ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

হারতে হারতেও জয়! ৫ মিনিটের রোমাঞ্চে ফাইনালে ম্যানসিটি

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ০৭:৫৭:৫২
হারতে হারতেও জয়! ৫ মিনিটের রোমাঞ্চে ফাইনালে ম্যানসিটি

ম্যাচ শেষ হতে বাকি মাত্র ১১ মিনিট। সাউদাম্পটনের অবিশ্বাস্য এক গোলে তখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু লড়াকু সিটিজেনরা দমে যাওয়ার পাত্র নয়। মাত্র ৩০০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল করে এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল পেপ গার্দিওলার দল। ২-১ ব্যবধানের এই জয়ে টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

আজাজের চমক ও সিটির তড়িৎ প্রত্যাবর্তন

পুরো ম্যাচজুড়ে লড়াই চললেও রোমাঞ্চের সবটুকু জমা ছিল শেষ ভাগের জন্য। ৭৯ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দর্শনীয় এক বাঁকানো শটে সিটির জাল কাঁপান সাউদাম্পটনের ফিন আজাজ। ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক শিরোপার সুবর্ণজয়ন্তীতে সাউদাম্পটন যখন ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই আঘাত হানে সিটি।

৮২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জেরেমি ডোকুর শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার জেমস ব্রির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোললাইন অতিক্রম করলে সমতায় ফেরে ম্যানসিটি। সমতার স্বস্তি কাটতে না কাটতেই ৮৭ মিনিটে নিকো গনজালেস এক বুলেট গতির জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন। ৫ মিনিটের এই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ‘সেইন্টস’দের সব প্রতিরোধ।

গার্দিওলার পরীক্ষা ও বেঞ্চের শক্তি

প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের সাথে পয়েন্ট টেবিলের লড়াই মাথায় রেখে মূল একাদশে ৮টি পরিবর্তন এনেছিলেন পেপ গার্দিওলা। বার্নলি ম্যাচের অধিকাংশ তারকাকে বিশ্রামে রাখায় শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন ছিল সিটি। রেইন্ডার্সের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসা এবং ফিল ফোডেনের গোল অফসাইডে বাতিল হওয়া গানার্সদের চাপে রাখার কাজটিকে কঠিন করে তুলছিল।

সাউদাম্পটনও ছেড়ে কথা বলেনি। লিও সিয়েনজার একটি গোল অফসাইডে বাতিল না হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। অচলাবস্থা ভাঙতে ম্যাচের এক ঘণ্টা পর আর্লিং হালান্ড, ডোকু ও স্যাভিনিওকে মাঠে নামান গার্দিওলা, যা শেষ পর্যন্ত সিটির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করে।

ট্রেবল মিশনের পথে আরও এক ধাপ

গত মাসে কারাবাও কাপ জেতা ম্যানচেস্টার সিটির সামনে এখন আরও একটি ট্রফি জয়ের হাতছানি। আগামী মে মাসে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চেলসি অথবা লিডসের মুখোমুখি হতে আবারও ওয়েম্বলিতে ফিরবে তারা। এই জয়ের ফলে একদিকে যেমন তাদের ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্ন বেঁচে রইল, অন্যদিকে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে আর্সেনালের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল ম্যানচেস্টার সিটি।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে স্যাভিনিও আরও একটি সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়েনি। তবে ৫ মিনিটের সেই জাদুকরী নৈপুণ্যই সিটিকে পৌঁছে দিল কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ