ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

৫০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ২১ ১৫:২৭:৩৫
৫০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রায় ৫০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে গণহারে বহিষ্কারের আশঙ্কা আপাতত কেটে গেছে। দেশটির সরকার কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে তৈরি হওয়া এই সংকটের মধ্যে গণ-বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা এবং শীর্ষপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মালদ্বীপের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।

মালদ্বীপের বিদ্যমান অভিবাসন আইনে একটি দেশ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কর্মী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত সীমা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয় এবং বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা দেখা দেয়।

সংকট নিরসনে মালেতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম ধারাবাহিকভাবে মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালদ্বীপ সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হঠাৎ বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠানো হলে তা বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে মালদ্বীপের পর্যটন ও নির্মাণ খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের এই যুক্তিগুলো বিবেচনায় নিয়ে গণ-বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে মালদ্বীপ সরকার।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িকভাবে বহিষ্কারের ঝুঁকি কমলেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে।

তারা দক্ষ ও সনদপ্রাপ্ত কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মালদ্বীপের পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও নির্মাণ খাতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের বৈধ করার জন্য বিশেষ সমঝোতা, দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন বিশ্লেষকরা।

মুব/

পাঠকের মতামত: