ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে যেসব কোম্পানির শেয়ার

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১২:৩৭:৫২
বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে যেসব কোম্পানির শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনিয়োগকারী হুজুগ, গুজব কিংবা অপরের পরামর্শের ভিত্তিতে শেয়ার কেনাবেচা করছেন। স্বল্পমেয়াদী মুনাফার প্রত্যাশায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তগুলো বেশিরভাগ সময়েই লোকসানে গিয়ে ঠেকে। সাম্প্রতিক সময়ে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ খাত হিসেবে মৌলভিত্তিক বা ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিগুলোতে ঝুঁকছেন।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক মুনাফা তুলনামূলক কম হলেও ঝুঁকি সীমিত থাকে। নিয়মিত ডিভিডেন্ড ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মৌলভিত্তিক কোম্পানির প্রতি বাড়তি আগ্রহ

গত কয়েক মাসে ব্যাংক, বিমা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস, রসায়ন এবং বস্ত্র খাতের শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ম্যারিকো বাংলাদেশ ও বার্জার পেইন্টস—এসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সুদের হার হ্রাস ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসায় নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদানকারী এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারদর সাধারণত স্থিতিশীল থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ কৌশল হিসেবে কার্যকর।

জেড ক্যাটাগরিতে আস্থাহীনতা

অন্যদিকে, ‘জেড ক্যাটাগরি’র শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমছে। এসব কোম্পানির বড় অংশ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল পারফরম্যান্স করছে, ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জেড গ্রুপের শেয়ারে ক্রেতাশূন্যতা ও দরপতন এ প্রবণতাকে আরও পরিষ্কার করেছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা ১০টি কোম্পানিই ছিল জেড ক্যাটাগরির। বিনিয়োগকারীদের মতে, এই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করলে মূলধন হারানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান সময়মতো ডিভিডেন্ড বিতরণ না করায় সাময়িকভাবে জেড ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই গ্রুপে পড়লে ঋণ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায় এবং নিষ্পত্তির সময় বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়, যা বাজারের তারল্য সংকটে রূপ নেয়।

তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান বাজারে তালিকাভুক্ত হলেও বেশিরভাগ প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান মুনাফা হারিয়ে জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। এর ফলে প্রকৃত রিটার্ন কমেছে এবং বাজারের মূলধন প্রায় ৪০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা শেয়ারবাজারকে দুর্বল করেছে। মানহীন আইপিওর মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হলেও তা থেকে প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি। বরং বাজারে তারল্য সংকট স্থায়ী আকার নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মধ্যস্থতাকারী এবং নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুশাসনের অভাব বাজারকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—স্বল্পমেয়াদী জল্পনা বা অনিশ্চিত শেয়ারের দিকে ঝুঁকে মূলধন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে মৌলভিত্তিক কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

মো: রাজিব আলী/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

সুখবর: শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে সরকারের বড় উদ্যোগ

সুখবর: শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে সরকারের বড় উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের আস্থার ঘাটতি কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের মালিকানাধীন ১০টি বহুজাতিক কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া... বিস্তারিত