MD. Razib Ali
Senior Reporter
শয়তান বন্দি তবুও মানুষ পাপে জড়ায় কেন? যা বলছে ইসলাম
সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান। হাদিসের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী, এই মাস শুরু হতেই শয়তানকে কারারুদ্ধ করা হয়। তবুও চারপাশের বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেকে পাপাচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত হতে পারছেন না। এই বৈপরীত্যের পেছনে ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকরা বেশ কিছু তাত্পর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
ঐশী ঘোষণা ও শয়তানের সীমাবদ্ধতা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী অনুযায়ী, রমজানের শুভাগমনে জান্নাতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত হয় এবং জাহান্নামের কপাটগুলো রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শয়তানকে করা হয় শৃঙ্খলিত। তবে বিজ্ঞ আলেমদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখানে সকল স্তরের শয়তানকে বোঝানো হয়নি। বরং যারা অত্যন্ত উদ্ধত এবং শক্তিশালী (মারিদ), কেবল তাদেরই এই বিশেষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। ফলে সাধারণ প্ররোচনাগুলো পুরোপুরি বন্ধ না-ও হতে পারে।
ইবাদতের সুরক্ষা বলয়
মুফাসসিরদের মতে, রমজান মাসে যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সিয়াম পালন, তিলাওয়াত ও জিকিরে নিমগ্ন থাকেন, তাদের চারপাশে এক আধ্যাত্মিক সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়। ফলে তাদের ওপর অশুভ শক্তির প্রভাব ক্ষীণ হয়ে আসে। তবে যারা কেবল ক্ষুধার্ত থাকাকেই রোজা মনে করেন এবং নিজেদের চারিত্রিক সংশোধনে সচেষ্ট হন না, তাদের ক্ষেত্রে এই ঐশী সুরক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করে না।
পাপের উৎস কেবল শয়তান নয়
ইসলামি মনোবিজ্ঞান ও ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, মানুষের সকল অপরাধের জন্য কেবল শয়তান দায়ী নয়। মানুষের ভেতরকার ‘নফস’ বা কুপ্রবৃত্তি, দীর্ঘদিনের লালিত মন্দ অভ্যাস এবং নেতিবাচক সামাজিক পরিবেশও পাপে নিমগ্ন হওয়ার অন্যতম কারণ। শয়তান বন্দি থাকলেও মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাসগত আচরণ বা কুপ্রবৃত্তির তাড়না তাকে অন্যায়ের দিকে ধাবিত করতে পারে।
আক্ষরিক নাকি রূপক: এক চিরন্তন বিতর্ক
শয়তানকে শিকলবন্দি করার বিষয়টি আক্ষরিক অর্থে ঘটে নাকি এটি একটি রূপক প্রকাশ—তা নিয়ে বিদগ্ধজনদের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি একটি বাস্তব ও অতিপ্রাকৃত ঘটনা, যেখানে ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে সুরক্ষা দেন। অন্যদলের মতে, এটি একটি রূপক অলংকার। অর্থাৎ এই মাসে নেক আমল করার পথ এতটা সহজ এবং গুনাহের পথ এতটা সংকুচিত হয়ে যায় যে, মনে হয় শয়তান কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে রমজান হলো নৈতিক বিবর্তন ও আত্মসংশোধনের একটি পাঠশালা। কেবল বাহ্যিক উপবাস নয়, বরং অন্তরের কলুষতা দূর করার মাধ্যমেই এই মাসের প্রকৃত সুফল অর্জন করা সম্ভব। শয়তানের অনুপস্থিতির এই বিশেষ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যারা নিজেদের সংশোধন করতে পারেন, তারাই সফলকাম।
তানভির ইসলাম/