Md Razib Ali
Senior Reporter
কৌশলে বাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা ধ্বংসের অভিযোগ
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা–২০২৫ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৌশলে দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীরা। তাদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ইন্ধন জোগাচ্ছেন।
শনিবার (২০ জুন ২০২৬) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। তারা বলেন, বিধিমালাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো পুঁজিবাজারে। এ অবস্থায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সেমিনারে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ রায় বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, “অনেকে বলছেন সম্পদ ব্যবস্থাপকরা বিনিয়োগকারীদের যথাযথ লভ্যাংশ দেন না—এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, রেইস এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট একাই এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, যা অনেক বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানির তুলনায়ও বেশি ডিভিডেন্ড ইল্ড নির্দেশ করে। তার মতে, একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে মিউচুয়াল ফান্ড বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ফারহান বলেন, অধিকাংশ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের শতভাগ সম্পদ হেফাজতকারীর কাছে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও ফান্ডের সম্পদ লোপাটের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএসইসির কিছু কর্মকর্তা ও বাজারের কুচক্রিমহলের যোগসাজশে এসব বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারী ও বাজার—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে ম. জহুরুল হক বলেন, বিধিমালাটি কার্যকর হলে শেয়ারবাজার থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ স্থায়ীভাবে হারিয়ে যেতে পারে। তিনি জানান, মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগ ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারে। এসব ফান্ড একসঙ্গে অবসায়ন বা রিডেম্পশনের মুখে পড়লে বাজারে ভয়াবহ বিক্রির চাপ সৃষ্টি হবে, যার ফলে শেয়ারমূল্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের বড় অংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
সেমিনারে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, মেয়াদি ফান্ডগুলো জোরপূর্বক রিডেম্পশন বা রূপান্তরের মুখে পড়লে বাজারে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হবে। এতে সূচক পতনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার মতে, আতঙ্কজনিত বিক্রি শুরু হলে মোট বিক্রির চাপ ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা–২০২৫ ও মার্জিন রুলস–২০২৫ পুনর্বিবেচনা কিংবা বাতিল করা জরুরি। পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের সোনার দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান
- Pulsar F250-এ ২০ হাজার টাকা ছাড়, N160 ও 150-এ উপহার
- Royal Enfield Himalayan 750-এর দাম ও লঞ্চ নিয়ে যা জানা গেল
- Yamaha FZS V5 Hybrid-এর দাম কত? ফিচার ও মাইলেজ জানুন
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৯টি দেশের টাকার বিনিময় হার