Md Razib Ali
Senior Reporter
১০ গোলের মহানাটকীয় ম্যাচ, বিশ্বকাপের আগে মেসির ইনজুরি
গোলবন্যা, প্রত্যাবর্তনের গল্প আর রেকর্ডের ছড়াছড়ি—ইন্টার মায়ামি ও ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মধ্যকার ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের সম্ভাব্য সব রোমাঞ্চই উপহার দিয়েছে। তবে ৬-৪ গোলের এই বিশাল জয়ের রাতেও মায়ামি শিবিরে বইছে উদ্বেগের হাওয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে নিজের শেষ ক্লাব ম্যাচে মাঠ ছাড়তে হয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে, তাও অনাকাঙ্ক্ষিত পেশির চোট নিয়ে।
প্রথমার্ধেই ইতিহাস: গোল উৎসবের নতুন রেকর্ড
নু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা ছিল ইন্টার মায়ামির জন্য চরম অস্বস্তির। মিলান ইলোস্কির বিধ্বংসী জোড়া গোলে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। এরপরই শুরু হয় মেসির কারিশমা। তার নিখুঁত ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান কমান জার্মান বার্তারামে। যদিও দ্রুনো দামিয়ানির গোলে আবারও ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফিলাডেলফিয়া।
তবে হার মানার পাত্র ছিল না মায়ামি। বার্তারামের দ্বিতীয় গোল এবং লুইস সুয়ারেজের জোড়া লক্ষ্যভেদে স্কোরবোর্ড ৪-৩ করে বিরতির আগেই লিড নেয় মায়ামি। কিন্তু নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। প্রথমার্ধের অন্তিম সময়ে ভিএআর (VAR) রিভিউতে হ্যান্ডবলের দায়ে পেনাল্টি পায় ফিলাডেলফিয়া। ইলোস্কি হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলে ৪-৪ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এমএলএস-এর ইতিহাসে প্রথমার্ধে ৮ গোলের ঘটনা এটিই প্রথম।
মেসির চোট: দুশ্চিন্তার নতুন নাম
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে একটি ফ্রি কিক নেওয়ার পরেই অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় এলএমটেনকে। বাম ঊরুর ওপরের অংশে হাত দিয়ে তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বেঞ্চের দিকে ইশারা করেন। এর তিন মিনিট পরেই মাতেও সিলভেত্তি তার স্থলাভিষিক্ত হন। কারো সাহায্য ছাড়াই মেসি পায়ে হেঁটে লকার রুমে চলে গেলেও, তার চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। বিশ্বকাপের আগে মেসির এই ইনজুরি এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের আলোচনার প্রধান বিষয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টি ও জয়ের পূর্ণতা
বিরতির পর বৃষ্টির বাগড়ায় খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। তবে মায়ামির গোলক্ষুধা কমেনি। মেসির বিদায়ের পর বার্তারামের নিঃস্বার্থ পাস থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সুয়ারেজ। ম্যাচের শেষ দিকে স্কোরলাইনে নাম লেখান মেসির জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের ব্যবধানে এমএলএস ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবে এটি শেষ হয়।
আলজেরিয়া ম্যাচের আগে স্কালোনির উদ্বেগ
আর্জেন্টিনা এখনও তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত করেনি। তার আগেই দলের প্রাণভোমরার এই চোট লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনাকে ওলটপালট করে দিতে পারে। আগামী ১৬ জুন 'জে' গ্রুপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মহারণ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দলের প্রধান তারকাকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তানভির ইসলাম/