ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

Hero Thriller 160R 4V-এর দাম কত, ফিচার ও স্পেসিফিকেশন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৮:০১:০৫
Hero Thriller 160R 4V-এর দাম কত, ফিচার ও স্পেসিফিকেশন

১৬৩.২ সিসির ইঞ্জিন, ৪-ভালভ প্রযুক্তি, USD ফ্রন্ট ফর্ক এবং সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS—সব মিলিয়ে ১৬০ সিসি সেগমেন্টে স্পোর্টি ডিজাইনের বাইক হিসেবে নজর কাড়ে Hero Thriller 160R 4V। বাংলাদেশের বাজারে মডেলটির এক্স-শোরুম দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আধুনিক ফিচার ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সমন্বয় থাকায় যারা দৈনন্দিন চলাচলের সঙ্গে স্পোর্টি রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতাও চান, তাঁদের বিবেচনায় আসতে পারে বাইকটি।

Hero MotoCorp বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Thriller 160R 4V-এর ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ১৬.৯ পিএস শক্তি ও ১৪.৬ নিউটনমিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। এতে রয়েছে পাঁচ গতির গিয়ারবক্স, সামনে ও পেছনে পেটাল ডিস্ক ব্রেক এবং KYB USD ফ্রন্ট ফর্ক। তবে বাইকটির নির্দিষ্ট মাইলেজ সম্পর্কে প্রস্তুতকারকের বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে নিশ্চিত কোনো সংখ্যা দেওয়া নেই। তাই প্রচলিত মাইলেজের দাবিকে অফিসিয়াল তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

Hero Thriller 160R 4V-এর দাম কত?

Hero MotoCorp বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে Hero Thriller 160R 4V-এর এক্স-শোরুম দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি শোরুম মূল্য; নিবন্ধন, বিমা, সড়ক কর ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে বাইকটি রাস্তায় চালানোর উপযোগী করতে মোট খরচ আরও বাড়তে পারে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাইকটি Matte Slate Black ও Neon Shooting Star—এই দুই রঙে পাওয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট রঙের বাইক কোনো শোরুমে মজুত আছে কি না, তা কেনার আগে ডিলারের সঙ্গে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

১৬৩.২ সিসির ইঞ্জিনে কত শক্তি পাওয়া যায়?

Thriller 160R 4V-এর প্রধান আকর্ষণ এর চার-ভালভবিশিষ্ট এয়ার-অয়েল-কুলড ইঞ্জিন। এর ডিসপ্লেসমেন্ট ১৬৩.২ সিসি। ইঞ্জিনটি ৮ হাজার ৫০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১৬.৯ পিএস শক্তি এবং ৬ হাজার ৫০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১৪.৬ নিউটনমিটার টর্ক উৎপন্ন করে।

ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তি এবং পাঁচ গতির কনস্ট্যান্ট মেশ গিয়ারবক্স। মাল্টি-প্লেট ওয়েট ক্লাচ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিন্যাস বাইকটিকে শহরের সাধারণ যাতায়াতের পাশাপাশি তুলনামূলক দ্রুতগতির রাইডিংয়ের উপযোগী করে তোলে।

এখানে চার-ভালভ প্রযুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে চার-ভালভ ইঞ্জিনে বাতাস ও জ্বালানির প্রবেশ এবং দহন-পরবর্তী গ্যাস বের হওয়ার প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ থাকে। তবে বাস্তবে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স নির্ভর করে সামগ্রিক নকশা, টিউনিং ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

সাসপেনশনে রয়েছে USD ফর্ক ও মনোশক

বাইকটির সামনের সাসপেনশনে ৩৭ মিলিমিটার KYB USD ফর্ক ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনে রয়েছে সাত ধাপে সমন্বয়যোগ্য মনোশক সাসপেনশন। সামনের USD ফর্ক বাইকটির স্পোর্টি লুকের পাশাপাশি রাইডিং নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

সামনের ও পেছনের সাসপেনশন মিলিয়ে রাস্তার অবস্থার সঙ্গে বাইকের স্থিতিশীলতা ও আরামের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচলের অভিজ্ঞতা নির্ভর করবে রাস্তার অবস্থা, টায়ারের চাপ এবং চালকের ওজনের ওপরও।

ব্রেকিং ও নিরাপত্তায় কী থাকছে?

Hero Thriller 160R 4V-তে সামনে ২৭৬ মিলিমিটার এবং পেছনে ২২০ মিলিমিটারের পেটাল ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। সামনের চাকায় সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS যুক্ত করা হয়েছে। জরুরি ব্রেকের সময় সামনের চাকায় লক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে এই ব্যবস্থা সহায়তা করে।

এ ছাড়া বাইকটিতে রয়েছে সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ প্রযুক্তি। সাইড স্ট্যান্ড নামানো অবস্থায় ইঞ্জিন চালু হওয়া বা চালু থাকা ঠেকাতে এটি কাজ করে। হ্যাজার্ড ওয়ার্নিং লাইটও রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে অন্য চালকদের সতর্ক করতে ব্যবহার করা যায়।

ডিজাইন ও প্রযুক্তিগত ফিচার

Thriller 160R 4V-এর ডিজাইনে স্পোর্টি বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে স্প্লিট সিট, স্পোর্টি বেলি প্যান এবং LED হেডলাইট, টেইল লাইট ও ইন্ডিকেটর। বাইকটির ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার ইনভার্টেড LCD ডিসপ্লে, যার উজ্জ্বলতা সমন্বয় করা যায়।

প্রযুক্তিগত সুবিধার মধ্যে রয়েছে Bluetooth কানেক্টিভিটি, SMS ও কল অ্যালার্ট এবং USB চার্জিং পোর্ট। ইঞ্জিন স্টার্ট ও কিল সুইচ সমন্বিতভাবে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাইকটির ফিচার তালিকায় শুধু ইঞ্জিন ও ব্রেকিং নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

ওজন, সিটের উচ্চতা ও জ্বালানি ধারণক্ষমতা

প্রস্তুতকারকের বাংলাদেশি পণ্যতথ্য অনুযায়ী, Thriller 160R 4V-এর কার্ব ওজন ১৪৫ কেজি। বাইকটির সিটের উচ্চতা ৭৯৫ মিলিমিটার এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিলিমিটার। হুইলবেস ১ হাজার ৩৩৩ মিলিমিটার।

জ্বালানি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ১২ লিটার। সামনের টায়ারের মাপ ১০০/৮০-১৭ এবং পেছনের টায়ারের মাপ ১৩০/৭০ R17। দুই চাকাতেই টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।

Hero Thriller 160R 4V-এর মাইলেজ কত?

বাইক কেনার আগে ক্রেতাদের অন্যতম প্রশ্ন থাকে মাইলেজ নিয়ে। তবে Hero MotoCorp বাংলাদেশের অফিসিয়াল পণ্যতথ্যে Thriller 160R 4V-এর নির্দিষ্ট পরীক্ষিত বা ঘোষিত মাইলেজের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রতি লিটারে কত কিলোমিটার চলবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বাস্তবে মাইলেজ নির্ভর করে যানজট, রাস্তার ধরন, গতি, চালানোর অভ্যাস, টায়ারের চাপ এবং ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। তাই অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া নির্দিষ্ট মাইলেজের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা না করে ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার তথ্য মিলিয়ে দেখা ভালো।

কারা কিনতে পারেন Hero Thriller 160R 4V?

যাঁরা ১৬০ সিসি শ্রেণিতে স্পোর্টি ডিজাইন, চার-ভালভ ইঞ্জিন, USD ফ্রন্ট ফর্ক এবং ABS সুবিধা খুঁজছেন, তাঁদের জন্য Hero Thriller 160R 4V বিবেচনার একটি মডেল হতে পারে। শহরে নিয়মিত যাতায়াতের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে দীর্ঘ পথে চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও বাইকটির ফিচারগুলো কাজে আসতে পারে।

তবে কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি। ১৪৫ কেজি ওজন ও ৭৯৫ মিলিমিটার সিটের উচ্চতা নিজের শারীরিক গঠনের সঙ্গে মানানসই কি না, তা টেস্ট রাইডে দেখে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা, যন্ত্রাংশের দাম ও প্রাপ্যতা এবং নিবন্ধনসহ মোট খরচ জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে Hero Thriller 160R 4V-এর শক্তির জায়গা হলো এর ১৬৩.২ সিসির চার-ভালভ ইঞ্জিন, ১৬.৯ পিএস পাওয়ার, USD ফ্রন্ট ফর্ক এবং সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS। বাংলাদেশের বাজারে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এক্স-শোরুম দামে বাইকটি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রস্তুতকারক। তবে মাইলেজের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত না হওয়ায় শুধু সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করে কেনার সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।

FAQ

১. বাংলাদেশে Hero Thriller 160R 4V-এর দাম কত?

Hero MotoCorp বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে বাইকটির এক্স-শোরুম দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। নিবন্ধন, বিমা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ আলাদা।

২. Hero Thriller 160R 4V-এর ইঞ্জিন কত সিসির?

এতে ১৬৩.২ সিসির এয়ার-অয়েল-কুলড, চার-ভালভ ইঞ্জিন রয়েছে।

৩. বাইকটির সর্বোচ্চ পাওয়ার ও টর্ক কত?

ইঞ্জিনটি ৮ হাজার ৫০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১৬.৯ পিএস পাওয়ার এবং ৬ হাজার ৫০০ আরপিএমে ১৪.৬ নিউটনমিটার টর্ক উৎপন্ন করে।

৪. Hero Thriller 160R 4V-তে কি ABS রয়েছে?

হ্যাঁ। বাইকটির সামনের চাকায় সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS রয়েছে। সামনে ও পেছনে পেটাল ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে।

৫. Hero Thriller 160R 4V-এর মাইলেজ কত?

প্রস্তুতকারকের বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট পরীক্ষিত মাইলেজের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বাস্তব মাইলেজ চালানোর ধরন ও রাস্তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: