MD. Razib Ali
Senior Reporter
জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে ভারতের ট্রাম্পকার্ড; আমেরিকা থেকে এল বিশেষ কেমিক্যাল
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে টিম ইন্ডিয়ার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চেন্নাইয়ের আবহওয়া। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত শিশিরের প্রভাবে আউটফিল্ড ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে আয়োজকদের। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার সম্পূর্ণ নতুন এক কৌশল বেছে নিয়েছে ভারত। মাঠ শুকনো রাখতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে বিশেষ রাসায়নিক ‘ডিউ কিওর’।
আমেরিকান প্রযুক্তিতে মাঠের সুরক্ষা
এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের ঘাস যাতে পিচ্ছিল না হয়, সেজন্য বিশেষ এই কেমিক্যাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিএনসিএ)। জানা গেছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে মাঠ সংস্কারের সময়ই এই আধুনিক প্রযুক্তিটি আমদানি করা হয়েছিল। মূলত আমেরিকার জনপ্রিয় বেসবল টুর্নামেন্ট ‘মেজর লিগ বেসবল’-এ আউটফিল্ড খেলার উপযোগী রাখতে এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
যেভাবে কাজ করবে এই ‘ডিউ কিওর’
গত মঙ্গলবার থেকেই এই রাসায়নিক প্রয়োগের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার এবং আজ বৃহস্পতিবার দুপুরেও বিরতিহীনভাবে আউটফিল্ডে পানির সঙ্গে মিশিয়ে এটি স্প্রে করা হচ্ছে। এই রাসায়নিকের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—এটি ঘাসের উপরিভাগে কোনো আর্দ্রতা জমতে দেয় না। শিশির পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত শোষিত হয়ে যায়, ফলে ঘাস থাকে একদম শুকনো। এতে বোলারদের বল গ্রিপ করতে কিংবা ফিল্ডারদের দৌড়াতে কোনো বেগ পেতে হয় না।
অনুশীলনে সন্তুষ্ট রোহিত বাহিনী
জিম্বাবুয়ে ম্যাচের গুরুত্ব মাথায় রেখে বুধবার নিবিড় অনুশীলন সেরেছে ভারতীয় দল। অনুশীলনের পর উইকেট এবং মাঠের কন্ডিশন সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন ক্রিকেটাররা। ‘ডিউ কিওর’ ব্যবহারের ফলে মাঠের যে উন্নতি হয়েছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। মাঠ শুকনো থাকায় শিশির আর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী ফ্যাক্টর হতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইপিএলেও কি আসছে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন?
চেন্নাইয়ের এই পরীক্ষায় সফল হলে কেবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনাল নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটে এটি নিয়মিত দেখা যেতে পারে। বিসিসিআই সূত্রে খবর, আগামী মাসের আইপিএল আসরে ভারতের প্রতিটি ভেন্যুতে এই ‘ডিউ কিওর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা চলছে। অতীতে বহুবার শিশিরের কারণে টস জয়ী দল বাড়তি সুবিধা পেয়েছে, যা খেলার সমতা নষ্ট করেছে। সেই বৈষম্য দূর করতেই এমন আধুনিক পথে হাঁটছে বোর্ড।
তানভির ইসলাম/