Md Razib Ali
Senior Reporter
কেয়ামতে ৩ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না আল্লাহ: কারা তারা?
হাশরের ময়দানে যখন আপনজন কেউ কাউকে চিনবে না, যখন আল্লাহর রহমত ছাড়া উদ্ধারের কোনো পথ থাকবে না; ঠিক তখনই কিছু মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। কারা এই হতভাগ্য?
ইসলামী বিশ্বাস ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ হলো পরকাল বা কেয়ামত দিবসের ওপর আস্থা। সেদিন সমগ্র মানবজাতিকে এক বিশাল ময়দানে হিসাব-নিকাশের জন্য সমবেত করা হবে। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের চিত্র তুলে ধরে পবিত্র কোরআনের সুরা আবাসায় (আয়াত: ৩৪-৩৭) জানানো হয়েছে যে, মানুষ সেদিন নিজের ভাই, মা-বাবা এবং জীবনসঙ্গিনী ও সন্তান সন্ততি থেকেও পলায়ন করবে। চারদিকে কেবল উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক বিরাজ করবে।
সেই মহাসংকটের সময় একমাত্র ভরসা হবে মহান রবের দয়া। কিন্তু হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পাপের কারণে তিন শ্রেণির মানুষ আল্লাহর সেই বিশেষ কৃপা থেকে বঞ্চিত হবেন।
হাদিসের কঠোর হুঁশিয়ারি
সহিহ মুসলিম, তিরমিজি ও আবু দাউদসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু যর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী বর্ণনা করেছেন। নবীজি (সা.) জানিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিও দেবেন না। বরং তাদের জন্য নির্ধারিত থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
নিচে সেই তিন শ্রেণির মানুষের পরিচয় তুলে ধরা হলো:
১. পোশাকে আভিজাত্য ও অহংকার প্রদর্শনকারী
টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরাকে ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে যদি তা দম্ভ বা অহংকারের বশবর্তী হয়ে করা হয়। সহিহ বুখারির তথ্যমতে, কাপড়ের যে অংশটুকু টাখনুর নিচে থাকবে, তা জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে।
এ বিষয়ে বর্তমান সময়ের গবেষক শায়েখ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, প্যান্ট, পাজামা কিংবা লুঙ্গি—পোশাক যাই হোক না কেন, তা পায়ের গিঁট বা টাখনুর নিচে পরা এই শাস্তির অন্তর্ভুক্ত। অহমিকা প্রদর্শন করে এমন পোশাক পরা পরকালে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির পথে অন্তরায়।
২. মিথ্যা হলফ করে ব্যবসা পরিচালনাকারী
ব্যবসা-বাণিজ্যে অধিক মুনাফা বা দ্রুত পণ্য বিক্রির নেশায় যারা মিথ্যার আশ্রয় নেন, তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ পরিণতি। অনেক বিক্রেতা ক্রেতাকে আশ্বস্ত করতে আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করেন। রাসুল (সা.)-এর মতে, মিথ্যা শপথের মাধ্যমে হয়তো পণ্য সাময়িকভাবে বিক্রি হয়ে যায়, কিন্তু এর ফলে ব্যবসার মূল বরকত বা কল্যাণ নষ্ট হয়ে যায়। প্রতারণার এই অভ্যাস পরকালে খোদ স্রষ্টার অসন্তুষ্টির কারণ হবে।
৩. দয়া দেখিয়ে খোটা দানকারী
মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো বা দান-সদকা করা মহৎ কাজ। কিন্তু সেই উপকারের কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়ে কাউকে লজ্জিত করা বা মানসিক কষ্ট দেওয়াকে ইসলাম অত্যন্ত ঘৃণা করে। সুরা বাকারার ২৬৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্টভাবে সাবধান করেছেন যে, খোঁটা বা কষ্ট দিয়ে যেন দানের সওয়াব নষ্ট করা না হয়। এমন আচরণ মানুষের ইখলাস বা নিষ্ঠাকে ধ্বংস করে দেয় এবং আল্লাহর দরবারে তাকে অপছন্দনীয় করে তোলে।
এই বঞ্চনার ভয়াবহতা কতটুকু?
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কেয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে না পারা বা তাঁর পবিত্রতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হলো চূড়ান্ত অপমান ও লাঞ্ছনা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি আল্লাহর বিশেষ করুণার ছায়া থেকে বিচ্যুত হবে এবং তওবা ছাড়া এই পাপে লিপ্ত থাকলে আখিরাতে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
হাশরের ময়দানে এই বঞ্চনা থেকে বাঁচতে দুনিয়ার জীবনেই সততা, বিনয় এবং নিঃস্বার্থ পরোপকারের চর্চা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিশাল বিনিয়োগ ৩ লাখ ২ হাজার শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা খাতের বিনিয়োগকারীদের নজর ১৬ এপ্রিল: বড় লভ্যাংশের আভাস
- বিএসইসির বড় অ্যাকশন: নিষিদ্ধ ফারইস্ট লাইফের অডিটর
- সুস্থ থাকতে দিনে ঠিক কয়টি খেজুর খাবেন? জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ
- খেলার মাঝেই নিখোঁজ ৭ ফুটবলার! তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল
- রোনালদোর মাইলফলক থেকে ৬ গোল বাদ পড়ায় তোলপাড়
- রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ৩ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে সোনা
- ২ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার উপহার
- বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো: সম্ভাব্য একাদশ ও প্রেডিকশন
- বার্জার পেইন্টসের রাইট শেয়ার তহবিলের সময় বাড়াল বিএসইসি
- আজকের খেলার সময়সূচি:ইসলামাবাদ বনাম লাহোর
- পিএসজি বনাম লিভারপুল: সম্ভাব্য একাদশ ও ম্যাচ প্রেডিকশন
- আর কত দিন চলবে পেট্রল-অকটেনে, জানাল জ্বালানি বিভাগ
- ৮০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৫ বিভাগে সতর্কবার্তা
- এক ধাক্কায় ৪,৪৩২ টাকা কমল সোনার দাম