সরকারি বেতন নিয়ে বড় সুখবর, নবম পে স্কেলে আসছে চূড়ান্ত মোড়
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ নতুন বেতন কাঠামোতে গ্রেড সংস্কারকে কেন্দ্র করে জাতীয় বেতন কমিশনের ভেতরে এখন তীব্র আলোচনা চলছে।
গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভাটি রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির কারণে স্থগিত হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সভার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ওই বৈঠকেই গ্রেড কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিন ধরনের প্রস্তাবে বিভক্ত কমিশন
নবম পে স্কেলের সুপারিশ প্রস্তুতের অংশ হিসেবে বর্তমান ২০টি গ্রেড কাঠামো নিয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে তিনটি ভিন্নধর্মী প্রস্তাব সামনে এসেছে।
প্রথম প্রস্তাব : ২০ গ্রেড বহালএই প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে শুধু বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব : গ্রেড কমিয়ে ১৬আরেকটি শক্তিশালী প্রস্তাবে বর্তমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৬টিতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কিছুটা কমবে বলে ধারণা কমিশনের একাংশের।
তৃতীয় ও সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব : ১৪ গ্রেডে আমূল সংস্কারসবচেয়ে আলোচিত ও যুগান্তকারী প্রস্তাবটি হলো গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১৪টিতে নামিয়ে আনা। কমিশনের একাধিক সদস্য মনে করছেন, এই মডেল বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য বড় পরিসরে দূর হবে এবং সরকারি চাকরির বেতন কাঠামো আরও আধুনিক ও ন্যায্য হবে।
কেন গ্রেড কমানোর ভাবনা
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিচের ধাপের কর্মচারীরা উচ্চপদস্থদের তুলনায় আর্থিকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়ছেন। এতে কর্মক্ষেত্রে অসন্তোষ ও বৈষম্য বাড়ছে।
এই কারণেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, কর্মচারী সংগঠন ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে পাওয়া হাজার হাজার মতামত এখন কমিশন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। লক্ষ্য একটাই—একটি বাস্তবসম্মত, টেকসই ও বৈষম্যহীন পে স্কেল প্রণয়ন।
কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। যদিও কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি ছিল, তবে কমিশন তাড়াহুড়ো না করে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর কাঠামো তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে, স্থগিত হওয়া পরবর্তী বৈঠকেই গ্রেড সংখ্যা ও বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ নির্ধারিত হতে পারে।
বাস্তবায়ন নির্ভর করবে যেসব বিষয়ের ওপর
নবম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে—
বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ
উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পর্যালোচনা
সংশোধিত বাজেট অনুমোদন
রাজনৈতিক সময়সূচি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর
সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সামনে বড় কোনো ঘোষণা আসতে যাচ্ছে—এমন প্রত্যাশাই এখন সর্বত্র।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া: জানা গেল বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছে কে
- আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর এক কথায় জবাব দিলেন মুস্তাফিজ
- না খেলেই মুস্তাফিজ কী ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি পাবে, যা বলছে আইপিএলের নিয়ম
- এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ, জানুন মূল্য তালিকা
- মুস্তাফিজ আইপিএল খেলতেপারবেকিনা জানিয়ে দিল বিসিসিআই
- তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির বিশেষ চিঠি, জানা গেল কী লিখা আছে তাতে
- সরকারি বেতন নিয়ে বড় সুখবর, নবম পে স্কেলে আসছে চূড়ান্ত মোড়
- ১৬ খাতের শেয়ারে বড় মুনাফা করল যারা
- আজকের সোনার দাম: (শুক্রবার,৩জানুয়ারি ২০২৬)
- আইপিএল খেলা হচ্ছে না মুস্তাফিজের! বিসিসিআই-এর কড়া নির্দেশে বিপাকে কলকাতা
- দলিল থাকলেও জমি বাতিল! জেনে নিন ঝুঁকিতে থাকা ৫ ধরনের সম্পত্তির কথা
- আজকের সোনার দাম: (রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬)
- সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি এনটিআরসিএ: ৬৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগে তোড়জোড়
- কিছুক্ষণ পর ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্স ম্যাচ: খেলা সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- মোদি কাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চায়?