Alamin Islam
Senior Reporter
রেকর্ড উচ্চতার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: নেপথ্যে আসল কারণ কী?
সাতদিন পার হওয়ার আগেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যে স্বর্ণ দামের সব রেকর্ড ভেঙে আকাশ ছুঁয়েছিল, শুক্রবার তাতে দেখা গেছে নজিরবিহীন পতন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় হতবাক বিনিয়োগকারীরা। এই আকস্মিক ধস কি কেবল সাময়িক সংশোধক নাকি বড় কোনো পতনের ইঙ্গিত, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নেপথ্যে মার্কিন রাজনীতির চালচিত্র
স্বর্ণের এই বড় পতনের পেছনে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে মার্কিন ডলারের অভাবনীয় উত্থান। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের শুরু হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ারশ-এর নাম প্রস্তাব করেন। বাজারের ধারণা, ওয়ারশের হাত ধরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন পাবে। এই আশ্বাসে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে 'নিরাপদ বিনিয়োগ' হিসেবে স্বর্ণের ওপর যে নির্ভরতা ছিল, তা কাটিয়ে তারা ঝুঁকির দিকে ঝুঁকছেন।
ডলারের মান বৃদ্ধি পাওয়া মানেই স্বর্ণের জন্য অশনিসংকেত। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের লেনদেন ডলারে হয়, তাই ডলার শক্তিশালী হলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। শুক্রবার এর সরাসরি প্রভাব দেখা যায় বিক্রির চাপে। ১৮৩০ জিএমটি সময়ে স্বর্ণের দাম কমে ৪,৭২৪ ডলারের স্তরে নেমে আসে। শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারও একই ধাক্কা খেয়েছে। রুপার দাম ৩১ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৭৯.৩০ ডলারে।
উত্থান-পতনের এক সপ্তাহ
গত কয়েকদিন আগেও চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তার সুযোগে স্পট গোল্ড ৫,৬০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার উপক্রম করেছিল। নিউইয়র্কের বাজারে এক সময় দাম ৫,৪১৮ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে ফিউচারস মার্কেটে তা ৫,০০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতিদ্রুত দাম বাড়ার পর এই বড় ধরনের দরপতন আসলে একটি টেকনিক্যাল কারেকশন।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস ও বাজার পরিস্থিতি
বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ মনে করছে, স্বর্ণের প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনই একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। তাইওয়ান সংকট, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য লড়াই কিংবা ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের মতো ইস্যুগুলো এখনও বাজারে অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে। তবে তাদের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের দিকে বৈশ্বিক এসব ঝুঁকি অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে, যা স্বর্ণের দামে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাজারে স্বর্ণ নিয়ে এক ধরনের উন্মাদনা দেখা গেছে। বিশেষ করে প্যারিসের মতো শহরগুলোতে সাধারণ মানুষকে পুরনো গয়না বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে কয়েন বা ইটিএফ-এর (ETF) মাধ্যমে বিনিয়োগে ঝুঁকেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের বার্তা: সতর্কতা জরুরি
সাধারণত যুদ্ধ বা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটে স্বর্ণের দাম বাড়ে। যদিও এক বছর আগের তুলনায় (২,৭৯৫ ডলারের নিচে) বর্তমান দাম এখনও অনেক উঁচুতে, তবুও বর্তমান অস্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের সাবধানে পা ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত লাভ করার আশায় হুটহাট স্বর্ণ কেনা বা বেচা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বরং পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য রাখা এবং বিক্রির আগে একাধিক ডিলারের সাথে দাম যাচাই করা এখন সবচেয়ে জরুরি কৌশল।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- SSC Result 2026 প্রকাশে ২১ দিনের বিলম্ব, অবশেষে জানা গেল আসল কারণ
- নতুন পে স্কেল কবে কার্যকর? সরকারি সূত্রে মিলল বড় আপডেট
- বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভারত
- SSC পাসের পর একাদশে ভর্তির নিয়ম ও তারিখ ২০২৬
- SSC-র পর কি নিয়ে পড়ব? বিজ্ঞান নাকি মানবিক
- সৌদিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা কখন পাবেন প্রবাসীরা, জানুন
- ডিএসইর সাবেক সিআরও-কে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করল বিএসইসি
- সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে
- রেকর্ড দামের পথে স্বর্ণ, আজকের সর্বশেষ দর প্রকাশ
- কুয়েতে হাজারো প্রবাসীর কোটি টাকা উধাও!
- সরকারি ছুটির তালিকায় নতুন সুযোগ, যেভাবে মিলবে৮ দিনের ছুটি
- প্রবাসে থাকলে অবশ্যই জানুন, সরকারের নতুন ১০ নির্দেশনা
- ২৯ কক্ষের আয়নাঘর ঘুরে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর