ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৯:২৮:৩৫
গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান

মায়ের বুকের দুধ নবজাতক শিশুর জন্য আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। জন্মের পর শিশুর জন্য মায়ের দুধই অন্যতম প্রধান ও উপযুক্ত খাদ্য। ফলে সন্তান জন্মের পর তাকে বুকের দুধ পান করানো মায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। তবে কোনো কারণে মায়ের ওপর গোসল ফরজ হলে এ অবস্থায় সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন ও দ্বিধা রয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে পবিত্রতার বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ, তাওয়াফসহ নির্দিষ্ট কিছু ইবাদতের ক্ষেত্রে পবিত্রতা অর্জন করা আবশ্যক। তবে গোসল ফরজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ওই ব্যক্তি সব ধরনের দৈনন্দিন কাজ থেকে বিরত থাকবেন। প্রতিটি কাজের জন্য পবিত্রতার একই বিধান প্রযোজ্য নয়।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনীর মতে, কোনো নারীর ওপর গোসল ফরজ হলেও তিনি তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে পারবেন। সন্তানকে দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে মায়ের পবিত্র থাকা শর্ত নয়। তাই গোসল ফরজ অবস্থায় শিশুকে দুধ পান করানো নাজায়েজ বা হারাম নয়।

অর্থাৎ, কোনো নারীর ওপর গোসল ফরজ হওয়ার কারণে শিশুর স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। মা চাইলে ওই অবস্থাতেই সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে পারবেন।

তবে আলেমের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নারী যদি পবিত্রতা অর্জনের পর সন্তানকে দুধ পান করানোর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হন, সেটিকে পরহেজগারি ও তাকওয়ার একটি দিক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে পবিত্রতার প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং, গোসল ফরজ অবস্থায় সন্তানকে বুকের দুধ পান করানো শরিয়তসম্মত। এ কারণে শিশুকে দুধ পান করানো বন্ধ রাখা জরুরি নয়। তবে সুযোগ থাকলে পবিত্রতা অর্জনের পর দুধ পান করানোকে কেউ অধিক সতর্কতা ও পরহেজগারির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ