Alamin Islam
Senior Reporter
জ্যাকসের বিশ্বরেকর্ড ও স্পিন দাপট: কিউইদের হারিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড
আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ঘূর্ণি উইকেটে আরও একবার স্পিনারদের দাপট দেখল বিশ্ববাসী। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তবে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণে ছিলেন ইংলিশ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস। অসাধারণ পারফরম্যান্সে তিনি স্পর্শ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি শেন ওয়াটসনের এক যুগের পুরনো এক বিশ্বরেকর্ড।
১২ বছর পর ওয়াটসনের রেকর্ডে ভাগ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৪ বার ম্যাচসেরা হওয়ার অনন্য কীর্তি এতদিন এককভাবে ছিল শেন ওয়াটসনের দখলে। ২০১২ সালে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন উইল জ্যাকস। এবারের আসরে খেলা ৭ ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড, যার চারটিতেই জয়ের নায়ক ছিলেন জ্যাকস। এর আগে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা এক আসরে ৩ বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে বিপাকে পড়েছিল ইংলিশরা। তবে সপ্তম উইকেটে রেহান আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে কিউইদের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে আনেন জ্যাকস। এই জুটি মাত্র ১৬ বলে মূল্যবান ৪৪ রান যোগ করেন। জ্যাকস ১৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে খেলেন ৩২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। এর আগে বল হাতেও ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে গ্রুপ ২-এর শীর্ষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রাখল বাটলারের দল।
কলম্বোয় স্পিনারদের নতুন ইতিহাস
কলম্বোর এই ম্যাচটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছে স্পিনারদের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। নির্ধারিত ৪০ ওভারের মধ্যে ৩১ ওভারই করেছেন দুই দলের স্পিনাররা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে এটিই সর্বোচ্চ স্পিন ওভারের রেকর্ড। কাকতালীয়ভাবে চলতি আসরেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেও ৩১ ওভার স্পিন বল হয়েছিল। এমনকি শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচেও স্পিনাররা ৩০ ওভার বল করার নজির গড়েন। এর আগে ২০১২ সালে এই মাঠেই সর্বোচ্চ ২৬ ওভার স্পিন করার রেকর্ড ছিল, যা এবারের আসরে বারবার ভেঙে যাচ্ছে।
টুর্নামেন্টে জ্যাকসের দাপট
উইল জ্যাকসের এই রেকর্ড যাত্রা মোটেও আকস্মিক ছিল না। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য:
নেপাল ম্যাচ: অপরাজিত ৩৯ রান ও ১টি উইকেট।
ইতালি ম্যাচ: অপরাজিত ৫৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ও ১টি উইকেট।
শ্রীলঙ্কা ম্যাচ: ২১ রানের পাশাপাশি ৩ উইকেট শিকার।
নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: ৩২ রান ও ২ উইকেট।
ইংল্যান্ড ফাইনালে পৌঁছালে জ্যাকসের সামনে সুযোগ থাকছে ওয়াটসনকে ছাড়িয়ে এককভাবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর। কলম্বোর স্পিন-স্বর্গে উইল জ্যাকস যেন এক নতুন রাজত্বের সূচনা করলেন।
তানভির ইসলাম/