Md Razib Ali
Senior Reporter
পুঁজিবাজারে বড় চমক: ফ্লোরপ্রাইস মুক্ত হচ্ছে দুই জায়ান্ট কোম্পানি
দেশের পুঁজিবাজারকে কৃত্রিম দরের বেড়াজাল থেকে পুরোপুরি মুক্ত করার সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে লেনদেনে স্থবিরতা বজায় থাকা বেক্সিমকো লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর থেকে ‘ফ্লোরপ্রাইস’ বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমা তুলে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিগত কয়েক বছরের অন্যতম বিতর্কিত একটি অধ্যায়ের অবসান হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার আসতে পারে চূড়ান্ত ঘোষণা
বিএসইসির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী সোমবার (৮ জুন) একটি বিশেষ কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভাতেই বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেখতে পাবেন।
বর্তমানে শেয়ারবাজারে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার ১১০ টাকা ১০ পয়সা এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ৩২ টাকা ৬০ পয়সার নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। এই বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই দুটি বড় মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের লেনদেন প্রায় অচল হয়ে ছিল।
‘ফ্লোরপ্রাইস আর ফিরবে না’—চেয়ারম্যানের কঠোর বার্তা
বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. মাসুদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাজারের সংস্কারে মনোযোগ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, শেয়ারের দর নির্ধারণ করবে বাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতেও আর ফ্লোরপ্রাইস ফিরিয়ে আনা হবে না।" একই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে রোববার সিএফএ সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানেও।
এমনকি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রতিনিধি দল যখন রোববার নবগঠিত কমিশনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান, তখনো চেয়ারম্যান তাদের এই দুই কোম্পানির ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
কেন আরোপ করা হয়েছিল এই বিধিনিষেধ?
২০২০ সালে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার দেউলিয়া হওয়ার ঘটনায় দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধস নামে। বাজারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০ মার্চ প্রথম ফ্লোরপ্রাইস প্রথা চালু করেন।
পরবর্তীতে বাজারের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বেশিরভাগ কোম্পানির ওপর থেকে এই নিয়ম তুলে নেওয়া হয়। তবে রহস্যজনকভাবে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ক্ষেত্রে এই শিকল রয়েই যায়। বিদায়ী চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ খানও এই ব্যবস্থার বিপক্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এই দুই জায়ান্ট কোম্পানির শেয়ারকে ফ্লোরপ্রাইস মুক্ত করার চূড়ান্ত স্বাক্ষরটি দিয়ে যেতে পারেননি।
বাজারের ওপর প্রভাব
বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুটি শেয়ারে আটকা পড়ে ছিলেন। ফ্লোরপ্রাইস উঠে গেলে শেয়ার দুটির দরে সাময়িক উত্থান-পতন হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারের তারল্য সংকট কাটাতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের মূল আকর্ষণ:
প্রধান সিদ্ধান্ত: বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দরে আর কোনো সর্বনিম্ন সীমা থাকছে না।
কমিশন সভা: ৮ জুন, সোমবার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
বর্তমান দর: ১১০.১০ টাকা (বেক্সিমকো) ও ৩২.৬০ টাকা (ইসলামী ব্যাংক)।
নতুন নীতি: বাজারকে সম্পূর্ণ বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা বিএসইসি চেয়ারম্যানের।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- আপনার মাথায় কত টাকার সরকারি ঋণ? সংসদে মিলল সুনির্দিষ্ট হিসাব
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- তাপমাত্রা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অফিস
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান
- সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ