ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

তারেক রহমানের তলব: নির্বাচন থেকে কি সরছেন বিএনপির বিদ্রোহীরা?

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১০:৪০:৫৫
তারেক রহমানের তলব: নির্বাচন থেকে কি সরছেন বিএনপির বিদ্রোহীরা?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের রাশ টানতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিদ্রোহীদের পর্যায়ক্রমে তলব করে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নির্দেশনা। হাইকমান্ডের এমন তৎপরতায় অনেক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইতিমধ্যেই নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

শৃঙ্খলায় অনড় শীর্ষ নেতৃত্ব

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা ভোটের মাঠে নেমেছেন, তাদের বোঝানোর পাশাপাশি কঠোর বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন। এরপরও যারা অনড় থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিশাল এই দলে যোগ্য প্রার্থীর আধিক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত সবাই দলীয় আনুগত্যের প্রমাণ দেবেন।

মান-অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা ও পুরস্কার

দলীয় সূত্রমতে, অনেক জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাদের ক্ষোভ প্রশমনে বিএনপি কেবল শাস্তির ভয় দেখাচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভোলা-৪ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক এমপি নাজিমউদ্দিন আলমকে ইতিমধ্যে দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে পদোন্নতি দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার প্রভাবশালী নেতা সাইফুল আলম নিরব ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করে কঠোর বার্তা দিয়েছে হাইকমান্ড।

হাইকমান্ডের ডাকে সাড়া দিয়ে সরছেন যারা

তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মিছিলে যোগ দিচ্ছেন অনেক হেভিওয়েট নেতা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: সাবেক এমপি ও বহিষ্কৃত নেতা সৈয়দ একে একরামুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে ধানের শীষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

ঝিনাইদহ-৪: সাবেক এমপি শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুর্শিদা খাতুন (পপি) তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মাদারীপুর-৩: যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান পলাশ দলীয় আনুগত্য প্রদর্শন করে নির্বাচনের মাঠ ছেড়েছেন।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে মিত্র দলের প্রার্থী জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ খালেকের সঙ্গেও আলোচনা করছে দল। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরকেও গুলশানে ডেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাছাইয়ে বাদ পড়লেন ৩০ জন

বিএনপির দলীয় পদধারী প্রায় ৬০টি আসনে শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে তথ্যগত ত্রুটির কারণে অন্তত ৩০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মীর সরাফত আলী সপু ও যশোর-১ আসনের মফিকুল হাসান তৃপ্তির মতো প্রভাবশালী নেতারা রয়েছেন।

জোটের বাধ্যবাধকতা ও নেতাদের বক্তব্য

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জোটগত রাজনীতি ও আসন ভাগাভাগির কারণে অনেক যোগ্য নেতাকে এবার মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে এই সমস্যাগুলো দ্রুতই সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনী ক্যালেন্ডার

তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করবে। এরপর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, চূড়ান্ত সময়সীমা পার হওয়ার আগেই অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র তুলে নেবেন এবং দলীয় সংহতি বজায় থাকবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ