ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি, তবু সতর্কতায় বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৫:০৪:০৫
শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি, তবু সতর্কতায় বিনিয়োগকারীরা

সপ্তাহের শেষ লেনদেনটি স্বস্তির বার্তা দিয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের চিত্রে একদিকে যেমন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে, তেমনি প্রধান তিন সূচকও শেষ হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে। এর সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯৯ কোটি ২২ লাখ টাকা বেড়েছে লেনদেন। তবে সাম্প্রতিক দরপতনের ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারায় বিনিয়োগে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বাজার-সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে, পরিস্থিতি আগের তুলনায় ইতিবাচক হলেও বাজারে এখনো সেই গতি ফেরেনি, যা মঙ্গলবার দেখা গিয়েছিল। ফলে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানের মধ্যেও লেনদেনে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হয়নি। সাম্প্রতিক টানা পতনের কারণে তৈরি হওয়া উদ্বেগও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। তারা লেনদেনের পাশাপাশি বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। এর ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে সূচকে ওঠানামাও দেখা গেছে।

নজরদারি ও সংস্কারের ওপর গুরুত্ব

বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারে যেন কেউ কোনো ধরনের গেম বা কারসাজির সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য মনিটরিং জোরদার করা দরকার।

তবে শুধু নজরদারি বাড়ালেই হবে না—বাজারকে তার স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন তারা। বিনিয়োগকারীদের সচেতন করার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে কার্যকর উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে স্থিতিশীল পরিবেশ আরও শক্তিশালী হতে পারে। তার সঙ্গে লেনদেনের গতি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং শেয়ারবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে পারে।

ডিএসইর তিন সূচকেই বৃদ্ধি

বৃহস্পতিবারের বাজারচিত্রে ঊর্ধ্বমুখী ছিল ডিএসইর সব সূচক। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স ৩৮ দশমিক ০৭ পয়েন্ট যোগ করে ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ১৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

একই দিনে ডিএসইএস সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৬ দশমিক ৯০ পয়েন্টে। সূচকটি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট। আর ডিএসই-৩০ আগের অবস্থান থেকে ৮ দশমিক ১৭ পয়েন্ট এগিয়ে ২ হাজার ১০১ দশমিক ১৫ পয়েন্টে উঠেছে।

দর বৃদ্ধির সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। বৃহস্পতিবার ডিএসইর লেনদেনে যুক্ত হয় ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২৬২টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টির দর।

লেনদেনের অঙ্কেও আগের দিনের তুলনায় পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে প্রায় ৬৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। বুধবার যেখানে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৯৯ কোটি ২২ লাখ টাকা।

সিএসইতে সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বৃহস্পতিবার সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দিনের লেনদেনে শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে মোট ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন বুধবার এ বাজারে একই ধরনের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

সিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। দর কমেছে ৪৬টির এবং ২৬টি প্রতিষ্ঠানের দর ছিল অপরিবর্তিত।

দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৩ পয়েন্ট বাড়ার পর ১৪ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৩১ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। এর আগের দিনও সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল; বুধবার সিএএসপিআই বেড়েছিল ৭৪ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ