MD. Razib Ali
Senior Reporter
এলপি গ্যাস দারুন সুখবর দিল সরকার
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং বাজার স্থিতিশীল করতে ভ্যাট কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এনবিআর-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কী পরিবর্তন এলো ভ্যাট কাঠামোতে?
এনবিআর জানিয়েছে, আগে এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসা পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর ছিল এবং আমদানির সময় ২ শতাংশ আগাম কর দিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের এই ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানির ২ শতাংশ আগাম কর—উভয়ই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে, এখন শুধুমাত্র আমদানির পর্যায়ে সরাসরি ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গৃহস্থালি ও শিল্প—উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজি একটি অপরিহার্য জ্বালানি। এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বাজার দর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে জনস্বার্থে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। মূলত এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) পক্ষ থেকে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ভোক্তাদের লাভ কতটা?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, আমদানির পর স্থানীয় পর্যায়ে পুনরায় ভ্যাট না থাকায় পণ্যের চূড়ান্ত মূল্যে এর বড় প্রভাব পড়বে। প্রজ্ঞাপন কার্যকরের পর থেকে এলপিজি ক্রয়ের ক্ষেত্রে একজন সাধারণ গ্রাহকের ওপর আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ ভ্যাট বা মূসকভার কমে যাবে।
সময়সীমা:
সরকারের এই নতুন সুবিধা আপাতত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এনবিআর আশা করছে, ভ্যাট কাঠামোর এই পুনর্নির্ধারণের ফলে বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং খুচরা পর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তানভির ইসলাম/