ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভাতিজাদের বঞ্চিত করতে মেয়েদের সম্পত্তি দিলে কী হবে?

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৭ ২০:০৫:৫০
ভাতিজাদের বঞ্চিত করতে মেয়েদের সম্পত্তি দিলে কী হবে?

মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের বিধান রয়েছে। তাই সম্ভাব্য কোনো উত্তরাধিকারী যেন সম্পদের ভাগ না পান, সেই উদ্দেশ্যে জীবদ্দশায় সব সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া উচিত নয়। মেয়েদের উপহার বা দান হিসেবে সম্পদ দেওয়া বৈধ হলেও অন্যের অধিকার ঠেকানোর নিয়ত থাকলে তা গুনাহের কারণ হবে বলে ব্যাখ্যা করেছেন ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ।

এ বিষয়ে তাঁর পরামর্শ, মেয়েদের জীবিত অবস্থায় কিছু সম্পদ সমান হারে উপহার দেওয়া যেতে পারে। তবে সব সম্পত্তি তাদের দিয়ে না দিয়ে একটি অংশ রেখে দেওয়া উচিত। এতে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা যার যতটুকু প্রাপ্য, তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সম্পত্তি দেওয়ার পেছনের উদ্দেশ্যই এখানে গুরুত্বপূর্ণ

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, বাবা চাইলে জীবদ্দশায় নিজের মেয়েদের সম্পদ দান করতে পারেন। এমনকি এক মেয়ে থাকলে তাকে, কিংবা দুই মেয়ে থাকলে তাদেরও সব সম্পদ দিয়ে দিতে পারেন। এভাবে হেবা বা দান হিসেবে দেওয়া সম্পদ মেয়েদের জন্য হালাল হবে।

তবে বিষয়টি ভিন্ন হয়ে যায়, যখন সম্পদ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য থাকে ভাতিজা কিংবা অন্য কোনো হকদারকে বঞ্চিত করা। কারও প্রাপ্য অধিকার নষ্ট করার ইচ্ছা নিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করাকে তিনি অন্যের প্রতি অবিচার ও জুলুম বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দান করা বৈধ হলেও কাউকে ঠকানোর উদ্দেশ্য থাকলে সেই কাজের জন্য দানকারীকে গুনাহের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রশ্ন ছিল, ছেলে না থাকলে ভাতিজাদের অংশ ঠেকানো যাবে?

সম্প্রতি এক ব্যক্তি শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে জানতে চান, যেসব পরিবারের ছেলে সন্তান নেই, শুধু মেয়ে রয়েছে, সেসব পরিবারের বাবা যদি মৃত্যুর আগে সব সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দেন, যাতে ভাতিজারা কোনো সম্পদ না পায়, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা কতটা বৈধ হবে?

জবাবে তিনি বোঝান, উত্তরাধিকারী বা সম্পদের সম্ভাব্য হকদারকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, সম্পদ কারা পাবে বা কারা বেশি উপকৃত হবে, তা মানুষের জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের বক্তব্য উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কে বেশি উপকারে আসবে, তা মানুষ জানে না। তাই সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করা উচিত। সেই বিধান মেনে চলার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।

মেয়েদের কিছু দেওয়া যেতে পারে, সব সম্পদ নয়

জীবদ্দশায় মেয়েদের সমান হারে কিছু সম্পদ উপহার দেওয়ার বিষয়টিকে আলাদা হিসেবে দেখেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর পরামর্শ, বাবা চাইলে মেয়েদের কিছু সম্পদ গিফট হিসেবে দিতে পারেন। কিন্তু সব সম্পত্তি হস্তান্তর না করে কিছু সম্পদ নিজের কাছে রাখা উচিত, যাতে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা যার যা প্রাপ্য, তা পান।

বক্তব্যের শেষে তিনি আল্লাহর কাছে সঠিকভাবে আমল করার তৌফিক কামনা করেন।

FAQ

১. জীবদ্দশায় মেয়েদের সম্পত্তি দান করা কি জায়েজ?

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, বাবা জীবিত অবস্থায় মেয়েদের হেবা বা দান হিসেবে সম্পদ দিতে পারেন।

২. ভাতিজাদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে সব সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া কি জায়েজ?

তাঁর ব্যাখ্যায়, কোনো হকদারকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা অনুচিত এবং তা অবিচার ও জুলুমের শামিল।

৩. মেয়েদের সমান হারে সম্পদ দান করলে কি গুনাহ হবে?

সমান হারে দান করা জায়েজ। তবে অন্য হকদারদের ঠকানোর উদ্দেশ্য থাকলে সেই নিয়তের কারণে গুনাহ হবে।

৪. সব সম্পত্তি মেয়েদের না দিয়ে কিছু রেখে দেওয়ার পরামর্শ কেন দিয়েছেন?

যাতে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা যার যতটুকু প্রাপ্য, তা পেতে পারেন—এ কারণে কিছু সম্পদ রেখে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: