Alamin Islam
Senior Reporter
শরীরে কৃমি বাসা বেঁধেছে কি না বুঝবেন এই ৫ লক্ষণে; অবহেলায় বড় বিপদ!
আমাদের অনেকেরই ধারণা, কৃমির সমস্যা শুধু শিশুদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। যেকোনো বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও এই নীরব সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। হুকওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম কিংবা টেপওয়ার্মের মতো পরজীবীগুলো মানবদেহে দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে পিনওয়ার্মের মতো ক্ষুদ্র কৃমি বাতাসের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব।
তাই শরীরের ভেতর কৃমি বংশবিস্তার করছে কি না, তা বুঝতে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
সংক্রমণ ছড়ানোর পথগুলো কী কী?
অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই কৃমি সংক্রমণের প্রধান কারণ। মূলত দূষিত পানি, ঠিকমতো না ধোয়া শাকসবজি কিংবা কাঁচা দুধ পানের মাধ্যমে এই পরজীবীগুলো পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। এছাড়া খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা, পোষা প্রাণীর খুব কাছে থাকা কিংবা অপরিষ্কার পুকুরে গোসল করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার অনীহা এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তোলে।
অবহেলা করলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে
শরীরে প্রবেশের পর কৃমি সাধারণত অন্ত্রে অবস্থান নেয় এবং আমাদের গ্রহণ করা খাবারের পুষ্টি শোষণ করে নেয়। এর ফলে দ্রুত রক্তশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। দীর্ঘকাল ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে যকৃত ও ফুসফুসে জটিল সিস্ট তৈরি হতে পারে। এমনকি কৃমি যদি কোনোভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়, তবে স্নায়বিক বৈকল্য বা নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সতর্ক করবে যে ৫টি লক্ষণ
আপনার শরীরে কৃমির উপস্থিতি আছে কি না, তা বুঝতে নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিন:
১. খাওয়ার রুচিতে আকস্মিক পরিবর্তন: কৃমি শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে হঠাৎ করে ক্ষুধা অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা তৈরি হয়।
২. ব্যাখ্যাতীত ওজন হ্রাস ও অবসাদ: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি শরীরের ওজন দ্রুত কমতে থাকে এবং সারাক্ষণ শরীর ম্যাজম্যাজ বা দুর্বল লাগে, তবে তা কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
৩. মলে অস্বাভাবিক উপস্থিতি: অন্ত্রে কৃমির আধিক্য দেখা দিলে মলত্যাগের সময় সাদা রঙের সরু সুতোর মতো পরজীবী চোখে পড়তে পারে। এটি সংক্রমণের একটি নিশ্চিত সংকেত।
৪. পেটে বারবার অস্বস্তি: দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই পেটে প্রায়ই মোচড় দেওয়া বা ব্যথা হওয়া কৃমির উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
৫. ত্বকের চুলকানি ও অ্যালার্জি: কৃমির নিঃসৃত বিষাক্ত উপাদান অনেক সময় রক্তে মিশে যায়। এর প্রভাবে ত্বকে ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রাতে পায়ুপথের চারপাশে চুলকানি হলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সুরক্ষায় করণীয়
কৃমিমুক্ত থাকতে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পানীয় জল ও খাবারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মাঠ-ঘাটে হাঁটার সময় জুতো ব্যবহার করা এবং নিয়মিত ব্যবধানে চিকিৎসকের পরামর্শে কৃমিনাশক ঔষধ সেবন করা নিরাপদ থাকার অন্যতম উপায়।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ঈদের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করলো সৌদি আরব
- সৌদিতে আজ শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাবে কিনা জানা গেল
- শেয়ারবাজার: বস্ত্র খাতের ৫ কোম্পানির মুনাফায় বড় চমক
- বাংলাদেশ ঈদ কবে, যা জানা গেল
- মুনাফায় ধস: বস্ত্র খাতের ১৬ কোম্পানির আয় তলানিতে
- ঈদের তারিখ ঘোষণা করলো সিঙ্গাপুর ও তুরস্ক
- জানা গেল বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬)
- বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬)
- চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে রিয়াল-বায়ার্ন ও বার্সা-অ্যাতলেটিকো
- চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: গোলবন্যায় শেষ আটে লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখ
- ৩৮ বছরেও মেসির জাদুতে ভরসা! আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা
- ব্রাজিল ও কলম্বিয়া ম্যাচের জন্য ফ্রান্সের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা
- হৃদপিণ্ডের শত্রু এই ৫ ফল? বাড়াতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, সাবধান!