জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশজুড়ে সরকারের বিশেষ আয়োজন
শিশুদের জন্য সারা দেশের শিশুপার্ক উন্মুক্ত রাখা থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও কারাগারে বিশেষ খাবার পরিবেশন—৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। দিনটি উপলক্ষে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পতাকা উত্তোলন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া আয়োজন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ কর্মসূচিও থাকছে।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালনের জন্য দেশব্যাপী এসব আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির অনুমোদন আসে গত ২৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রস্তাবিত কর্মসূচিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আয়োজনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
সাধারণ মানুষের জন্য যেসব সুবিধা থাকছে
৭ নভেম্বর দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি পালিত হবে। এদিন সরকারি-বেসরকারি সব ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোও পতাকা দিয়ে সাজানো হবে। এ কাজ যৌথভাবে করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা।
শিশুদের বিনোদনের সুযোগ রাখতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সব শিশুপার্ক দিনব্যাপী বিনা টিকিটে খোলা থাকবে। অন্যদিকে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস এবং ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুবিধাজনক সময়ে উন্নতমানের খাবার দেওয়া হবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতা
দেশের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে সব মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই উদ্দেশ্যে মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হবে।
শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও শিল্পকলায় বিশেষ আয়োজন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমে থাকবে আলাদা অনুষ্ঠান ও প্রকাশনা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সিনেমা হল এবং ভ্যানের মাধ্যমেও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র দেখানো হবে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করবে দেশাত্মবোধক গানের আসর। দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্মারক সভা, আর্মি স্টেডিয়ামে ডিসপ্লে
দিবসের কর্মসূচিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভা।
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার। এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থায় মিলাদ ও প্রীতিভোজ
দিবসটি উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার সদর দপ্তরেও আয়োজন থাকবে। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এসব প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দেবেন।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস কবে পালিত হবে?
আগামী ৭ নভেম্বর দিবসটি উদযাপন করা হবে।
২. ৭ নভেম্বর কি সাধারণ ছুটি থাকবে?
হ্যাঁ, দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি পালিত হবে।
৩. শিশুপার্কে প্রবেশের জন্য টিকিট লাগবে কি?
না। দেশের সব শিশুপার্ক দিনব্যাপী শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।
৪. দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কোথায় ডিসপ্লে হবে?
বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে।
৫. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কি বাণী দেবেন?
হ্যাঁ, তাঁরা জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দেবেন।
আল-মামুন/