MD. Razib Ali
Senior Reporter
প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া কি ঠিক? জেনে নিন ৫টি আসল সত্য
হজমের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় বাঙালির ঘরোয়া দাওয়াই হিসেবে ইসবগুলের নাম সবার ওপরে। কোষ্ঠকাঠিন্যের অবসান ঘটাতে কিংবা অন্ত্রকে সতেজ রাখতে এই ফাইবার সমৃদ্ধ উপাদানটি যুগ যুগ ধরে আমাদের ভরসা জুগিয়ে আসছে। তবে এর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার সুযোগে কিছু অমূলক ধারণা বা গুজবও সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও তথ্যের বিচারে সেই প্রচলিত ধারণাগুলো আসলে কতটা সঠিক? চলুন ইসবগুল নিয়ে ৫টি বড় বিভ্রান্তির অবসান ঘটানো যাক।
১. প্রক্রিয়াজাত পণ্য নয়, এটি প্রকৃতির দান
অনেকেই মনে করেন ইসবগুল বা সাইলিয়াম হাস্ক হয়তো কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তৈরি কৃত্রিম কোনো কিছু। অথচ বাস্তবতা হলো, এটি 'প্ল্যান্টাগো ওভাটা' নামক উদ্ভিদের বীজের পাতলা একটি আবরণ মাত্র। এতে কৃত্রিম কোনো উপাদানের সংমিশ্রণ নেই। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং দ্রবণীয় আঁশে (Soluble Fiber) ভরপুর, যা শরীরের ভেতরে অত্যন্ত মৃদু ও নিরাপদভাবে কাজ করে।
২. এটি কি আসলেও অভ্যাসে পরিণত হয়?
সবচেয়ে বড় ভীতিটি কাজ করে এর নির্ভরতা নিয়ে। অনেকে ভাবেন নিয়মিত ইসবগুল খেলে শরীর এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এটি একটি ভিত্তিহীন ধারণা। ইসবগুল কোনো স্টিমুল্যান্ট বা উদ্দীপক নয় যে এটি অন্ত্রকে জোরপূর্বক সক্রিয় করবে। এটি মূলত পানি শোষণ করে মলের আয়তন বাড়িয়ে দেয় এবং প্রাকৃতিকভাবে নিষ্কাশনে সাহায্য করে। শরীর এর ওপর অভ্যস্ত হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ নেই, বরং এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকেই সমর্থন দেয়।
৩. গ্যাসের সমস্যার জন্য ইসবগুল কি দায়ী?
হঠাৎ করে খাবারে আঁশের বা ফাইবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের উদ্রেক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটি কেবল ইসবগুলের ক্ষেত্রে নয়, বরং ফলমূল বা ওটসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যখন অন্ত্র অতিরিক্ত ফাইবারের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করে, তখন প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গ্যাস দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, একবারে বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ালে এবং প্রচুর পানি পান করলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
৪. প্রাত্যহিক সেবনে কোনো বাধা নেই
অনেকে মনে করেন নিয়মিত বা প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবারের প্রয়োজন হয়, যা আমরা সাধারণ খাবার থেকে সবসময় পাই না। ইসবগুল এই শূন্যতা পূরণের একটি চমৎকার উপায়। পর্যাপ্ত পানি পানের নিশ্চয়তা থাকলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে ইসবগুল গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর।
৫. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে সঠিক নিয়ম জানুন
সঠিকভাবে খেলে ইসবগুলের ক্ষতিকর দিক নেই বললেই চলে। তবে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রধান সতর্কতা রয়েছে—কখনোই শুকনো অবস্থায় ইসবগুল গিলবেন না। এতে শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি হতে পারে। এটি সবসময় এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে তরল অবস্থায় সেবন করা উচিত। যারা নতুন শুরু করছেন, তারা প্রতিদিন এক চা চামচ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে পারেন। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি কেবল উপকারই বয়ে আনে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এক লাফে বাড়লো তেলের দাম
- বাংলাদেশ বনাম চীন: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: ৮ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
- চলছে বাংলাদেশ বনাম চীন ম্যাচ: ৮০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন সর্বশেষ ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম চীন: চলছে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা, সরাসরি দেখুন Live
- ১৮ মার্চ কি সাধারণ ছুটি? ঈদের ছুটির বড় খবর বৃহস্পতিবার
- দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড: কার কপালে দ্বিতীয় ফাইনাল?
- বাংলাদেশ বনাম চীন: চরম উত্তেজনায় শেষ হলো ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- এক লাফে কমলো স্বর্ণে দাম: জানুন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম
- চলছে বাংলাদেশ বনাম চীন ম্যাচ: ৭০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন সর্বশেষ ফলাফল
- এএফসি নারী এশিয়ান কাপ পয়েন্ট টেবিল: জানুন বাংলাদেশের অবস্থান
- বাড়লো আজকের সৌদি রিয়াল রেট (৩ মার্চ ২০২৬)
- মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা কি অন্য কেউ রাখতে পারবে? জানুন
- স্থগিত বৃত্তি পরীক্ষা এপ্রিলে: বড় সুযোগ বেসরকারি শিক্ষার্থীদের
- দুই লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা