ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

মাড়ির রক্তপাত কি বড় রোগের লক্ষণ? আজই সাবধান হোন!

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মে ০১ ১০:১৭:৪০
মাড়ির রক্তপাত কি বড় রোগের লক্ষণ? আজই সাবধান হোন!

সকালে দাঁত মাজার সময় সামান্য রক্তপাত দেখে আমরা অনেকেই বিচলিত হই না। ভাবি হয়তো ব্রাশের ঘষায় এমনটা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাড়ির এই সামান্য রক্তবিন্দু হতে পারে কোনো গভীর শারীরিক সংকটের আগাম বার্তা। মাড়ির স্বাস্থ্য কেবল আপনার দাঁতকে ধরে রাখে না, বরং এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার একটি আয়না হিসেবে কাজ করে।

বিপদ যখন মাড়ির গভীরে

মুখের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে দাঁতের গোড়ায় ব্যাকটেরিয়ার আস্তরণ বা ‘প্লাক’ জমে। এর প্রাথমিক ফল হলো ‘জিনজিভাইটিস’, যেখানে মাড়ি কেবল ফুলে ওঠে বা রক্তক্ষরণ হয়। তবে ভয়ের কথা হলো, এই স্তরে সতর্ক না হলে এটি ‘পেরিওডনটাইটিস’-এ রূপ নেয়। এই জটিল সংক্রমণ শুধু মাড়ি নয়, দাঁতের হাড়কেও ক্ষয় করে ফেলে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হলো অকালে দাঁত পড়ে যাওয়া।

কেন হয় মাড়ির প্রদাহ?

দাঁতের সঠিক যত্ন না নেওয়া মাড়ির রোগের প্রধান কারণ হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আরও অনেক প্রভাবক। জীবনযাত্রার ধরন এবং শারীরিক পরিবর্তনও মাড়িকে সংবেদনশীল করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা মাড়ির সমস্যার পেছনে কয়েকটি বিশেষ কারণ চিহ্নিত করেছেন:

অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস: বিশেষ করে ধূমপানের ফলে মাড়ির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

হরমোনের প্রভাব: বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা কিংবা মেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা মাড়িকে দুর্বল করে দিতে পারে।

অসুস্থতা ও ওষুধ: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাড়ির রক্তপাত বাড়িয়ে দেয়।

শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্য রোগের সংকেত

মাড়ির সমস্যা কেবল মুখগহ্বরেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় শরীরে ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘কে’-এর তীব্র ঘাটতি থাকলে মাড়ি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্ষত সারতে দেরি হয়। এছাড়া বারবার রক্তক্ষরণ হওয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা কিংবা রক্তজনিত কোনো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

মুখের ক্যান্সার ও মারাত্মক উপসর্গ

মাড়ির রক্তপাত ছাড়াও আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। মুখে যদি দীর্ঘস্থায়ী কোনো ক্ষত থাকে যা সহজে সারছে না, কিংবা সাদা বা লালচে ছোপ দেখা যায়, তবে তা অবহেলা করা ঠিক হবে না। এছাড়া অকারণে মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়া, দাঁত আলগা হয়ে যাওয়া কিংবা খাবার চিবানো ও গিলতে কষ্ট হওয়া মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত তামাক বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এই ঝুঁকি অনেক বেশি।

বাঁচার উপায়: নিয়মিত যত্ন ও সতর্কতা

প্রতিরোধই হলো দাঁত ও মাড়ি রক্ষার সেরা কবজ। প্রতিদিন অন্তত দুই বার দাঁত মাজা এবং নিয়মিত ফ্লসিং করার অভ্যাস মাড়িকে রাখে সতেজ। এর পাশাপাশি পুষ্টিকর সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং তামাকমুক্ত জীবন যাপন করা জরুরি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো সমস্যা বড় হওয়ার আগেই বিশেষজ্ঞ দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে একটি সুস্থ মুখগহ্বর এবং উজ্জ্বল হাসি নিশ্চিত করতে।

তানভির/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ