নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে ১২০ বছরের বৃদ্ধা!
বার্ধক্যের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে বহু আগেই, ক্ষীণ হয়ে এসেছে চোখের জ্যোতিও। কিন্তু ভোটাধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানল শারীরিক সব সীমাবদ্ধতা। ১২০ বছর বয়সেও ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়ে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তৈয়বজান। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নাতির কাঁধে চড়ে তাঁর ভোট দেওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্রে তৈরি হলো এক আবেগঘন মুহূর্ত
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আজ সকালে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল ১০টার দিকে দেখা যায়, একজন যুবক তাঁর বৃদ্ধা দাদিকে কাঁধে করে কেন্দ্রের ভেতরে নিয়ে আসছেন। তিনি আর কেউ নন, ১২০ বছর বয়সি তৈয়বজান। তাঁর এই উপস্থিতি কেন্দ্রের অন্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও শ্রদ্ধার সৃষ্টি করে।
ভোট দেওয়া শেষে এই শতবর্ষী নারী তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "চলার শক্তি নাই, তাও আইছি। নিজের পছন্দের মানুষরে ভোট দিতে পাইরা খুব শান্তি লাগতাছে।" তাঁর চোখেমুখে তখন দায়িত্ব পালনের এক তৃপ্তির আভা ফুটে ওঠে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর 'আসল' ভোটের আনন্দ
একই কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আসা পূর্বধারা গ্রামের বাসিন্দা আকিবুল ইসলাম নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৬-১৭ বছর পর সরাসরি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, "অনেক বছর পর আইজকা মনে হইতাছে সত্যিকারের ভোট দিছি।"
ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলতে দেখা যায়। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোজাহারুল হক জানান, ৪ হাজার ৩০৫ জন ভোটারের এই কেন্দ্রে প্রথম দুই ঘণ্টাতেই ৫৯৮ জন ভোট দিয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা তলায় বুথ স্থাপন করায় এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা থাকায় ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারছেন।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া: সন্তোষ ও অভিযোগ
নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল (ঘোড়া প্রতীক) সামগ্রিক পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তবে ভোটগ্রহণের গতি কিছুটা ধীর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স একটি কারিগরি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, অনেক ভোটারের তথ্য অ্যাপে থাকলেও মূল তালিকায় নাম না থাকায় তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন।
বার্ধক্য বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে নাগরিক দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না, ১২০ বছর বয়সি তৈয়বজান আজ যেন সেই বার্তাই দিয়ে গেলেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ১২০ বছর বয়সে ভোট দেওয়া বৃদ্ধার নাম কী এবং তাঁর বাড়ি কোথায়?
উত্তর: ১২০ বছর বয়সে ভোট দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এই বৃদ্ধার নাম তৈয়বজান। তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
২. তৈয়বজান কীভাবে ভোটকেন্দ্রে এসেছিলেন?
উত্তর: বয়সের ভারে তৈয়বজান নিজে চলাফেরা করতে পারেন না, তাই তিনি তাঁর নাতির কাঁধে চড়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছিলেন।
৩. তিনি কোন ভোটকেন্দ্রে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন?
উত্তর: তৈয়বজান ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের অন্তর্গত 'ধারা উচ্চ বিদ্যালয়' কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।
৪. ভোট দেওয়ার পর তৈয়বজান কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন?
উত্তর: ভোট দেওয়ার পর তিনি অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, "নিজে চলাফেরা করতে পারি না, তাও আইছি। নিজ হাতে পছন্দের মানুষরে ভোট দিছি, খুব ভালো লাগতাছে।"
৫. ময়মনসিংহ-১ আসনের ওই কেন্দ্রে প্রার্থীদের অভিযোগগুলো কী ছিল?
উত্তর: স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ভোটগ্রহণের ধীরগতি নিয়ে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অভিযোগ করেন যে, অ্যাপ ও ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কিছু ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে নাম খুঁজে পাচ্ছেন না।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- অনলাইনে নামজারি আবেদন করবেন যেভাবে, লাগবে যেসব কাগজ
- Hero Xtreme 250R: দাম, মাইলেজ ও সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জানুন ফলাফল
- HONOR 700 Pro: পেছনের ডিসপ্লে ও ৯০০০mAh ব্যাটারির চমক
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত সৈনিক, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি
- ১০ হাজার mAh ব্যাটারি নিয়ে আসছে iQOO Z12 Series?
- পুরনো জমির মালিকানা ও খতিয়ান অনলাইনে খুঁজবেন যেভাবে