ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

Harley-Davidson Sprint 440-এর দাম, মাইলেজ ও ফিচার জানুন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৮:১২:৪৬
Harley-Davidson Sprint 440-এর দাম, মাইলেজ ও ফিচার জানুন

বড় ইঞ্জিন ও ভারী গড়নের প্রচলিত ক্রুজার বাইকের বাইরে এসে নতুন ধরনের মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হয়েছে Harley-Davidson। প্রতিষ্ঠানটির নতুন Sprint 440-তে রয়েছে ৪৪০ সিসির এয়ার ও অয়েল-কুলড ইঞ্জিন, ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, মাত্র ৬৭১ মিমি আসন উচ্চতা এবং ডুয়াল-চ্যানেল ABS। কম উচ্চতা ও সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য গড়নের কারণে নতুন ও অভিজ্ঞ উভয় ধরনের চালকের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে মোটরসাইকেলটি। যুক্তরাজ্যের বাজারে এর প্রাথমিক দাম রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড। ২০২৭ সাল থেকে বিভিন্ন বাজারে বাইকটির বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন Harley-Davidson Sprint 440 উন্মোচনের মধ্য দিয়ে মাঝারি ইঞ্জিন সক্ষমতার ক্রুজার বিভাগে নিজেদের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করছে মার্কিন মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। বাইকটি তৈরি হয়েছে ভারতের Hero MotoCorp-এর সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায়। এর ডিজাইনেও রয়েছে হার্লে-ডেভিডসনের ঐতিহ্যবাহী ক্রুজার মোটরসাইকেলের প্রভাব।

২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাইকটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় Harley-Davidson। এরপর ৫ থেকে ৮ নভেম্বর ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত EICMA 2026 মোটরসাইকেল প্রদর্শনীতে এটি জনসমক্ষে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

Harley-Davidson Sprint 440-এর ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স

নতুন Sprint 440-এর মূল আকর্ষণ এর ৪৪০ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এটি এয়ার ও অয়েল-কুলড প্রযুক্তিতে তৈরি। ইঞ্জিনটি ৬,০০০ rpm-এ সর্বোচ্চ ২৭ hp শক্তি এবং ৪,০০০ rpm-এ ৩৮ Nm টর্ক উৎপন্ন করতে পারে।

ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স। পাশাপাশি রয়েছে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ। এই প্রযুক্তি গিয়ার পরিবর্তনের সময় ক্লাচ পরিচালনা সহজ করতে এবং দ্রুত ডাউনশিফটের ক্ষেত্রে পেছনের চাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ কমাতে সহায়তা করে।

দীর্ঘপথে চলার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। গিয়ারবক্সের পঞ্চম ও ষষ্ঠ গিয়ারকে ওভারড্রাইভ অনুপাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে হাইওয়েতে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ইঞ্জিন গতিতে চলার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির জ্বালানি দক্ষতা প্রতি লিটারে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাস্তবে মাইলেজ নির্ভর করবে রাস্তার অবস্থা, চালানোর ধরন, গতি ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর।

ডিজাইন ও বসার উচ্চতায় বড় পরিবর্তন

Sprint 440-এর ডিজাইনে Harley-Davidson-এর পুরোনো ক্রুজার মোটরসাইকেলের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে রয়েছে গোলাকার LED হেডল্যাম্প, টিয়ারড্রপ আকৃতির ফুয়েল ট্যাংক, নিচু আসন, ছোট পেছনের মাডগার্ড এবং ফাস্টব্যাক স্টাইলের সিট।

বাইকটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর আসন উচ্চতা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য প্রকাশিত Harley-Davidson-এর তথ্য অনুযায়ী, এর আসন উচ্চতা ২৬.৪ ইঞ্চি বা প্রায় ৬৭১ মিমি। ফলে তুলনামূলক কম উচ্চতার চালকদের জন্যও বাইকটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।

এতে ১৯ ইঞ্চির সামনের এবং ১৭ ইঞ্চির পেছনের চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। দুই চাকাতেই রয়েছে কাস্ট অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় রিম। সামনের চাকায় ১০০/৯০-১৯ এবং পেছনের চাকায় ১৫০/৬০-১৭ মাপের টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।

বাইকটির ওজন প্রায় ১৮৭ কেজি। কম আসন উচ্চতা, সরু গড়ন এবং পরিবর্তিত রাইডিং পজিশনের সমন্বয়ে এটি প্রচলিত বড় আকারের হার্লে ক্রুজারের তুলনায় সহজে চালানোর উপযোগী একটি মডেল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

সাসপেনশন ও ব্রেকিং ব্যবস্থায় যা থাকছে

রাস্তায় স্থিতিশীলতা ও আরামদায়ক রাইডিং নিশ্চিত করতে Sprint 440-তে ৪৩ মিমি আপসাইড-ডাউন (USD) ফ্রন্ট ফর্ক ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনে রয়েছে টুইন পিগিব্যাক শক অ্যাবজরবার। এগুলোর প্রিলোড সাত ধাপে সমন্বয় করা যায়।

ব্রেকিংয়ের জন্য সামনের চাকায় ৩২০ মিমি এবং পেছনের চাকায় ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য দুই চাকায় ডুয়াল-চ্যানেল ABS দেওয়া হয়েছে। ফলে জরুরি ব্রেকিংয়ের সময় চাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এটি সহায়তা করবে।

ক্রুজার বাইক হিসেবে এর সাসপেনশন ও ব্রেকিং ব্যবস্থায় দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি দীর্ঘপথের ব্যবহারকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক ফিচারে থাকছে TFT ডিসপ্লে ও LED লাইট

ঐতিহ্যবাহী ক্রুজার ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করেছে Harley-Davidson। Sprint 440-তে রয়েছে ৩.৫ ইঞ্চির রঙিন TFT ইন্সট্রুমেন্ট ডিসপ্লে। এর মাধ্যমে বাইকের প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যাবে।

এ ছাড়া পুরো বাইকজুড়েই ব্যবহার করা হয়েছে LED লাইটিং প্রযুক্তি। স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিভাইস চার্জ দেওয়ার জন্য রয়েছে USB Type-C পোর্ট।

তবে আধুনিক ফিচার থাকলেও এতে রাইডিং মোড ও ট্র্যাকশন কন্ট্রোল নেই। কারণ মোটরসাইকেলটিতে রাইড-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ এর ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার চেয়ে সহজ ও ব্যবহারবান্ধব রাইডিং অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বাইকটি সাজানোর জন্য অতিরিক্ত অ্যাকসেসরিজও পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে খুলে ফেলা যায় এমন উইন্ডস্ক্রিন, স্যাডলব্যাগ, প্যাসেঞ্জার ব্যাকরেস্ট, ইঞ্জিন গার্ড এবং বিকল্প হ্যান্ডেলবার।

Harley-Davidson Sprint 440-এর দাম কত?

যুক্তরাজ্যের বাজারে Harley-Davidson Sprint 440-এর প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড। এই দাম Dark Billiard Gray রঙের সংস্করণের জন্য। Vivid Black এবং Teal Thunder রঙের সংস্করণ কিনতে অতিরিক্ত ২০০ পাউন্ড দিতে হবে।

অন্যদিকে, কানাডার বাজারে এর ঘোষিত মূল্য ৮ হাজার ৪৯৯ কানাডিয়ান ডলার। তবে দেশভেদে কর, পরিবহন খরচ ও অন্যান্য চার্জের কারণে চূড়ান্ত দাম পরিবর্তিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাইকটি ২০২৭ সালের বসন্তে বিক্রির জন্য আসবে। সেখানে Harley-Davidson-এর পেনসিলভানিয়ার York কারখানায় এর চূড়ান্ত সংযোজন করা হবে। অন্যান্য দেশের বাজারে বিক্রির সময়সূচি আলাদা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের বাজারে আসবে কি?

ভারতের Hero MotoCorp-এর সঙ্গে Harley-Davidson-এর সহযোগিতায় তৈরি হলেও Sprint 440-এর ভারতীয় বাজারে আসার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক মোটরসাইকেলবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত ভারতে এটি বাজারজাত করার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

বাংলাদেশের বাজারেও মোটরসাইকেলটি কবে আসবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে এর সম্ভাব্য বাংলাদেশি দাম বা বিক্রির সময় সম্পর্কে এখনই নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

তবে মাঝারি ইঞ্জিন সক্ষমতার ক্রুজার বাইকের প্রতি আগ্রহী বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বিশেষ করে কম আসন উচ্চতা, ৪৪০ সিসির ইঞ্জিন এবং ঐতিহ্যবাহী ক্রুজার ডিজাইন এর প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে।

কেন আলাদা Harley-Davidson Sprint 440?

Sprint 440-এর মাধ্যমে Harley-Davidson এমন এক শ্রেণির চালকের কাছে পৌঁছাতে চাইছে, যাদের কাছে বড় ও ভারী ক্রুজার মোটরসাইকেল চালানো কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। কম আসন উচ্চতা, তুলনামূলক সরু গড়ন এবং ৪৪০ সিসির ইঞ্জিন এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া ১৯৬১ সালে পরিচিতি পাওয়া Harley-Davidson Sprint নামটির পুনরায় ব্যবহার বাইকটিকে ঐতিহ্যগত গুরুত্বও দিয়েছে। তবে নতুন মডেলটি পুরোনো Sprint-এর সরাসরি পুনর্নির্মাণ নয়; আধুনিক প্রযুক্তি ও বর্তমান সময়ের ক্রুজার ডিজাইনের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, Harley-Davidson Sprint 440 প্রতিষ্ঠানটির তুলনামূলক সহজে চালানোর উপযোগী ক্রুজার মোটরসাইকেলের পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। ২০২৭ সালে বিভিন্ন বাজারে এর বিক্রি শুরু হলে ক্রেতাদের সাড়া কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. Harley-Davidson Sprint 440-এর ইঞ্জিন কত সিসির?

এতে ৪৪০ সিসির এয়ার ও অয়েল-কুলড সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন রয়েছে।

২. Harley-Davidson Sprint 440-এর সর্বোচ্চ শক্তি ও টর্ক কত?

ইঞ্জিনটি ৬,০০০ rpm-এ ২৭ hp শক্তি এবং ৪,০০০ rpm-এ ৩৮ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।

৩. Harley-Davidson Sprint 440-এর মাইলেজ কত?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর জ্বালানি দক্ষতা প্রতি লিটারে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। বাস্তবে মাইলেজ কমবেশি হতে পারে।

৪. Harley-Davidson Sprint 440-এর দাম কত?

যুক্তরাজ্যে এর প্রাথমিক দাম ৪ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড এবং কানাডায় ৮ হাজার ৪৯৯ কানাডিয়ান ডলার।

৫. Harley-Davidson Sprint 440 কি বাংলাদেশে আসবে?

বাংলাদেশে বাইকটি বাজারজাত করার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই এর বাংলাদেশি দাম ও বাজারে আসার সময় অজানা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: