ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, তালিকায় আরও যারা

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১১:২৪:০০
অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, তালিকায় আরও যারা

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেই যে জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটে, এমন নয়। বিশ্ব ফুটবলে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে আবার দেশের হয়ে মাঠে নেমেছেন তারকারা। কেউ ফিরেছেন মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে, কেউ অপেক্ষা করেছেন পাঁচ বছর। এমনকি ৩৮ বছর বয়সে ফিরে বিশ্বকাপে চার গোল করার কীর্তিও গড়েছেন একজন।

আজ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসরের ঘোষণার পর সেই পুরোনো উদাহরণগুলো আবার সামনে এসেছে। লিওনেল মেসি, জিনেদিন জিদান, টনি ক্রুস, জিয়ানলুইজি বুফন ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতো ফুটবলাররাও একসময় জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তাদের কেউ সিদ্ধান্ত বদলে ফিরেছেন, কেউ আবার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দলকে বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছেন।

সবচেয়ে কম সময়ে ফিরেছিলেন মেসি

জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সবচেয়ে দ্রুত ফিরে আসার উদাহরণগুলোর একটি লিওনেল মেসির। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচে হারের পর সেই হতাশা থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

তবে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী হয়নি। ঘোষণার মাত্র দুই মাস পরই আবার আর্জেন্টিনা দলে ফেরেন মেসি।

একসঙ্গে ফিরেছিলেন ফ্রান্সের তিন অভিজ্ঞ

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ফ্রান্স দলের পেছনে অবসর ভেঙে ফেরা তিন অভিজ্ঞ ফুটবলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জিনেদিন জিদান, লিলিয়ান থুরাম ও ক্লদ মাকেলেলে—তিনজনই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আবার ফিরে আসেন।

জিদান ২০০৪ সালের ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৫ সালে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফ্রান্সের জার্সিতে ফেরেন তিনি। একই সময়ে থুরাম ও মাকেলেলেও জাতীয় দলে যোগ দেন। তাদের প্রত্যাবর্তনের পর শক্তিশালী হয়ে ওঠা ফ্রান্স ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

পাঁচ বছর পর ফিরেছিলেন ইব্রাহিমোভিচ

সুইডেনের জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের ক্ষেত্রে জাতীয় দলে ফেরার বিরতিটা ছিল আরও দীর্ঘ। ২০১৬ সালের ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর ২০২১ সালে, ৩৯ বছর বয়সে আবারও সুইডেনের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন এই তারকা।

অন্যদিকে, ক্যামেরুনের রজার মিলা জাতীয় দলে ফিরেছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতির অনুরোধে। ১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার পর ১৯৯০ বিশ্বকাপের আগে তাকে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৩৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে যোগ দেন মিলা। বিশ্বকাপে চারটি গোল করে ক্যামেরুনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে ভূমিকা রাখেন তিনি।

ইউরো ২০২৪-ই ছিল ক্রুসের শেষ আন্তর্জাতিক আসর

অবসর থেকে ফিরে আবারও জাতীয় দলের হয়ে বড় টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন জার্মানির টনি ক্রুস। ২০২১ সালে ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। প্রায় তিন বছর পর ২০২৪ সালে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জার্মান দলে ফেরার কথা জানান।

নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০২৪-এ জার্মানির হয়ে খেলেন বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার। তবে টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার পর পেশাদার ফুটবল থেকেই অবসর নেন তিনি।

ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের প্রত্যাবর্তনের পেছনেও ছিল জাতীয় দলের পরিস্থিতি। ২০১৭ সালে ইতালি ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু ২০১৮ সালের মার্চে আবারও দলে ফেরেন বুফন। এরপর ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ইতালির গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।

নয়ারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা, রোনালদো কী করবেন?

অবসর ঘোষণার পর আবার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারও। ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তার জাতীয় দলে ফেরার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়। অতীতে মেসি, জিদান, ক্রুস, বুফন কিংবা ইব্রাহিমোভিচের মতো তারকারা অবসর ঘোষণার পরও জাতীয় দলে ফিরেছেন। রোনালদোও কি সেই পথ বেছে নেবেন, নাকি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অধ্যায় এখানেই শেষ হবে—এখন সেই প্রশ্নই সামনে।

FAQ

১. কোন কোন তারকা অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন?

লিওনেল মেসি, জিনেদিন জিদান, লিলিয়ান থুরাম, ক্লদ মাকেলেলে, টনি ক্রুস, জিয়ানলুইজি বুফন, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও রজার মিলা অবসর ঘোষণার পর জাতীয় দলে ফিরেছিলেন।

২. মেসি কত দিন পর আর্জেন্টিনা দলে ফিরেছিলেন?

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর অবসরের ঘোষণা দিয়ে দুই মাসের মধ্যেই জাতীয় দলে ফেরেন মেসি।

৩. ১৯৯০ বিশ্বকাপে রজার মিলা কত গোল করেছিলেন?

ক্যামেরুনের হয়ে চারটি গোল করেছিলেন তিনি। তার দল কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল।

৪. টনি ক্রুস কোন টুর্নামেন্ট খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়েন?

২০২৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ইউরো খেলার পর পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন ক্রুস।

৫. ম্যানুয়েল নয়ার কবে অবসরের ঘোষণা দেন?

২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ