পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘রাষ্ট্রপতি’ পদ। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অন্দরমহল থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির ও সাধারণ জনগণের মাঝে এখন একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা? বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায় কি স্রেফ সময়ের ব্যাপার, নাকি এখানে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সাংবিধানিক মারপ্যাঁচ? এই সমীকরণ মেলাতে গিয়ে উঠে আসছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য এক ‘বড় চমকের’ কথা।
সাহাবুদ্দিন ইস্যু: ইমপিচমেন্ট নাকি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ?
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও তাঁর অবস্থান এখন নড়বড়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্র আন্দোলনের মুখে তাঁর পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছিল। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে তাঁকে সরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সাবধানী অবস্থানে রয়েছে বিএনপি সরকার। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে তাঁকে সরাতে হলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু ২০০১ সালে অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ইমপিচমেন্ট করতে গিয়ে বিএনপি যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এবার তারা চায় না। ফলে রাজনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।
চাপের মুখে সরকার ও কৌশলগত সময়
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর এখন দ্বিমুখী চাপ কাজ করছে। একদিকে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি (NCP) রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত সরানোর দাবি তুলছে, অন্যদিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ভারসাম্য বজায় রাখার দায়বদ্ধতাও রয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গাণিতিক হিসাবও কাজ করছে—বর্তমানে যাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাঁর ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হবে বর্তমান সরকারের মেয়াদের সাথেই। এরপর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।
আলোচনায় থাকা চার হেভিওয়েট মুখ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে চমক দেখিয়ে নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি পদেও এমন কেউ আসতে পারেন, যা সবার প্রত্যাশার বাইরে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন চার বর্ষীয়ান নেতা:
১. ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
২. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দলের সংকটকালীন কাণ্ডারি ও মহাসচিব হিসেবে তাঁর নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
৩. ড. আবদুল মঈন খান: স্থায়ী কমিটির এই সদস্য তাঁর মার্জিত ও বিচক্ষণ ইমেজের কারণে রাষ্ট্রপতির দৌড়ে রয়েছেন।
৪. গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: ঢাকা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই প্রভাবশালী নেতাকেও রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হচ্ছে।
বঙ্গভবনের গন্তব্য কোন দিকে?
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নিয়োগ। একদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে জোট শরিকদের চাপ—সব মিলিয়ে সরকার এখন সঠিক সময়ের অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে থাকা এই চারজনের মধ্য থেকেই কেউ বঙ্গভবনে যাবেন, নাকি প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঝুলি থেকে একেবারে নতুন কোনো নাম বের করে আনবেন, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে পুরো দেশ।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- চাঙ্গা হচ্ছে শেয়ারবাজার: বিদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ২৬ ব্লু-চিপ শেয়ার
- নাভানা ফার্মায় তোলপাড়: বিএসইসির ৪ সদস্যের কমিটি
- ৯ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক চাহিদা
- শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসইর সতর্কবার্তা
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: সরাসরি দেখুন Live
- আজ বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- ৮৯টি দিবসের নতুন তালিকা: ৫ আগস্ট যুক্ত হলেও বাদ পড়লো যেসব দিবস
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: পাকিস্তানের ব্যাটিং ঝড়, সরাসরি দেখুন Live
- পিএসসিতে ১১১ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: আবেদনের নিয়ম ও পেমেন্ট পদ্ধতি জানুন
- বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের কোচরা আসবে না কেন? জানা গেল বিস্তারিত
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬)
- শেয়ারবাজারে বড় রদবদল: ৩ ব্রোকারেজ থেকে ৬ প্রতিনিধি বাদ পড়লেন
- গরমে এসি চালু করছেন? আগে এই বিষয়গুলো না দেখলে বিপদ
- আজকের খেলার সময়সূচি:বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান