Alamin Islam
Senior Reporter
সালাহর মাইলফলক ছোঁয়া গোলে ইতিহাস, শেষ আটে মিশর
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) মঞ্চে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মিশর। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বেনিনকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা। জয়ের ব্যবধান বড় মনে হলেও, মাঠের লড়াইয়ে 'চিতা' খ্যাত বেনিন মিশরকে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছে।
সালাহর অনন্য ডাবল সেঞ্চুরি
এই ম্যাচটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে মোহাম্মদ সালাহর জন্য। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে (১২৩ মিনিটে) গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন। আফকনে এটি সালাহর ১০ম গোল। এর মাধ্যমে তিনি মিশরের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এই আসরে গোলের ডাবল ফিগার পূর্ণ করলেন। তালিকায় তার সামনে এখন কেবল হাসান এল শাজলি (১২ গোল) এবং হোসাম হাসান (১১ গোল)।
মাঠের রোমাঞ্চ ও ডেডলক ভাঙার গল্প
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমজমাট ছিল আগাদির স্টেডিয়াম। প্রথমার্ধে ওমর মারমৌশ ও সালাহ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করলে মিশর কিছুটা চাপে পড়ে। তবে ৬৮ মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার পা থেকে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ডিবক্সের অনেকটা দূর থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শটটি বেনিনের জাল কাঁপিয়ে মিশরকে ১-০ তে এগিয়ে দেয়।
বেনিনের প্রত্যাবর্তন ও নাটকীয়তা
পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বেনিন। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ৬ মিনিট আগে (৮৪ মিনিট) নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে তারা। মিশরের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে খুব কাছ থেকে গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়িকে পরাস্ত করেন জোডেল ডসু। ফলে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে মিশরের আধিপত্য
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে অর্থাৎ ৯৭ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের এক অসাধারণ হেডারে আবারো ম্যাচে লিড নেয় মিশর। মারওয়ান আতিয়ার মাপা পাসে দুর্দান্ত ভারসাম্য বজায় রেখে গোলটি করেন তিনি। এরপর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে সালাহ নিজের রেকর্ড গড়া গোলটি করলে ৩-১ ব্যবধানে বড় জয় নিশ্চিত হয় মিশরের।
ইনজুরি ও মাঠের পরিসংখ্যান
ম্যাচটি ছিল শারীরিক লড়াইয়ে ভরপুর। প্রথমার্ধে বেনিনের প্রভাবশালী ফরোয়ার্ড তোসিন আইয়েগুন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় গের্নট রোয়ারের শিষ্যরা। মিশরও বিরতির ঠিক আগে মোহাম্মদ হামদিকে হারায়। তবে বদলি হিসেবে নামা জিজো ও ইমাম আশুর মিশরের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন।
কোয়ার্টার ফাইনালের পথ ও ইতিহাস
গত পাঁচ আসরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিল ফারাওরা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সালের পর থেকে আফকনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে কখনো বাদ পড়েনি মিশর। আগামী ১০ জানুয়ারি তারা সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট এবং বুরকিনা ফাসোর মধ্যকার জয়ী দল।
চার বছর আগে রানার্স-আপ হয়ে আক্ষেপে পোড়া মিশর এবার সালাহর নেতৃত্বে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আল-মামুন
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে স্বস্তি, কোন খাতে কত রিটার্ন মিলল?
- নতুন পে স্কেলে বকেয়া পাবেন যেভাবে, কার্যকর ১ জুলাই
- শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শেখাতে বিএসইসির বড় পরিকল্পনা
- নতুন পে স্কেলে আপনার বেতন কত, জানুন হিসাবের নিয়ম
- শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগের সময়? সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব
- শেয়ার কিনবেন? আগে এই ৭ ভুল থেকে দূরে থাকুন
- ২০২৬ সালের সেরা ৫ বাইক, দাম ও মাইলেজ জানুন
- আর্জেন্টিনার পরবর্তী ৩ ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে? জানুন সময়সূচি
- আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কোথায় ও কার বিপক্ষে
- বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- একাদশ শ্রেণির মাইগ্রেশন ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে
- পে স্কেল: নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি, কে কত পাবেন
- ২০২৬ সালে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ স্মার্টফোন
- পে স্কেল: দুই সন্তান হলে মাসে ৬ হাজার টাকা, কারা পাবেন এই ভাতা
- বার্সেলোনার ম্যাচসহ টিভিতে আজকের সকল খেলার সময়সূচি