ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

তিন মাসে ৫ শর্ত পূরণ না করলে বন্ধ হতে পারে ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১২:৫৯:২২
তিন মাসে ৫ শর্ত পূরণ না করলে বন্ধ হতে পারে ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের চারটি দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আপাতত বন্ধ না করে শর্তসাপেক্ষে তিন মাস টিকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করতে পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী অবসায়ন বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, উচ্চ খেলাপি ঋণ, লোকসান এবং তারল্য সংকটে ভোগা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এই কারণে সরাসরি বন্ধ না করে তাদের জন্য একটি “শেষ সুযোগ” দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে।

এই চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন মূলধন সংগ্রহ করতে হবে, যাতে তারা চলমান সংকট মোকাবিলা করতে পারে। পাশাপাশি দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া ও কার্যক্রম সচল রাখা যায়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের অচল বা কম কার্যকর সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করে ঋণের বোঝা কমাতে হবে এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কিছু প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭০ থেকে প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ব্যাংকিং মানদণ্ডে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে এবং কার্যত টিকে থাকার সক্ষমতা হারিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, এই তিন মাসের মধ্যে প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে, যাতে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।

সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নতি না হলে কঠোর আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে অবসায়ন বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, যাতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ