ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

Md Razib Ali

Senior Reporter

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত ও কখন পড়বেন?

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১২:৩৩:১১
তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত ও কখন পড়বেন?

ইসলামে ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে পরিচিত পবিত্র রমজান মাস। এই মাসে মুমিনদের হৃদয়ে আমলের স্পৃহা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রাতের নির্জনতায় ‘তাহাজ্জুদ’ আদায়ের মাধ্যমে স্রষ্টার সান্নিধ্য পেতে উন্মুখ থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তবে এই নামাজের রাকাত সংখ্যা এবং সঠিক সময় নিয়ে অনেকের মনেই জানার আগ্রহ থাকে।

তাহাজ্জুদের নির্দিষ্ট রাকাত কি আছে?

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ একজন বান্দার সামর্থ্য ও ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। মূলত এই নামাজের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই। তবে সুন্নাহ ও আলেমরা ২, ৪, ৬ কিংবা ৮ রাকাত পড়ার পর বিতর নামাজের মাধ্যমে রাতের শেষ ইবাদত সম্পন্ন করাকে উত্তম বলে গণ্য করেন।

এই প্রসঙ্গে হজরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের রাতের বেলা কম অথবা বেশি নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং রাতের সবশেষ নামাজ হিসেবে বিতর পড়ার পরামর্শ প্রদান করেছেন।

কখন পড়বে তাহাজ্জুদ: সময়ের গুরুত্ব

‘তাহাজ্জুদ’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো নিদ্রা ত্যাগ করে নামাজে মগ্ন হওয়া। সাধারণত রাতের প্রথম ভাগে কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নেওয়ার পর এই নামাজ আদায় করতে হয়। যদিও এশা থেকে ফজর পর্যন্ত পুরো সময়টাই তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ রয়েছে, তবে রাতের শেষ প্রহরে এই ইবাদত করা সবচেয়ে বেশি সওয়াব ও ফজিলতপূর্ণ।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। পরম করুণাময় তখন ডাক দিয়ে বলতে থাকেন— "কে আছো আমার কাছে দোয়া করবে, আমি কবুল করব? কে আছো কিছু চাইবে, আমি দান করব? এবং কে আছো ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যাকে আমি ক্ষমা করে দেব?"

কিয়ামুল লাইল ও তাহাজ্জুদ কি একই?

অনেকেই কিয়ামুল লাইল এবং তাহাজ্জুদকে আলাদা মনে করেন। তবে মূলত পবিত্র কোরআনে রাতের নফল ইবাদতকে ‘কিয়ামুল লাইল’ হিসেবেই আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা সাধারণভাবে তাহাজ্জুদ নামাজকেই নির্দেশ করে। এটি মূলত বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে সরাসরি কথোপকথন ও নৈকট্য তৈরির এক বিশেষ ঐচ্ছিক মাধ্যম।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, তাহাজ্জুদ শুধু একটি প্রথাগত ইবাদত নয়, বরং এটি রবের সঙ্গে একান্ত আলাপের সুযোগ। তাই রাকাত সংখ্যার চেয়ে একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই নামাজ আদায়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। মুমিনরা তাদের নিজ নিজ শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করে এই নূরানি ইবাদতে শামিল হতে পারেন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ