা কোথায় ও কীভাবে দেওয়া হবে।

বিক্রেতা টাকা গ্রহণের পর কীভাবে প্রাপ্তি স্বীকার করবেন।

নির্ধারিত সময়ে দলিল নিবন্ধন না হলে উভয় পক্ষ কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।

সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সময় বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখুন।

৪. চূড়ান্ত দলিল নিবন্ধনের সময় ও স্থান উল্লেখ করুন

এটি বায়নানামার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ক্রেতা কখন বাকি টাকা দেবেন এবং বিক্রেতা কখন চূড়ান্ত বিক্রয় দলিল নিবন্ধন করবেন, তা নির্দিষ্ট করে লিখতে হবে।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী, বায়নাচুক্তিতে বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনের সময় উল্লেখ করতে হয়। সময় উল্লেখ না থাকলে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ছয় মাস সময় গণ্য হবে।

চুক্তিতে আরও উল্লেখ রাখতে পারেন, নির্ধারিত দিনে কোন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনের জন্য দুই পক্ষ উপস্থিত থাকবেন।

৫. জমির মালিকানা ও কাগজপত্রের বিষয়ে শর্ত রাখুন

বিক্রেতা জমিটির বৈধ মালিক কি না এবং বিক্রির অধিকার তাঁর আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বায়নানামায় বিক্রেতার মালিকানা ও জমির কাগজপত্র সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখুন।

প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই করুন—

মূল দলিল ও আগের মালিকানার ধারাবাহিক দলিল।

সর্বশেষ খতিয়ান ও নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা।

জমির দাগ, পরিমাণ ও সীমানার মিল।

জমি নিয়ে কোনো মামলা, নিষেধাজ্ঞা বা বিরোধ আছে কি না।

জমিটি বন্ধক বা অন্য কোনো দায়ের আওতায় আছে কি না।

বিক্রেতা যেন চুক্তিতে ঘোষণা করেন যে, জমির মালিকানা বা বিক্রির অধিকার সম্পর্কে তাঁর জানা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা থাকলে তা ক্রেতাকে জানানো হয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৫ ধারায় বিক্রেতার কিছু দায়িত্বের মধ্যে ক্রেতার অজানা ও সাধারণ সতর্কতায় ধরা না পড়া গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি এবং মালিকানার ত্রুটি প্রকাশ করার বিষয় রয়েছে।

৬. জমিতে মামলা, বন্ধক বা অন্যের দাবি থাকলে তা উল্লেখ করুন

জমি নিয়ে মামলা চলছে, ব্যাংকে বন্ধক রয়েছে, অন্য কেউ দখলে আছেন কিংবা কোনো অংশ নিয়ে বিরোধ রয়েছে—এমন তথ্য গোপন করা উচিত নয়।

বায়নানামায় উল্লেখ করুন—

জমির বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা নিষেধাজ্ঞা আছে কি না।

জমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রাখা হয়েছে কি না।

অন্য কারও দখল, দাবি বা স্বত্ব রয়েছে কি না।

কোনো তথ্য গোপন করা হলে তার দায় কীভাবে নির্ধারিত হবে।

জমিতে আইনি বাধা থাকলে তা নিষ্পত্তি না করে চূড়ান্ত বিক্রয় সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৭. বায়নার টাকা ফেরত বা চুক্তি বাতিলের শর্ত লিখুন

ক্রেতা বা বিক্রেতা কেউ চুক্তির শর্ত পালন করতে না পারলে কী হবে, তা আগেই নির্ধারণ করা দরকার।

উদাহরণ হিসেবে—

বিক্রেতা বৈধ মালিকানা প্রমাণ করতে না পারলে কীভাবে বায়নার টাকা ফেরত দেবেন।

বিক্রেতা সম্মতি থাকা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী দলিল সম্পাদন না করলে কী প্রতিকার থাকবে।

ক্রেতা নির্ধারিত সময়ে বাকি টাকা দিতে ব্যর্থ হলে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

উভয় পক্ষের সম্মতিতে চুক্তি বাতিল হলে টাকা কীভাবে ফেরত বা সমন্বয় হবে।

বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, ক্রেতা চুক্তি ভাঙলেই বিক্রেতা সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বায়নার টাকা রেখে দিতে পারবেন—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। টাকা বাজেয়াপ্ত, ফেরত বা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি চুক্তির ভাষা, প্রযোজ্য আইন এবং ঘটনার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই এ শর্ত আইনজীবীর মাধ্যমে তৈরি করানো ভালো।

৮. জমির দখল কখন দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করুন

বায়না করার পরপরই ক্রেতাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া উচিত কি না, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। চূড়ান্ত দলিলের আগে দখল দিলে ভবিষ্যতে বিরোধ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন:

খতিয়ানে নাম আছে, দলিল নেই? জমির মালিকানা প্রমাণ করবেন যেভাবে

জমি রেজিস্ট্রির আগে যে ১০টি বিষয় দেখে স্বাক্ষর করবেন

চুক্তিতে উল্লেখ করুন—

পুরো টাকা পরিশোধের আগে দখল দেওয়া হবে কি না।

দখল হস্তান্তরের নির্দিষ্ট তারিখ।

জমিতে কোনো ঘর, গাছ, ফসল বা স্থাপনা থাকলে সেগুলোর অবস্থা।

জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সীমানা ও দখল কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

সাধারণভাবে পুরো মূল্য পরিশোধ ও চূড়ান্ত দলিল নিবন্ধনের পর দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখলে ঝুঁকি কমতে পারে। তবে দুই পক্ষের আলাদা সমঝোতা থাকলে সেটি স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।

৯. জমির পরিমাপে কমবেশি হলে কী হবে, তা লিখুন

কাগজে জমির পরিমাণ এক রকম থাকলেও সরেজমিনে মাপজোখে কমবেশি পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে বড় দাগের অংশবিশেষ বিক্রির ক্ষেত্রে এ সমস্যা দেখা দেয়।

তাই বায়নানামায় উল্লেখ করুন—

জমি কোন পদ্ধতিতে মাপা হবে।

মাপজোখ কে করবেন।

কাগজের পরিমাণের সঙ্গে বাস্তব পরিমাণ না মিললে মূল্য কীভাবে সমন্বয় হবে।

উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলে ক্রেতা বা বিক্রেতার কী অধিকার থাকবে।

এতে জমির পরিমাণ নিয়ে পরবর্তী বিরোধের আশঙ্কা কমে।

১০. সব পক্ষের পরিচয়, স্বাক্ষর ও সাক্ষীর তথ্য রাখুন

বায়নানামায় বিক্রেতা ও ক্রেতার পূর্ণ নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয় পরিচিতি সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।

এ ছাড়া—

প্রত্যেক পক্ষের স্বাক্ষর বা আইনসম্মত টিপসই রাখুন।

সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর নিন।

চুক্তির প্রতিটি পাতায় পক্ষগুলোর স্বাক্ষর বা সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর রাখুন।

কোনো কাটাকাটি বা সংশোধন থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাক্ষরে তা সত্যায়িত করুন।

প্রত্যেক পক্ষকে নিবন্ধিত চুক্তির নির্ভরযোগ্য কপি দিন।

বায়নানামা নিবন্ধন করা কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ। বাংলাদেশের নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ১৭এ ধারায় স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি লিখিতভাবে সম্পাদন ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধনের পর চুক্তি সম্পাদনের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের বিধান কার্যকর হয়েছে। আগে এ সময়সীমা ৩০ দিন ছিল।

অর্থাৎ শুধু সাদা কাগজে বা স্ট্যাম্পে লিখে দুই পক্ষের স্বাক্ষর নিলেই আইন অনুযায়ী বায়নাচুক্তির নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা পূরণ হয় না। চুক্তিটি যথাযথভাবে নিবন্ধন করাতে হবে।

বায়নানামা আর জমির দলিল কি একই?

না, দুটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

বায়নানামা হলো ভবিষ্যতে জমি বিক্রির বিষয়ে দুই পক্ষের চুক্তি। এতে বিক্রয়মূল্য, অগ্রিম টাকা ও দলিল সম্পাদনের সময় নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, চূড়ান্ত বিক্রয় দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৪ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। তাই বায়নানামা হাতে থাকলেই ক্রেতা জমির চূড়ান্ত মালিক হয়ে যান না।

বায়না করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

জমি বিক্রির ক্ষেত্রে কয়েকটি ভুল পরে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই না করে বায়না করা।

দাগ ও খতিয়ানের নম্বর ভুল লেখা।

অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর রসিদ না দেওয়া।

বাকি টাকা পরিশোধের সময়সীমা নির্দিষ্ট না করা।

চুক্তি নিবন্ধন না করা।

জমির মামলা বা বন্ধকের তথ্য গোপন রাখা।

চূড়ান্ত দলিলের আগেই অস্পষ্ট শর্তে দখল বুঝিয়ে দেওয়া।

বায়নার টাকা ফেরত বা চুক্তি বাতিলের শর্ত না রাখা।

অন্য শরিক বা ওয়ারিশের স্বত্ব থাকলে তাঁদের অধিকার যাচাই না করা।

জমি বিক্রির বায়না করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—জমির পরিচয়, মালিকানা, বিক্রয়মূল্য, অগ্রিম টাকা, বাকি টাকা পরিশোধের সময়, চূড়ান্ত দলিল নিবন্ধন এবং চুক্তি ভঙ্গের পরিণতি স্পষ্টভাবে লিখে রাখা। শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি বা অনিবন্ধিত কাগজের ওপর নির্ভর না করে আইন অনুযায়ী বায়নাচুক্তি নিবন্ধন করানো উচিত। চুক্তিতে স্বাক্ষরের আগে জমির দলিল ও রেকর্ড যাচাই করে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিলে ভবিষ্যতের বিরোধ ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. জমি বিক্রির বায়নানামা কি নিবন্ধন করতে হয়?

হ্যাঁ। নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ১৭এ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি লিখিত ও নিবন্ধিত হতে হবে। চুক্তি সম্পাদনের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করতে হয়।

২. বায়নানামা করলেই কি জমির মালিক হওয়া যায়?

না। বায়নানামা ভবিষ্যতে জমি বিক্রির চুক্তি। জমির মালিকানা হস্তান্তরের জন্য চূড়ান্ত বিক্রয় দলিল নিবন্ধন করতে হয়।

৩. বায়নানামায় দলিল করার সময় উল্লেখ না থাকলে কী হবে?

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৪এ ধারা অনুযায়ী, চুক্তিতে সময় উল্লেখ না থাকলে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ছয় মাস সময় গণ্য হবে।

৪. ক্রেতা বাকি টাকা না দিলে বিক্রেতা কি বায়নার টাকা রেখে দিতে পারবেন?

এটি সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত নয়। চুক্তির শর্ত, পক্ষগুলোর আচরণ ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে টাকা ফেরত বা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নির্ধারিত হতে পারে।

৫. বায়না করার পর জমির দখল কি ক্রেতাকে দিতে হয়?

না, শুধু বায়না করার কারণে দখল দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় না। দখল কখন ও কীভাবে দেওয়া হবে, তা চুক্তিতে স্পষ্ট করে লিখতে হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: