Md Razib Ali
Senior Reporter
টানা দ্বিতীয় বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা: হুঙ্কার আলভারেজের
সময়ের চাকা কত দ্রুত ঘোরে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারেন জুলিয়ান আলভারেজ। মাত্র দুই বছর আগেও যিনি ছিলেন দলের ব্যাকআপ ফরোয়ার্ড, আজ তিনি আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের প্রধান সেনানি। কাতার বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার আলভারেজ এবং তার দল প্রস্তুত হচ্ছেন নতুন ইতিহাস গড়তে। লক্ষ্য একটাই—বিশ্বজয়ের মুকুট নিজেদের কাছেই রাখা।
ডাগআউট থেকে পাদপ্রদীপের আলোয়: এক রোমাঞ্চকর উত্থান
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শুরুতে আলভারেজ ছিলেন পার্শ্বচরিত্র। কোপা আমেরিকা জয়ী লাউতারো মার্তিনেজের ছায়ায় ঢাকা পড়েছিলেন এই তৎকালীন ম্যানসিটি তারকা। তবে ফুটবলের অনিশ্চয়তা তাকে বেশিদিন অপেক্ষায় রাখেনি। সৌদি আরবের কাছে হোঁচট খাওয়ার পর মেক্সিকো ম্যাচে বদলি হিসেবে নামেন তিনি। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের মরণ-বাঁচন ম্যাচে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই জালের ঠিকানা খুঁজে নেন রিভার প্লেটের এই ছাত্র। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি; সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলসহ টুর্নামেন্টে চারবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে ফাইনালে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন তিনি।
ট্রফি জয়ের কারিগর এখন অ্যাতলেটিকোয়
ম্যানচেস্টার সিটির পাঠ চুকিয়ে বর্তমানে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন আলভারেজ। ইউরোপীয় ফুটবলে সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা জেতা এই ফরোয়ার্ডের ঝুলিতে রয়েছে কোপা লিবার্তাদোরেস, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপা আমেরিকার মেডেল। ২৬ বছর বয়সী এই তারকার আক্রমণাত্মক প্রেসিং ও নিখুঁত ফিনিশিং এখন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির বড় অস্ত্র।
‘জে’ গ্রুপ ও শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয়
আসন্ন আসরে ‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা মোকাবিলা করবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের। আসর শুরুর আগে ফিফা-র সাথে আলাপকালে নিজের আকাশচুম্বী ইচ্ছার কথা জানান আর্জেন্টিনার এই ৯ নম্বর জার্সিধারী। আলভারেজ বলেন, “আর্জেন্টিনা মানেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। আমরা বরাবরের মতোই এবারও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামব। ফাইনালে ওঠার পথটা সহজ হবে না এবং ছোটখাটো ভুল বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি।”
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “শিরোপাধারী হিসেবে এই লড়াইয়ে নামাটা গর্বের। আমাদের লক্ষ্য ট্রফিটা আবারও ঘরে নিয়ে আসা এবং দেশের মানুষকে উৎসবের উপলক্ষ এনে দেওয়া।”
নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় আর্জেন্টিনা
ফুটবল ইতিহাসে টানা দুবার বিশ্বজয়ের কীর্তি রয়েছে মাত্র দুটি দেশের—ইতালি ও ব্রাজিলের। গত আসরে ফ্রান্স এই রেকর্ডের খুব কাছে পৌঁছালেও আর্জেন্টিনার কাছে হেরে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। এবার আর্জেন্টিনা সেই এলিট ক্লাবে প্রবেশ করতে চায়। আলভারেজ মনে করেন, এটি তাদের জন্য একটি ‘সোনালী যুগ’। তার ভাষায়, “যদি আমরা ট্রফিটি ধরে রাখতে পারি, তবে সেটি হবে এক অনন্য ইতিহাস। টানা দুটি কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের সাফল্য আমাদের ফুটবলকে স্বর্ণযুগে নিয়ে গেছে। আমরা সেই শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে চাই।”
মেসি কি থাকছেন?
দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির অংশগ্রহণ নিয়ে ভক্তদের মাঝে জল্পনা থাকলেও, তাকে রেখেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই হবে ফুটবলের খুদে জাদুকরের বিদায়ী মঞ্চ। সতীর্থের ওপর মেসির প্রভাব নিয়ে আলভারেজ বলেন, “বয়সের কারণে এটি তার শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একান্তই তার। তবে মেসিকে দলে পাওয়াটা শুধু আমাদের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ অনুভূতি। তিনি যেখানেই থাকেন, এক বিশাল প্রভাব তৈরি করেন।”
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞ মেসি ও ক্ষুধার্ত আলভারেজদের সমন্বয়ে গঠিত আর্জেন্টিনা দল এখন ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত।