ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

MD Zamirul Islam

Senior Reporter

বিএনপি না জামায়াত, কে এগিয়ে? ৪ প্রতিষ্ঠানের জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৩:১০:০৩
বিএনপি না জামায়াত, কে এগিয়ে? ৪ প্রতিষ্ঠানের জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র এক মাস। ঠিক এই মুহূর্তে জনমনে থাকা ভোটের হাওয়া বুঝতে এক অভিনব জরিপ পরিচালনা করেছে প্রজেকশন বিডি, আইআইএলডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারেটিভ নামের চারটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আজ সোমবার রাজধানীর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত ‘প্রি-ইলেকশন পালস: ইন-ডেপথ অ্যানালিসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ শীর্ষক এই জরিপে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর সমীকরণ।

বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ১ শতাংশের!

জরিপের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াত-ই-ইসলামীর মধ্যে জনসমর্থনের ব্যবধান নেই বললেই চলে। পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশের ৩৪.৭ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ঠিক এর ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছে জামায়াত-ই-ইসলামী, যাদের ভোট দিতে ইচ্ছুক ৩৩.৬ শতাংশ মানুষ। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ময়দানে এই দুই দলের মধ্যে একটি সমানে-সমান বা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৭.১ শতাংশ ভোটারের পছন্দ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ শতাংশ এবং অন্যান্য দলগুলো ৪.৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।

ভোটাররা কেন কাদের পছন্দ করছেন?

জরিপ প্রতিবেদনে ভোটারদের পছন্দের পেছনে থাকা মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলোও বিশ্লেষণ করা হয়েছে:

বিএনপির প্রতি আস্থা: জরিপে অংশ নেওয়া ৭২.১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই তারা বিএনপিকে বেছে নিতে চান।

জামায়াতের উত্থান: জামায়াতকে ভোট দিতে চাওয়াদের ৪৪.৮৭ শতাংশ জানিয়েছেন, দলটিকে তারা ‘স্বল্প দুর্নীতিগ্রস্ত’ মনে করেন। এছাড়া ৪০.৭ শতাংশ ভোটার দলটির সততা ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রাখছেন।

এনসিপির ফ্যাক্টর: জুলাই বিপ্লবে সাহসী ভূমিকার কথা মাথায় রেখে ৩৬.৭৭ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন।

সিদ্ধান্তহীন ১৭ শতাংশ ভোটার: যারা বদলে দিতে পারেন প্রেক্ষাপট

নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন এমন ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় একটি অংশ (৩০.১৭ শতাংশ) কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৮.৬ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের বিষয়ে মুখ খোলেননি।

যেভাবে পরিচালিত হয়েছে এই বড় জরিপ

গেল বছরের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা এক মাস ধরে এই মাঠ পর্যায়ের জরিপ চালানো হয়। দেশের ৬৪ জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসন থেকে ২২,১৭৪ জন ভোটারের সরাসরি মতামত নেয়া হয়েছে। তথ্যের নির্ভুলতা ও ভারসাম্যের জন্য ‘স্ট্রার্টিফায়েড স্যাম্পলিং ডিজাইন’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যেখানে শহর-গ্রাম ও ভৌগোলিক অবস্থানের বৈচিত্র্য গুরুত্ব পেয়েছে।

শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করতে গিয়ে জানান, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের লড়াই হবে মূলত শেয়ানে-শেয়ানে।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক হোসেন খান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, বিডিজবসের সিইও ফাহিম মাশরুর এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিব্বির আহমেদ ও ওমর নাসিফ আব্দুল্লাহ।

নির্বাচনের ঠিক আগে জনমতের এমন মেরুকরণ বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ