ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

৩৫-৪০ হাজারে ২০২৬ সালের সেরা ৫ স্মার্টফোন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৮:৫৪:৫৩
৩৫-৪০ হাজারে ২০২৬ সালের সেরা ৫ স্মার্টফোন

একসময় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বাজেটেই ফ্ল্যাগশিপ কিলার ধরনের স্মার্টফোন পাওয়া যেত। শক্তিশালী গেমিং পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা সেন্সর, টেলিফটো ক্যামেরা থেকে শুরু করে ভালো ব্যাটারি—এই দামের ফোনগুলোতে থাকত বেশ কিছু আকর্ষণীয় সুবিধা। এখন সেই একই বাজেটে বাজারের চিত্র বদলেছে। ফলে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতে থাকলে কোন ফোনগুলো বিবেচনায় রাখা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

এই বাজেটের মধ্যে কয়েকটি স্মার্টফোনকে চয়েস লিস্টে রাখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে Redmi Note 15 Pro-এর গ্লোবাল ভেরিয়েন্ট, Realme P4 Power, Honor X9D, Poco X7 Pro এবং Samsung Galaxy A37। পাশাপাশি Samsung Galaxy A27 5G-ও প্রায় ৩৬ হাজার টাকার বাজেটে বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রায় ৩৬,৭০০ টাকায় Redmi Note 15 Pro

৩৫ হাজার টাকার কিছু বেশি থেকে প্রায় ৩৬,৭০০ টাকা পর্যন্ত বাজেট থাকলে Redmi Note 15 Pro-এর গ্লোবাল ভেরিয়েন্ট দেখা যেতে পারে। গ্লোবাল সংস্করণ হওয়ায় অ্যাপ, ট্যাপ ও নোটিফিকেশন ব্যবহারে সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ফোনটিতে রয়েছে AMOLED ডিসপ্লে, ১২০Hz রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ৩২০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস। ফলে ঘরের ভেতর কিংবা বাইরে ডিসপ্লে দেখার ক্ষেত্রে এটি ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে MediaTek Dimensity 7400। এই চিপসেট দিয়ে PUBG ও Free Fire-এর মতো গেম খেলা সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত কাজও ভালোভাবে সামলাতে পারে।

ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৬৫৮০mAh এবং চার্জিং সাপোর্ট ৪৫ ওয়াট। ব্যাটারি ব্যাকআপ মোটামুটি ভালো হলেও আরও বড় চার্জিং সিস্টেম থাকলে সুবিধা হতো।

ক্যামেরা বিভাগে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সরের সঙ্গে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। টেলিফটো ক্যামেরা নেই। আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা থেকে বেসিক ধরনের ফলাফল পাওয়া গেলেও ভালো আলোতে ২০০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা ভালো ছবি দিতে পারে। সামনে রয়েছে ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ব্যাটারির জন্য Realme P4 Power

বাজেট যদি বাড়িয়ে প্রায় ৩৭,৫০০ টাকা করা যায়, তাহলে Realme P4 Power বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। এই ফোনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো এর ব্যাটারি।

Realme P4 Power-এ রয়েছে AMOLED প্যানেল এবং ১৪৪Hz রিফ্রেশ রেট। ডিসপ্লের পিক ব্রাইটনেস ৬৫০০ নিটস বলা হয়েছে। পাশাপাশি MediaTek Dimensity 7400 Ultra চিপসেট এবং UFS 3.1 স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্যামেরার ক্ষেত্রে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরার সঙ্গে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড শুটার রয়েছে। সামনে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। Redmi Note 15 Pro-এর তুলনায় ছবির রঙ অনেকের কাছে বেশি ভালো লাগতে পারে।

তবে ফোনটির সবচেয়ে বড় দিক হিসেবে এসেছে ব্যাটারি। এতে ১০,০০১mAh সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি রয়েছে। সঙ্গে ৮০ ওয়াট চার্জিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে এবং চার্জারটি বক্সেই পাওয়া যায়। এ ছাড়া ২৭ ওয়াট রিভার্স চার্জিংয়ের মাধ্যমে অন্য ডিভাইসও চার্জ করা সম্ভব।

ব্যাটারি ব্যাকআপকে যদি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং Redmi Note 15 Pro-এর কাছাকাছি পারফরম্যান্স গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে এই ফোনটি তালিকায় রাখা যেতে পারে।

ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ Honor X9D

প্রায় ৩৭,৪০০ থেকে ৩৭,৫০০ টাকার বাজেটে Honor X9D-ও একটি বিকল্প। ফোনটি তুলনামূলকভাবে স্লিম এবং হাতে ধরতে ভালো লাগে। এতে AMOLED ডিসপ্লে, ১২০Hz রিফ্রেশ রেট ও ৬০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস রয়েছে।

চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 7s Gen 4। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি টুকটাক গেমিংয়ের জন্য এটি ব্যবহার করা যায়। Honor-এর UI-ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার দিক থেকে ভালো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্যামেরা সেটআপে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরার সঙ্গে ৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড রয়েছে। আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরাটি তুলনামূলক ছোট হলেও ভালো আলোতে সেখান থেকে গ্রহণযোগ্য ছবি পাওয়া যেতে পারে। কম আলোতে এর পারফরম্যান্স ভালো নয়।

সেলফির জন্য রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। সঙ্গে স্টেরিও স্পিকার, ৮৩০০mAh ব্যাটারি এবং ৬৬ ওয়াট চার্জিং সিস্টেম রয়েছে। ফোনটি দেখতে স্লিম হলেও বড় ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে।

পারফরম্যান্সে Poco X7 Pro

যারা এই বাজেটে পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাদের জন্য Poco X7 Pro বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। ফোনটির দাম প্রায় ৩৮,৫০০ থেকে ৩৯,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।

তবে বাজারে ফোনটির বর্তমান দাম ও প্রাপ্যতা কেনার আগে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এ ধরনের তালিকার ভিডিও মাসের শুরুতে ধারণ করা হয় এবং প্রকাশ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। ফলে এর মধ্যে দাম বা বাজারে ফোনটির প্রাপ্যতায় পরিবর্তন আসতে পারে।

Poco X7 Pro-তে AMOLED প্যানেল, ১২০Hz রিফ্রেশ রেট, Dolby Vision এবং HDR10+ সাপোর্ট রয়েছে। পারফরম্যান্সের জায়গায় MediaTek Dimensity 8400 Ultra চিপসেটের সঙ্গে UFS 4.0 স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে।

গেমিংয়ের জন্য এই হার্ডওয়্যার সমন্বয়কে শক্তিশালী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্যামেরায় রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল সেন্সর ও ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। এই বাজেটের ফোনে টেলিফটো ক্যামেরা না থাকায় এই কম্বিনেশন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

সামনের ক্যামেরা ২০ মেগাপিক্সেলের। ব্যাটারি ৬০০০mAh এবং চার্জিং সাপোর্ট ৯০ ওয়াট।

Samsung চাইলে Galaxy A37

৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার বাজেটে এমন ক্রেতাও রয়েছেন, যারা Samsung-এর ফোন ছাড়া অন্য ব্র্যান্ড বিবেচনা করতে চান না। তাদের জন্য Samsung Galaxy A37 দেখা যেতে পারে।

বর্তমান দামের তুলনায় ফোনটিকে ৩৯ হাজার টাকার ফোন হিসেবে বিবেচনা না করে ৩৫ হাজার টাকার নিচের ফোন হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে Samsung-এর ফোন নিতে চাইলে এই বাজেটে Galaxy A37 একটি বিকল্প হতে পারে।

ফোনটিতে Super AMOLED প্যানেল, ১২০Hz রিফ্রেশ রেট এবং Full HD+ রেজল্যুশন রয়েছে। প্রসেসিংয়ের জন্য Exynos 1480 ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অন্য ফোনগুলোর মতো উচ্চমাত্রার গেমিং পারফরম্যান্স এখানে পাওয়া যাবে না। গেমিং করলে ফোন গরম হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। টুকটাক গেমিং করা সম্ভব হলেও UI ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভালো।

Samsung-এর এই ফোনের বড় সুবিধাগুলোর একটি দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট। প্রায় ছয় বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যাবে, যা প্রায় ছয়টি আপডেটের সমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্টোরেজ হিসেবে UFS 3.1 রয়েছে। ক্যামেরা বিভাগে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড, ৫ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো এবং ১২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে।

কাগজে-কলমে ক্যামেরার সেন্সরগুলো তুলনামূলক ছোট মনে হলেও ছবির ফলাফল ভালো। Realme P4 Power ও Redmi Note 15 Pro-এর মতো ফোনের সঙ্গে তুলনা করলেও ক্যামেরার ক্ষেত্রে Galaxy A37 কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে।

ব্যাটারি ৫০০০mAh এবং চার্জিং সাপোর্ট ৪৫ ওয়াট।

Samsung Galaxy A27 5G-ও তালিকায়

৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার তালিকার পাশাপাশি প্রায় ৩৬ হাজার টাকার মধ্যে Samsung Galaxy A27 5G-ও দেখা যেতে পারে। এর কারণ, আগের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার ফোনের তালিকা তৈরির সময় এই স্মার্টফোনটি বাজারে আসেনি। পরে ফোনটি হাতে আসায় এটিকেও উল্লেখ করা হয়েছে।

Samsung Galaxy A27 5G-এর স্পেসিফিকেশন আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফোনটির পূর্ণ রিভিউও চ্যানেলে আসার কথা বলা হয়েছে অথবা ততদিনে প্রকাশিত হয়ে থাকতে পারে। ফলে Samsung পছন্দ করেন এমন ক্রেতারা প্রায় ৩৬ হাজার টাকার বাজেটে এই ফোনটিও বিবেচনা করতে পারেন।

কেনার আগে দাম যাচাই জরুরি

৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার বাজেটে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে বাজারদর পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন। আলোচনায় থাকা ফোনগুলোর দাম প্রতিদিন একই নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকায় কেনার আগে বর্তমান বাজারদর এবং ফোনের প্রাপ্যতা যাচাই করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আলোচনায় থাকা ডিভাইসগুলো এসএমএস গ্যাজেটসের স্টোরে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। কেনার আগে তাদের ওয়েবসাইটে বর্তমান দাম দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ