ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে আসছে ৩ ইভি ব্র্যান্ড, কোনটি আনছে কারা?

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১৭:৫৮:২০
বাংলাদেশে আসছে ৩ ইভি ব্র্যান্ড, কোনটি আনছে কারা?

জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলের পাশাপাশি বাংলাদেশে ইলেকট্রিক স্কুটার ও বাইকের বাজারেও বাড়ছে ব্যবসায়িক আগ্রহ। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তিনটি বিদেশি ইভি ব্র্যান্ড—ইন্দোনেশিয়ার অফেরো, চীনের লুয়ুয়ান এবং মডার্ন। দেশের তিনটি বড় প্রতিষ্ঠান র‍্যাংগস মটরস, এসিআই মটরস ও র‍্যানকনের সঙ্গে ব্র্যান্ডগুলোর সম্ভাব্য বাজার-সম্পৃক্ততার কথা সামনে এসেছে।

তবে খবরটির সব অংশ এখনো সমানভাবে নিশ্চিত নয়। র‍্যানকন তাদের মডার্ন ব্র্যান্ড বাংলাদেশে আনার কথা জানিয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, র‍্যাংগসের মাধ্যমে অফেরো আসার তথ্যটি সূত্রের বরাতে এসেছে। এসিআই মটরসের পক্ষ থেকে লুয়ুয়ান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লুয়ুয়ান ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে ২০২৫ সালেই ডিএক্স গ্রুপের মাধ্যমে বাজারে এসেছে। ফলে এটিকে একেবারে নতুন ইভি ব্র্যান্ড বলা ঠিক হবে না।

কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসতে পারে কোন ব্র্যান্ড?

৭ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত বাইকবিডির এক প্রতিবেদনে তিনটি ব্র্যান্ডের সম্ভাব্য বাজার-সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাংগস মটরস লিমিটেড, এসিআই মটরস লিমিটেড ও র‍্যানকনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, র‍্যাংগসের সঙ্গে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার অফেরো, এসিআই মটরসের সঙ্গে চীনের লুয়ুয়ান এবং র‍্যানকনের সঙ্গে মডার্ন ইভির নাম। তবে অফেরো ও লুয়ুয়ান নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা পূর্ণাঙ্গ বাজার-পরিকল্পনা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

১. অফেরো: ইন্দোনেশিয়ার ইভি ব্র্যান্ড

অফেরো ইন্দোনেশিয়ার একটি ইলেকট্রিক মোবিলিটি ব্র্যান্ড। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে ইলেকট্রিক বাইক, ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল, তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান এবং কিক স্কুটারের পণ্যশ্রেণি দেখা যায়।

ব্র্যান্ডটির বিভিন্ন মডেলের মধ্যে রয়েছে Galaxy 6, Ledo 5, Stareer 5 Lit, Stareer 3 Lit ও Magical 3 Pro। এসব পণ্যের নকশা ও ব্যবহারভেদে আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোনো কোনো মডেলে একাধিক ব্যাটারি ব্যবহারের সুবিধার কথাও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাইকবিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‍্যাংগস মটরস বাংলাদেশে অফেরো নিয়ে আসতে পারে। তবে কবে নাগাদ ব্র্যান্ডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে, কোন মডেলগুলো প্রথমে আসবে কিংবা দাম কত হতে পারে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অফেরোর আন্তর্জাতিক পণ্যতালিকা থাকলেও সেগুলোর সব মডেল বাংলাদেশে পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

২. লুয়ুয়ান: বাংলাদেশে আগে থেকেই রয়েছে চীনা ব্র্যান্ডটি

লুয়ুয়ান চীনের একটি ইলেকট্রিক টু-হুইলার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তারা বৈদ্যুতিক স্কুটার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক যান তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশে লুয়ুয়ানকে নতুন করে পরিচিত করানোর বিষয়টি কিছুটা বিভ্রান্তিকর। কারণ, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ডিএক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডিএক্স নিউ এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চীনা ব্র্যান্ডটির ই-স্কুটার বাংলাদেশে বাজারজাত করার ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় MOK ও MYC—এই দুটি মডেলের কথা জানানো হয়।

তখন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, MOK মডেলে ৭২ ভোল্টের ব্যাটারি ও ৮০০ ওয়াটের মোটর ছিল। MYC মডেলেও একই ক্ষমতার মোটর ও ৭২ ভোল্টের ব্যাটারির কথা জানানো হয়েছিল। উভয় মডেলের জন্য এক চার্জে ৮০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার চলার দাবি করা হয়েছিল। এগুলো ২০২৫ সালের উদ্বোধনী তথ্য; বর্তমান মূল্য বা স্পেসিফিকেশন হিসেবে ব্যবহার করার আগে হালনাগাদ যাচাই প্রয়োজন।

বাইকবিডির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসিআই মটরসের মাধ্যমে লুয়ুয়ান বাজারে আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসিআই মটরসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাই নতুন পরিবেশক নিয়োগ, নতুন মডেল আনা কিংবা আগের বাজার-কার্যক্রমের পরিবর্তন—কোনটি ঘটতে যাচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

৩. মডার্ন: র‍্যানকনের নতুন উদ্যোগ

তিনটি নামের মধ্যে মডার্ন নিয়ে র‍্যানকনের পরিকল্পনার কথা তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। বাইকবিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‍্যানকন তাদের সাব-ব্র্যান্ড মডার্ন বাংলাদেশে চালু করতে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে মডার্নকে চীনের ইয়াদিয়া (Yadea) ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মডার্নের পণ্য, প্রযুক্তিগত কাঠামো, মডেল কিংবা ইয়াদিয়ার সঙ্গে এর ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

র‍্যানকনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্র্যান্ডটি চালুর কথা জানানো হলেও নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বাজারে আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত সময়সূচি নয়।

এখানে ইয়াদিয়ার বর্তমান বাংলাদেশি কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের মে মাসে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি বাংলাদেশে ইয়াদিয়ার ইলেকট্রিক স্কুটার আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির মডেল ও বিক্রয় কার্যক্রম বাংলাদেশে রয়েছে। ফলে মডার্ন বাজারে এলে সেটি ইয়াদিয়ার বিদ্যমান কার্যক্রমের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত হবে, তা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই পরিষ্কার হবে।

বাংলাদেশের ইভি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক দুই চাকার যানবাহনের বাজারে ইতোমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ব্র্যান্ড রয়েছে। ইয়াদিয়া, লুয়ুয়ান ও জিহোর মতো বিদেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোগেও ইলেকট্রিক যান নিয়ে কাজ চলছে।

এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (BAIL) তিনটি দেশীয় ইভি ব্র্যান্ড উন্মোচন করে। এগুলো হলো চার চাকার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য MEV, মোটরসাইকেলের জন্য Glyder এবং তিন চাকার যানবাহনের জন্য Otomax। প্রতিষ্ঠানটি তখন একাধিক প্রোটোটাইপও প্রদর্শন করেছিল।

অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও নতুন ব্র্যান্ড যুক্ত হচ্ছে। ফলে দুই চাকার স্কুটার থেকে শুরু করে চার চাকার গাড়ি—বিভিন্ন ধরনের ইভি নিয়ে ব্যবসায়িক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ক্রেতাদের জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?

নতুন ব্র্যান্ড বাজারে এলেই সেটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। বিশেষ করে ইলেকট্রিক স্কুটার বা বাইক কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।

ব্যাটারির ধরন ও ওয়ারেন্টি: ব্যাটারির প্রযুক্তি, ধারণক্ষমতা, চার্জিং সময় এবং ওয়ারেন্টির শর্ত জেনে নিতে হবে।

এক চার্জে চলার দূরত্ব: নির্মাতার উল্লেখ করা রেঞ্জ বাস্তব ব্যবহারে কমবেশি হতে পারে। তাই পরীক্ষামূলক চালনা ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া ভালো।

সার্ভিস ও যন্ত্রাংশ: দেশের কোন কোন এলাকায় অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার রয়েছে এবং যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যাবে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

দাম ও বিক্রয়োত্তর সেবা: শুধু কেনার দাম নয়, ব্যাটারি পরিবর্তন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিস খরচও বিবেচনা করতে হবে।

অফেরো, লুয়ুয়ান ও মডার্ন—এই তিনটি নাম বাংলাদেশের ইভি বাজারে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তিনটির বাংলাদেশে আসার অবস্থা এক নয়। অফেরোর ক্ষেত্রে র‍্যাংগসের সম্ভাব্য উদ্যোগের তথ্য এখনো সূত্রনির্ভর, এসিআই মটরসের সঙ্গে লুয়ুয়ানের সম্পর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, আর লুয়ুয়ান আগে থেকেই ডিএক্স গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশে বাজারজাত হয়েছে। মডার্ন নিয়ে র‍্যানকনের পরিকল্পনার কথা প্রকাশিত হলেও উদ্বোধনের তারিখ ও পণ্যের বিস্তারিত এখনো অজানা।

তাই নতুন ব্র্যান্ডগুলোর নাম জানার পাশাপাশি তাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, মডেল, দাম, ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে। এসব বিষয় পরিষ্কার হলেই বোঝা যাবে বাংলাদেশের ইভি বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা কতটা বাড়তে যাচ্ছে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. বাংলাদেশে আসতে পারে এমন তিনটি ইভি ব্র্যান্ডের নাম কী?

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অফেরো (Offero), লুয়ুয়ান (Luyuan) ও মডার্ন (Modern)-এর নাম এসেছে। তবে তিনটির বাংলাদেশে বাজারজাতের অবস্থা এক নয়।

২. অফেরো কোন দেশের ব্র্যান্ড?

অফেরো ইন্দোনেশিয়ার একটি ইলেকট্রিক মোবিলিটি ব্র্যান্ড। তাদের পণ্যতালিকায় ইলেকট্রিক বাইক, মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যান রয়েছে।

৩. লুয়ুয়ান কি বাংলাদেশে আগে থেকেই পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিএক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে লুয়ুয়ানের MOK ও MYC মডেল বাজারজাতের ঘোষণা দিয়েছিল। তাই ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশের বাজারে একেবারে নতুন নয়।

৪. মডার্ন ইভি বাংলাদেশে কবে আসবে?

র‍্যানকনের মাধ্যমে মডার্ন বাজারে আসার পরিকল্পনার কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

৫. নতুন ইভি ব্র্যান্ডগুলোর দাম কত হবে?

অফেরো, এসিআই মটরসের মাধ্যমে সম্ভাব্য লুয়ুয়ান এবং মডার্নের বাংলাদেশি বাজারদর সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও মডেল ঘোষণার পর দাম জানা যাবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

৩ জেলায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, কারণ কী?

৩ জেলায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, কারণ কী?

ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে... বিস্তারিত