Md Razib Ali
Senior Reporter
লো ব্লাড প্রেসার কখন ভয়ের কারণ? ৫টি সতর্ক সংকেত চিনে নিন
সুস্থ থাকার জন্য রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকা অপরিহার্য। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই রক্তচাপবা ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেকটা নিচে নেমে যায়, যাচিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপোটেনশন' নামে পরিচিত।সাধারণত ৯০/৬০ mmHg-এর কম রক্তচাপকে 'লো ব্লাড প্রেসার' হিসেবে গণ্য করাহয়। অনেক সময় কোনো বড় লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরে অবস্থান করে, আবার কখনও এটি হয়েওঠে প্রাণঘাতী সমস্যার পূর্বলক্ষণ।
হাইপোটেনশনের ধরণ: আপনি কোনটির শিকার? ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক রক্তচাপ কমে যাওয়ারবিষয়টিকে দুটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায় ভাগ করেছে:
১. অ্যাবসোলিউট হাইপোটেনশন: এটি এমন এক অবস্থা যেখানে বিশ্রামরত থাকা সত্ত্বেওআপনার রক্তচাপ সবসময় ৯০/৬০ mmHg-এর নিচেই অবস্থান করে।
২. অর্থোস্ট্যাটিকবা পোস্টুরাল হাইপোটেনশন: বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে যদি রক্তচাপ কমে যায়,তবে তাকে এই নামে ডাকা হয়। শরীরের ভঙ্গি পরিবর্তনের ফলে যদি তিন মিনিটের বেশি সময়ধরে রক্তচাপ নিম্নমুখী থাকে (সিস্টোলিক ২০ mmHg বা ডায়াস্টোলিক ১০ mmHg পতন), তবেবুঝতে হবে এটি সাধারণ কোনো বিষয় নয়।
জীবনযাত্রায় প্রভাব ও লক্ষণসমূহ লো ব্লাড প্রেসার অনেকের জন্য উদ্বেগের কারণ নাহলেও, কারো কারো ক্ষেত্রে এটি নিত্যদিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে বড় বাধা হয়েদাঁড়ায়। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন সাময়িকভাবে হ্রাস পাওয়ার ফলে নিচের লক্ষণগুলোদেখা দিতে পারে:
- ঝটপট উঠে দাঁড়ালে মাথা ঝিমঝিম করা বা হালকা বোধ হওয়া।
- অত্যধিক দুর্বলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভব করা।
- হঠাৎ জ্ঞান হারানো বা সিনকোপের ঝুঁকি, যা পড়ে গিয়ে বড় আঘাতের কারণ হতে পারে।
- দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা এবং কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে না পারা। - বমি বমি ভাব, শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া এবং হাঁটাচলার সময় ভারসাম্য হারানো।
নিম্ন রক্তচাপের নেপথ্যে থাকা ফ্যাক্টরসমূহ ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন ও আমেরিকানহার্ট অ্যাসোসিয়েশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রক্তচাপ কমে যাওয়ার পেছনে একাধিকপ্রভাবক কাজ করে:
- শারীরিক ভঙ্গি ও খাদ্যভ্যাস: দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার পর হঠাৎ দাঁড়ানো কিংবা খাবার গ্রহণের পর পরিপাকতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে রক্তচাপ কমতে পারে।
- মেডিকেল কন্ডিশন: হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিক গতি (ব্রাডিকার্ডিয়া), হার্টের ভাল্বের ত্রুটি, হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওরের মতো জটিল হৃদরোগ। এছাড়া থাইরয়েড সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং অ্যাডিসন রোগের মতো অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির সমস্যাও এর জন্য দায়ী।
- ওষুধের প্রভাব: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ বা বিষণ্ণতা নিরাময়ের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও প্রেসার কমতে পারে।
- জরুরি অবস্থা: তীব্র পানিশূন্যতা, রক্তপাত, সেপটিক শক বা মারাত্মক অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন (অ্যানাফাইল্যাকটিক শক) রক্তচাপকে বিপজ্জনক মাত্রায় নামিয়ে আনে।
- গর্ভাবস্থা: গর্ভকালীন সময়ে রক্তচাপ কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক, যা সাধারণত ভয়ের কিছু নয়।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন? হালকা নিম্ন রক্তচাপ সবসময় ভয়ের না হলেও যখন এরলক্ষণগুলো প্রকট ও নিয়মিত হতে থাকে, তখন সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে রক্তচাপের এইপতন যদি হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতাকমিয়ে দেয়, তবে তা বিপদের কারণ।
২০২০ সালে 'জার্নাল অফ হাইপারটেনশন'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রোকেরপরপরই রক্তচাপ খুব কম থাকলে রোগীর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত বাবাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া, ত্বক অতিরিক্তঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়া কিংবা মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিলে দেরিনা করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মার্কশীটসহ এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখবেন যেভাবে
- ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ কবে কখন জেনে নিন দুটি প্রীতি ম্যাচের পূর্ণ সূচি
- অনলাইনে এসএসসি ফল ২০২৬ দেখার নিয়ম, রইল অফিসিয়াল লিংক
- SSC Result 2026: মার্কশীটসহ এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখবেন যেভাবে
- SSC Result 2026:অনলাইনে এসএসসি ফল ২০২৬ দেখার নিয়ম, রইল অফিসিয়াল লিংক