বিশ্বকাপের আগে ধনির ভবিষ্যদ্বাণী
দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। মাঠের লড়াই শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ভারতীয় দলের শক্তিমত্তা ও টুর্নামেন্টের নানা দিক নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তাঁর মতে, শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে ভারত অনন্য উচ্চতায় থাকলেও, কন্ডিশন ও মাঠের বাইরের কিছু সমীকরণ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিজ্ঞতার জোরেই ভারত ‘অপ্রতিরোধ্য’
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন ধোনি। ২০২৪ সালে সেই মুকুটে দ্বিতীয় পালক যোগ করেন রোহিত শর্মা। আসন্ন বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই মাঠে নামবে নীল জার্সিধারীরা।
ভারতের সামর্থ্য নিয়ে ধোনি বলেন, ‘২০২৬-এর আসরে ভারত অন্যতম ত্রাস সৃষ্টিকারী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। একটি বিশ্বমানের স্কোয়াড গড়ার জন্য যে সমস্ত উপকরণ প্রয়োজন, তার সবটাই এই দলে বিদ্যমান। বিশেষ করে চাপের মুখে পারফর্ম করার যে অভিজ্ঞতা বর্তমান খেলোয়াড়দের রয়েছে, তা সত্যিই অতুলনীয়। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াকিবহাল।’
টস ও প্রকৃতির খেলায় ধোনির ‘আতঙ্ক’
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে কুড়ি ওভারের এই মেগা ইভেন্ট। তবে ঘরের মাঠে খেলা হলেও সাবেক এই অধিনায়ককে ভাবিয়ে তুলছে ‘শিশির’ বা ডিউ ফ্যাক্টর। ধোনির মতে, রাতের ম্যাচগুলোতে শিশির ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী হয়ে উঠতে পারে, যা রান তাড়া করা দলগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করে।
নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শিশির খুব একটা পছন্দ করি না। কারণ এটি মাঠের হিসাব পুরোপুরি বদলে দেয়। খেলার দিনগুলোতে শিশিরই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভীতির কারণ। এমন পরিস্থিতিতে টস জেতা বা হারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।’
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অনিশ্চয়তা ও ভাগ্য
ধোনির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারত শক্তিশালী হলেও এই ফরম্যাটটি চরম অনিশ্চিত। তিনি মনে করেন, সেরা দলগুলোর বিপক্ষে ১০টি ম্যাচ খেললে ভারত বেশিরভাগই জিতবে, তবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে একজন খেলোয়াড়ই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। এই কিংবদন্তির ভাষায়, ‘কখনো কখনো লিগ পর্ব বা নকআউটে কোনো একজনের অসাধারণ পারফরম্যান্স পুরো হিসাব পাল্টে দেয়। তাই ভাগ্য বা প্রার্থনারও প্রয়োজন থাকে। আমি চাইব কেউ যেন চোটে না পড়ে এবং সবাই যেন অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে।’
ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা
এবারের আসরে ‘এ’ গ্রুপে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানসহ যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে পাক-ভারত দ্বৈরথ হওয়ার কথা থাকলেও, পাকিস্তান সরকার ওই ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।
পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে কাজ করছে আইসিসির প্রতি তীব্র অসন্তোষ। মূলত, ভারতকে সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়েছে পিসিবি। পাকিস্তানের দাবি, আইসিসি এখানে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে।
আর্থিক ক্ষতির মুখে আইসিসি
পাকিস্তান যদি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে এবং ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি মাঠে না গড়ায়, তবে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে আইসিসি। ধারণা করা হচ্ছে, এই একটি ম্যাচ বাতিল হলে অন্তত ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান হতে পারে সংস্থার। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত থেকে ফেরাতে আইসিসি বর্তমানে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ধোনির ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ এবং ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন—দুইয়ে মিলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এক ভিন্নধর্মী উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে স্বস্তি, কোন খাতে কত রিটার্ন মিলল?
- নতুন পে স্কেলে বকেয়া পাবেন যেভাবে, কার্যকর ১ জুলাই
- শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শেখাতে বিএসইসির বড় পরিকল্পনা
- নতুন পে স্কেলে আপনার বেতন কত, জানুন হিসাবের নিয়ম
- শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগের সময়? সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব
- শেয়ার কিনবেন? আগে এই ৭ ভুল থেকে দূরে থাকুন
- ২০২৬ সালের সেরা ৫ বাইক, দাম ও মাইলেজ জানুন
- আর্জেন্টিনার পরবর্তী ৩ ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে? জানুন সময়সূচি
- আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কোথায় ও কার বিপক্ষে
- বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- একাদশ শ্রেণির মাইগ্রেশন ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে
- পে স্কেল: নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি, কে কত পাবেন
- ২০২৬ সালে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ স্মার্টফোন
- পে স্কেল: দুই সন্তান হলে মাসে ৬ হাজার টাকা, কারা পাবেন এই ভাতা
- বার্সেলোনার ম্যাচসহ টিভিতে আজকের সকল খেলার সময়সূচি