ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

জন্মতারিখ ভুল থাকলে এনআইডি ঠিক করতে যা করবেন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৭ ২০:২০:৩৮
জন্মতারিখ ভুল থাকলে এনআইডি ঠিক করতে যা করবেন

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশা অনুযায়ী প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। যাদের এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ওই সনদ জন্মতারিখের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। আর এসএসসি বা সমমানের সনদ না থাকলে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিলের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করা যায়।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু আবেদন করলেই জন্মতারিখ পরিবর্তন হয়ে যায় না। আবেদনে উল্লেখ করা সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনে যেসব কাগজ লাগবে

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই ধরনের কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় দলিল নির্ধারিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে সেগুলো হলো—

১. এসএসসি বা সমমানের সনদ: আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার বেশি হলে এসএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষার সনদ জমা দিতে হবে।

২. চাকরির বই বা এমপিও সংক্রান্ত নথি: এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও আবেদনকারী সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত কিংবা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে চাকরির বই অথবা মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) জমা দিতে হবে।

৩. অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ: অন্যান্য ক্ষেত্রে সঠিক জন্মতারিখ প্রমাণের জন্য জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়া যেতে পারে।

৪. পাসপোর্ট: জন্মতারিখের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি দেওয়া যায়।

৫. ড্রাইভিং লাইসেন্স: ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকা জন্মতারিখও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক দলিল হিসেবে জমা দেওয়া যায়।

৬. ট্রেড লাইসেন্স বা কাবিননামা: অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স কিংবা কাবিননামার সত্যায়িত অনুলিপিও গ্রহণযোগ্য দলিলের মধ্যে রয়েছে।

তবে কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কোন দলিল প্রয়োজন হবে, তা সংশোধনের ধরন ও জমা দেওয়া প্রমাণপত্রের ওপর নির্ভর করবে।

এসএসসি সনদ না থাকলে কীভাবে জন্মতারিখ সংশোধন করবেন?

অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত নয়। আবার কারও কাছে শিক্ষাগত সনদ না-ও থাকতে পারে। এ কারণে জন্মতারিখ সংশোধনের সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএসসি বা সমমানের সনদ না থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল উপস্থাপন করে আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রযোজ্য অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আবেদন যাচাইয়ের সময় প্রয়োজন মনে করলে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল থাকলে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। এ জন্য প্রথমে বাংলাদেশ এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর নিজের অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। লগইন করার পর ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের অপশন থেকে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

আবেদনে সঠিক জন্মতারিখ উল্লেখ করার পাশাপাশি কেন সংশোধন প্রয়োজন, তা জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের কপি সংযুক্ত করে আবেদন জমা দিতে হবে।

যারা অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যায় পড়েন, তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তথ্য সংশোধন ফরম-২-ও ব্যবহার করা যায়।

২০২৬ সালে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব বণ্টনেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালকরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

তবে সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন একই পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে না। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধন এবং জন্মতারিখের পাশাপাশি নিজের নাম ও বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তির নির্দেশনা রয়েছে।

এ ছাড়া একই তথ্যের ঘরে জন্মতারিখ, নিজের নাম ও বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ নেই বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়ার আগে নিজের জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্টসহ অন্যান্য পরিচয়পত্রে থাকা তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিভিন্ন নথিতে জন্মতারিখের অমিল থাকলে আবেদন যাচাইয়ের সময় অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্রের অনুলিপি সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা অথবা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান সত্যায়ন করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করা যাবে না। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ছাড়া আবেদন করলে সেটি বাতিল হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশোধনের পক্ষে যথাযথ দলিল সংযুক্ত করা উচিত।

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধন করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ কোনটি?

এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ থাকলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিলও জমা দিতে হয়।

২. এসএসসি সনদ না থাকলে কি জন্মতারিখ সংশোধন করা যাবে?

হ্যাঁ। জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রযোজ্য অন্যান্য দলিল দিয়ে আবেদন করা যায়।

৩. অনলাইনে কি এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন করা সম্ভব?

হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্টে লগইন করে সংশোধনের আবেদন করা যায়।

৪. জন্মতারিখ সংশোধনে কি তদন্ত করা হয়?

প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই ও তদন্ত করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের প্রয়োজনও হতে পারে।

৫. এনআইডি সংশোধনের আবেদন বাতিল হতে পারে কি?

হ্যাঁ। ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ আবেদন কিংবা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের অভাবে আবেদন বাতিল হতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: