সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১.৬ লাখ—নতুন পে স্কেলের হিসাব
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত হওয়ার পথে। নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন কোনো বেতন কাঠামো না থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে রয়েছেন। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে বেতন সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেলের প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে সচিব কমিটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিললে চলতি সপ্তাহের মন্ত্রিসভা বৈঠকেই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিক হারে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে পে স্কেল কত ধাপে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
বিচার বিভাগ নিয়ে জটিলতা
নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতাও দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা ও সমাধানের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো চালু হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
তবে এসব সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়নের তারিখ, ধাপ এবং আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট নিয়েও বক্তব্য
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, অর্থনীতি সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিগত সরকারের সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা না রাখাকে দায়ী করেন তিনি। সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ক্যাপিটেক ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন ঘোষণা
- পে-স্কেল নিয়ে আবারও শঙ্কা, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশ
- ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে ঢাকা ব্যাংক, জানুন বন্ড ছাড়ার কারণ
- ১৬ আগস্ট আজকের স্বর্ণের দাম
- ভ্যানগার্ড ফাইন্যান্স ওয়ান ফান্ডের অর্থ বিতরণে বড় সংশোধনী
- ছুটির তালিকায় থাকা ২৬ আগস্ট নিয়ে মিলল স্পষ্ট তথ্য
- ১৭ আগস্ট আজকের সোনার দাম
- ভুলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ডিলিট? পুরোনো মেসেজ ফেরত পাবেন যেভাবে
- জেনেক্স শেয়ার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আদনানের দুই বিও হিসাব স্থগিত
- রমজান ও ঈদ নিয়ে বড় আপডেট, সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১.৬ লাখ—নতুন পে স্কেলের হিসাব