MD Zamirul Islam
Senior Reporter
শেয়ারবাজারে সুদিন! বিনিয়োগ ঝুঁকি কমলো, বাড়বে মুনাফা?
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (২১-২৫ সেপ্টেম্বর) সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) আরও কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে পিই রেশিও কমার এই প্রবণতা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং বাজারকে একটি চাঙ্গাভাবের দিকে ধাবিত করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ১০.৫০ পয়েন্ট থেকে কমে ১০.৪৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, সপ্তাহজুড়ে এটি ০.৬৭ পয়েন্ট বা ০.৬৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সামান্য পতন বিনিয়োগ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার ইঙ্গিত দেয় এবং বাজারের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে।
পিই রেশিও কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
পিই রেশিও (Price-to-Earnings Ratio) সাধারণত একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম এবং তার প্রতি শেয়ার আয়ের (EPS - Earnings Per Share) অনুপাত বোঝায়। সহজভাবে বলতে গেলে, একটি কোম্পানি তার এক টাকা আয় করার জন্য বিনিয়োগকারীরা কত টাকা দিতে প্রস্তুত, তার একটি পরিমাপ হলো পিই রেশিও।
কোনো শেয়ারের দাম যদি তার আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তাহলে পিই রেশিও বৃদ্ধি পায়, যা বিনিয়োগ ঝুঁকির সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ওই শেয়ারের জন্য তার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করছেন বলে ধারণা করা হয়।
বিপরীতে, পিই রেশিও কমলে বোঝা যায় যে বাজার তুলনামূলকভাবে বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল হচ্ছে এবং শেয়ারের দাম কোম্পানির আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে। এটি সাধারণত বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে তারা তুলনামূলকভাবে ন্যায্য মূল্যে শেয়ার কিনতে পারেন।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সুসংবাদ
আর্থিক খাতের অভিজ্ঞজনদের মতে, বর্তমান সময়ে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এবং আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শেয়ার বেছে নিতে পারবেন। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাজারে আস্থা ফিরে পাবেন, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদায়ী সপ্তাহের এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীরা এখন আগের মতো অযৌক্তিক চাহিদায় ঝুঁকে পড়ছেন না। বরং তারা এখন কোম্পানির মৌলিক বিষয়াদি এবং আয়ের হিসাব-নিকাশ করে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে বাজারে ধীরে ধীরে একটি দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ধারা তৈরি হতে পারে, যা টেকসই বাজার প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের উচিত শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারের দিকে মনোযোগী হওয়া। কারণ পিই রেশিও কমার সঙ্গে সঙ্গে টেকসই ও স্থিতিশীল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কম থাকে এবং প্রত্যাশিত মুনাফার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এটি দীর্ঘমেয়াদে পোর্টফোলিওকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ভালো রিটার্ন অর্জন করতে সাহায্য করবে।
সামগ্রিকভাবে, পিই রেশিও কমে আসা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে এবং বাজারকে একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের সোনার দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- Pulsar F250-এ ২০ হাজার টাকা ছাড়, N160 ও 150-এ উপহার
- Yamaha FZS V5 Hybrid-এর দাম কত? ফিচার ও মাইলেজ জানুন
- Royal Enfield Himalayan 750-এর দাম ও লঞ্চ নিয়ে যা জানা গেল