MD Zamirul Islam
Senior Reporter
বিসিবির আয়ের উৎস কী? আইসিসি থেকে কত টাকা পায় বোর্ড? জানুন হিসাব
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়ের উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক কৌতূহল রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইনবক্সে প্রায়ই প্রশ্ন আসে—বিসিবির আয়ের মূল উৎস কী? আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কি বিসিবির মোট আয়ের ৯০ বা ৯৫ শতাংশ? এই প্রতিবেদনে বিসিবির অর্থনৈতিক চিত্র এবং আইসিসির আয়ের আসল স্বরূপ তুলে ধরা হলো।
আইসিসির অর্থ কি অনুদান নাকি অর্জন?
অনেকের ধারণা, আইসিসি থেকে বিসিবি যে অর্থ পায় তা এক ধরনের 'অনুদান'। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো অনুদান বা দান নয়। এটি বিসিবির উপার্জিত অর্থ। বিসিবি আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ার কারণে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবদানের ভিত্তিতে এই লভ্যাংশ পেয়ে থাকে। একে আইসিসির 'মেম্বার ডিস্ট্রিবিউশন' বলা হয়।
বিসিবির আয়ের পরিসংখ্যান (২০২২-২৩ অর্থবছর)
২০২২-২৩ অর্থবছরের আর্থিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত আয় বিসিবির মোট আয়ের ৯০ শতাংশের ধারেকাছেও নেই। সেই বছর বিসিবির আয়ের চিত্র ছিল নিম্নরূপ:
মোট আয়: প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা।
আইসিসি থেকে প্রাপ্ত আয়: ১৬৫ কোটি টাকা (মোট আয়ের প্রায় ৩২.৫%)।
টিভি ব্রডকাস্টিং রাইটস: ১২৪ কোটি টাকা।
টুর্নামেন্ট ইনকাম (বিপিএল ও হোম সিরিজ): ৫৮ কোটি টাকা।
এফডিআর ও আর্থিক আয়: ৪০ কোটি টাকা।
স্পন্সরশিপ রাইটস: ৩৭ কোটি টাকা।
এশিয়া কাপ পার্টিসিপেশন ফি: ৩৭ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, আইসিসি থেকে আসা অর্থ বিসিবির মোট আয়ের এক-তৃতীয়াংশের মতো, যা অনেকেই ভুলভাবে বিশাল বড় অংশ বলে মনে করেন।
২০২৪-২৭ আইসিসি ফিন্যান্সিয়াল মডেল
আইসিসির নতুন ফিন্যান্সিয়াল মডেল (২০২৪-২৭) অনুযায়ী, বিসিবির আয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এই মডেলে আইসিসির মোট আয়ের ৪.৪৬ শতাংশ লভ্যাংশ পাবে বাংলাদেশ, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ২৯০ কোটি টাকার মতো। তবে নতুন এই হিসেবেও আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিসিবির মোট আয়ের ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, টিভি স্বত্ব, বিপিএল এবং স্পন্সরশিপ থেকেও বিসিবির বিপুল আয় রয়েছে।
কেন আইসিসি বিসিবিকে এই অর্থ দেয়?
আইসিসি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে অর্থ প্রদান করে:
১. পূর্ণ সদস্যপদ: আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ।
২. আইসিসি ইভেন্টে পারফরম্যান্স: যেমন ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ফলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা আয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।
৩. কমার্শিয়াল ভ্যালু: বাংলাদেশের দর্শকদের ক্রিকেট উন্মাদনা এবং টিভি ভিউয়ারশিপের কারণে আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে বাণিজ্যিক মূল্য তৈরি হয়।
৪. গ্লোবাল ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট: ক্রিকেটের বিশ্বায়নে সংশ্লিষ্ট দেশের অবদান।
বিসিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বিসিবির অর্থ ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের উচিত ছিল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা। সম্প্রতি আইসিসির সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে বিসিবির যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেখানে বিতর্ক উসকে না দিয়ে দাপ্তরিক ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবাদ জানানোই শ্রেয়। তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে প্রতিবাদ করলে তা আন্তর্জাতিক মহলে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
বিসিবি বর্তমানে একটি শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে। আইসিসি থেকে প্রাপ্ত আয় বিসিবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বোর্ড নিজস্ব স্বত্ব ও স্পন্সরশিপ থেকেও বিশাল অংকের টাকা আয় করছে। দেশের ক্রিকেটের প্রয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে তথ্যভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করাই হবে বিসিবির জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- আপনার মাথায় কত টাকার সরকারি ঋণ? সংসদে মিলল সুনির্দিষ্ট হিসাব
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- তাপমাত্রা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অফিস
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান
- সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ