আপনি কি ভূমিকম্প টের পান না? জানুন এর আসল কারণ
দেশের কোথাও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ লিখছেন কম্পনের তীব্রতায় তার জানলা-কপাট কেঁপে উঠেছে, আবার কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন— ‘কই, আমি তো কিছুই টের পেলাম না!’ একই ভবনে বা একই এলাকায় থেকেও কেন অনুভূতির এই আকাশ-পাতাল পার্থক্য?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অলৌকিক কিছু নয়; বরং ব্যক্তির ভৌগোলিক অবস্থান এবং শারীরিক সংবেদনশীলতাই এই পার্থক্যের মূল কারণ।
উচ্চতাভেদে কম্পনের তীব্রতা
ভূমিকম্প বোঝার ক্ষেত্রে একজন মানুষ ভূপৃষ্ঠ থেকে কতটা উঁচুতে আছেন, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেনের মতে, ভবনের উচ্চতা কম্পন অনুভূত হওয়ার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
তিনি জানান, কোনো বহুতল ভবনের ওপরের দিকের বাসিন্দারা নিচের তলার তুলনায় কম্পন অনেক বেশি তীব্রভাবে অনুভব করেন। সহজ কথায়, উচ্চতা যত বাড়বে, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পাওয়ার সম্ভাবনাও ততটাই বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে, যারা নিচতলায় বা মাটির কাছাকাছি থাকেন, তাদের কাছে কম্পন অনেক সময় অজানাই থেকে যায়।
শারীরিক সংবেদনশীলতা ও মোশন সেনসিটিভিটি
ভূমিকম্প টের পাওয়া বা না পাওয়া অনেকটা মানুষের ব্যক্তিগত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপরও নির্ভর করে। ড. শাখাওয়াত হোসেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের ইন্দ্রিয় বা সংবেদনশীলতা এক নয়।
তিনি একে ‘মোশন সেনসিটিভিটি’র সাথে তুলনা করেছেন। যেমন— অনেক মানুষ উচ্চতাভীতি বা ‘হাইট সেনসিটিভিটি’র কারণে ছাদ থেকে নিচে তাকাতে পারেন না। একইভাবে, কারো কারো শরীর গতির সামান্য পরিবর্তন বা কম্পন দ্রুত শনাক্ত করতে পারে, যা অন্যদের ক্ষেত্রে নাও হতে পারে। যাদের এই সংবেদনশীলতা কম, তারা ভূমিকম্প হলেও তা বুঝতে পারেন না।
কাজের ধরন ও শারীরিক অবস্থা
ভূমিকম্পের সময় আপনি ঠিক কী করছিলেন, তার ওপরও নির্ভর করে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন হবে।
বিশেষজ্ঞের মতে, যারা ওই মুহূর্তে কোনো কাজে অত্যন্ত সক্রিয় বা চলাচলের মধ্যে ছিলেন, তাদের ভূমিকম্প টের পাওয়ার হার খুবই কম। উদাহরণস্বরূপ— কেউ যদি রান্না করেন, হাঁটাহাঁটি করেন বা দৌড়াদৌড়ির মধ্যে থাকেন, তবে কম্পন তার ইন্দ্রিয়ে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে, যিনি একদম স্থির হয়ে বসে কাজ করছেন বা বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, সামান্যতম দুলুনিও তার কাছে প্রকট হয়ে ধরা দেয়।
পরিশেষে, ভূমিকম্প অনুভব করা বা না করাটা মূলত ব্যক্তির অবস্থান, শারীরিক সক্ষমতা এবং ওই মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল একটি সাধারণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- Earthquake today: আজকের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কোথায় ও মাত্র কত
- আজকের খেলার সময়সূচি:নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড
- জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে ভারতের ট্রাম্পকার্ড; আমেরিকা থেকে এল বিশেষ কেমিক্যাল
- যে সহজ সমীকরণে সেমিফাইনালে যাচ্ছে পাকিস্তান
- নারী এশিয়ান কাপ ২০২৬: বাংলাদেশের গ্রুপ ও ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সূচী
- বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের পরবর্তী ম্যাচ কবে জানুন সময়সূচি
- শোকে স্তব্ধ টিম ইন্ডিয়া
- চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ড্র: রিয়াল-সিটি ও পিএসজি-চেলসি ব্লকবাস্টার লড়াই
- আজ পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারিত হবে ইংল্যান্ড–নিউজিল্যান্ড ম্যাচে
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- আগামী শনিবার দিনভর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে দেশের যেসব এলাকায়
- শেখ হাসিনার বিকল্প নিয়ে নতুন ভাবনা: ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে আ.লীগ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ঈদ বোনাস নিয়ে বড় আপডেট দিল মাউশি
- সেনাবাহিনীর ৬ উচ্চ পদে রদবদল, কে কোন দায়িত্বে দেখুন তালিকা
- জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে ভারতের শেষ ভরসা যুক্তরাষ্ট্র