ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

MD Zamirul Islam

Senior Reporter

কারিগরি শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৯:১৪:৫৭
কারিগরি শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এবার বড় আকারে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই তালিকায় ঠাঁই পাচ্ছেন প্রথম দফায় বাদ পড়া ১৪২ জন শিক্ষকও। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই কাঙ্ক্ষিত সেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

অধিদপ্তরের তৎপরতা ও সময়সীমা

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইইউ) প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, এমপিওভুক্তির কাজ চূড়ান্ত করতে আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

পরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বুধবারের বৈঠকে যদি সকল ফাইলের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়, তবে পরদিন বৃহস্পতিবারই আমরা এমপিওভুক্তির নোটিশ প্রকাশ করব। তবে কারিগরি কারণে কিছুটা দেরি হলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে নতুন শিক্ষকরা নিশ্চিতভাবে সুখবর পাবেন।”

বাতিল হওয়া ১৪২ ফাইলের ভাগ্য নির্ধারণ

আগে বাতিল হওয়া ১৪২ জন শিক্ষকের বিষয়ে অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আগেরবার যেসব ফাইল বাতিল হয়েছিল, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। যাদের নথিপত্রে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি নেই, তাদের ফাইল আর আটকে রাখা হবে না। তবে নথিতে সুনির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে সেই ফাইলগুলো এবারও বিবেচনার বাইরে থাকবে।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদন

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের কাজ গুছিয়ে আনলেও চূড়ান্ত নোটিশ জারির আগে কিছু দাপ্তরিক ধাপ বাকি রয়েছে। অধিদপ্তরের প্রস্তুতির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এই আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের কারণেই বৃহস্পতিবারের মধ্যে নোটিশ আসার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা না থাকলেও অধিদপ্তর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নতুন চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ

এমপিওভুক্তিতে বিলম্বের কারণে মাঠপর্যায়ে কিছু নেতিবাচক প্রভাবও লক্ষ্য করা গেছে। ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পেয়েও এমপিও নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক শিক্ষক সম্প্রতি প্রকাশিত সপ্তম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে আবেদন করছেন। এর ফলে নতুন নিবন্ধনধারী মেধাবী প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ হারানো বা বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় শুভ বার্তা

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই গণ-এমপিওভুক্তির মাধ্যমে শত শত শিক্ষকের দীর্ঘদিনের মানসিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের গতিশীলতা আসবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ