ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পিপলস লিজিং: ২০২৬-এ পুরোদমে চালুর মহাপরিকল্পনা
এক সময়ের খাদের কিনারে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। আদালত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি এখন পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফেরার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং সম্পদের ঘাটতি ঘুচিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে সরকারের কাছে ৭৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ।
সংকটের আঁধার পেরিয়ে নতুন সূর্যোদয়
২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চলা লাগামহীন আর্থিক অনিয়মে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল পিপলস লিজিং। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ বা অবসায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে নতুন একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের লড়াই শুরু হয়।
আদায় ও সাশ্রয়ের নতুন রেকর্ড
নতুন পর্ষদের অধীনে গত কয়েক বছরে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত খেলাপিদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এই সংগৃহীত অর্থ থেকে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯০০ আমানতকারীর পাওনা বাবদ ৮৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয় বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। প্রধান কার্যালয় ভাড়া ভবন থেকে সরিয়ে নিজস্ব জায়গায় নিয়ে আসায় প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া সাশ্রয় হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে।
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও এজিএম সম্পন্ন
দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া থাকা সাতটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সফলভাবে শেষ করেছে পিপলস লিজিং। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ মেনে প্রশাসনিক কাঠামোকে আইনি ছকে বেঁধে ফেলার এটি একটি বড় মাইলফলক।
ভোলবদলের মহপরিকল্পনা
পিপলস লিজিংকে একটি আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বেশ কিছু বৈপ্লবিক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে:
১. দায় মুক্তি: বর্তমান দেনাগুলোকে সুদমুক্ত কিস্তিতে রূপান্তর করে পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
২. শেয়ারে রূপান্তর: আমানতকারীদের পাওনার একাংশকে শেয়ারে পরিণত করার মাধ্যমে তাদের মালিকানার অংশীদার করা।
৩. এসএমই ফোকাস: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (SME) নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করা।
৪. শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ: সাবেক পরিচালক যারা অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে নতুন বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা।
২০২৬: স্থিতিশীলতার বছর
পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সগির হোসেন খান আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আমানতকারীদের জমানো টাকা সুরক্ষা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, "অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত ৭৫০ কোটি টাকার সহায়তা সময়মতো পাওয়া গেলে ২০২৬ সালের মধ্যেই আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারব।"
তিনি আরও জানান, তখন সিআরআর এবং এসএলআর এর মতো বাধ্যতামূলক নিয়মগুলো মেনেই প্রতিষ্ঠানটি বাজারে একটি লাভজনক ও স্থিতিশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের অবস্থান পুনপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- SSC Result 2026 প্রকাশে ২১ দিনের বিলম্ব, অবশেষে জানা গেল আসল কারণ
- নতুন পে স্কেল কবে কার্যকর? সরকারি সূত্রে মিলল বড় আপডেট
- বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভারত
- SSC পাসের পর একাদশে ভর্তির নিয়ম ও তারিখ ২০২৬
- SSC-র পর কি নিয়ে পড়ব? বিজ্ঞান নাকি মানবিক
- সৌদিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা কখন পাবেন প্রবাসীরা, জানুন
- ডিএসইর সাবেক সিআরও-কে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করল বিএসইসি
- সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে
- রেকর্ড দামের পথে স্বর্ণ, আজকের সর্বশেষ দর প্রকাশ
- কুয়েতে হাজারো প্রবাসীর কোটি টাকা উধাও!
- সরকারি ছুটির তালিকায় নতুন সুযোগ, যেভাবে মিলবে৮ দিনের ছুটি
- প্রবাসে থাকলে অবশ্যই জানুন, সরকারের নতুন ১০ নির্দেশনা
- ২৯ কক্ষের আয়নাঘর ঘুরে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর