Md Razib Ali
Senior Reporter
৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
অবিলম্বে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। এই লক্ষ্যে সংগঠনটি ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।
গত রোববার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি ও সাক্ষাতের অনুরোধ জানানো হয়।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মচারীদের অভাব-অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি উল্লেখ করে, দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা, জনসেবা প্রদান এবং সরকারের নীতি বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বেশ কিছু ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মচারীরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া পদোন্নতি বঞ্চনা এবং ব্লক পোস্ট সমস্যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
১১ বছরেও হয়নি নতুন পে স্কেল
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দাবি অনুযায়ী, গত ১১ বছরে নিয়ম অনুযায়ী দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এর ফলে বিশেষ করে নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রশাসনের দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধির জন্য কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতেই এই সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সংগঠনটি।
সংগঠনের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি:
সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও পেশাগত বৈষম্য দূর করতে সংগঠনটি যে ১০টি দাবি পেশ করেছে, সেগুলো হলো—
১. অবিলম্বে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন: বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে দ্রুত ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ।
২. টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড: সার্ভিস বেনিফিটসহ পূর্বের ন্যায় টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পদ্ধতি পুনর্বহাল।
৩. পদোন্নতির জটিলতা নিরসন: ব্লক পোস্ট সমস্যা সমাধান করে পদোন্নতির পথ সুগম করা।
৪. স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা: কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. মানসিক কল্যাণ: কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা।
৬. স্বচ্ছ বদলি ও পোস্টিং নীতি: অযাচিত বদলি ও পদোন্নতির বাধা দূর করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৭. অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা: সমস্যা সমাধানের জন্য একটি দ্রুত ও কার্যকর 'সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা' চালু করা।
৮. খাদ্য নিরাপত্তা: নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৯. প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন: দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রোগ্রাম আয়োজন করা।
১০. স্থানাস্তর ও পোস্টিং নীতি: একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করে পোস্টিংয়ের বৈষম্য দূর করা।
প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কর্মচারীদের মনোবল চাঙা করতে এই দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
তানভির ইসলাম/