Alamin Islam
Senior Reporter
শেয়ারবাজারে অবিশ্বাস্য উল্লম্ফন: রেকর্ড গড়েছে ৬ কোম্পানির শেয়ার
দেশের শেয়ারবাজারে গত এক বছরের মধ্যে ছয়টি কোম্পানির শেয়ার দর অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আরগন ডেনিম, ফাইন ফুড, জিকিউ বলপেন, মিরাকল ইন্ডাষ্ট্রিজ, নাভানা সিএনজি এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্টিজ – এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেন গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তাদের এক বছরের সর্বোচ্চ দর স্পর্শ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও স্টকনাও থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য এমনটাই জানাচ্ছে।
জিকিউ বলপেনের ৩২৬% বৃদ্ধি: লোকসান সত্ত্বেও আকাশছোঁয়া দর!
আলোচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে জিকিউ বলপেনের শেয়ার দর বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বিস্ময়কর। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৩২৬.২১ শতাংশ। মাত্র এক বছর আগে ১১২ টাকার সর্বনিম্ন দরে লেনদেন হওয়া এই শেয়ারটি বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৫৮৫ টাকায় উঠে আসে। যদিও দিনের শেষে এটি ৫৭২ টাকা ৪০ পয়সায় স্থির হয়। তবে অবাক করার বিষয় হলো, গত তিন বছর ধরে লোকসানে থাকা এই কোম্পানির শেয়ারের এমন বৃদ্ধি বাজার বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।
ফাইন ফুডের ১১৫% উল্লম্ফন: উদ্যোক্তা শেয়ারের হ্রাস চিন্তার কারণ?
জিকিউ বলপেনের মতোই, ফাইন ফুডের শেয়ারও এক বছরে ১১৫.৭৩ শতাংশ দাম বৃদ্ধি দেখেছে। কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ১৫০ টাকা ৬০ পয়সা, যা বৃহস্পতিবার ৩২৪ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছায়। ক্লোজিং দর ছিল ৩১৪ টাকা ৯০ পয়সা। এই চমকপ্রদ বৃদ্ধির পাশপাশি, কোম্পানিটির উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ক্রমাগত কমছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসেও ০.৭৮ শতাংশ কমে তা ১৪.৪৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।
দুলামিয়া কটনও দৌড়ে এগিয়ে: ১১৯% বৃদ্ধি এক বছরে
বৃহস্পতিবার দুলামিয়া কটনের শেয়ারও সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৪৪ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে এসে শেয়ারটি ১১৯.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
অন্যান্যদের পারফরম্যান্স: আরগন ডেনিম থেকে সিমটেক্স
একই সময়ে, অন্যান্য কোম্পানিগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। আরগন ডেনিমের শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৪৮.৬৩ শতাংশ, নাভানা সিএনজির ৪২.৭৭ শতাংশ, মিরাকল ইন্ডাষ্ট্রিজের ১৩৩.৯৫ শতাংশ এবং সিমটেক্সের ৫৬.২৫ শতাংশ।
এই ছয় কোম্পানির শেয়ারের দ্রুত উত্থান বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তেমনি অন্যদিকে কিছু লোকসানি কোম্পানি ও উদ্যোক্তা শেয়ার হ্রাসের মতো বিষয়গুলো বাজার বিশ্লেষকদের কাছে গভীর পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয়, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
আব্দুর রহিম/