ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগের নতুন নিয়ম জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক, কী বদলাল?

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ২০:১৩:০৭
ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগের নতুন নিয়ম জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক, কী বদলাল?

ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানায় থাকা কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন হিসাব বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যাংক-কোম্পানির শেয়ারে আটকে রাখা যাবে না। পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির হয়ে বসতে চাওয়া ব্যক্তির নিজস্ব শেয়ার মালিকানার বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে জারি করা ‘বিআরপিডি-২ সার্কুলার নং-০৬’-এ এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা নিয়মগুলো জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ কমানো এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কোম্পানির নিট সম্পদই হবে বিনিয়োগের সীমা

ব্যাংকের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে এখন কোম্পানির নিট সম্পদের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কোনো কোম্পানি একাধিক ব্যাংক-কোম্পানির শেয়ার কিনলেও সব মিলিয়ে তার বিনিয়োগের মূল্য নিট সম্পদের সীমা ছাড়াতে পারবে না।

এখানে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বাজারদর নয়, ক্রয়মূল্য বিবেচনা করা হবে। ফলে একটি কোম্পানি যতটুকু নিট সম্পদের মালিক, ব্যাংক-কোম্পানির শেয়ারে তার মোট বিনিয়োগও সেই পরিমাণের মধ্যে রাখতে হবে।

নতুন নিয়ম কার্যকরের সময় যদি কোনো কোম্পানির বিনিয়োগ ইতোমধ্যে নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এ জন্য ছয় মাস সময় দিয়েছে।

সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে অতিরিক্ত অংশ কমিয়ে নির্ধারিত সীমায় ফিরিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ নিট সম্পদের তুলনায় বেশি ব্যাংক শেয়ার থাকা কোম্পানিকে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ সমন্বয় করতে হবে।

পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতায়ও পরিবর্তন

শেয়ারধারক কোনো কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কাউকে মনোনীত করার ক্ষেত্রেও এখন নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, মনোনীত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অথবা পরিচালক না হলে প্রতিনিধি পরিচালক হতে পারবেন না। এর পাশাপাশি ওই ব্যক্তির নিজের নামেও সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানির শেয়ার থাকতে হবে।

তবে সব ধরনের কোম্পানির জন্য মালিকানার সীমা এক রাখা হয়নি। তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তির নিজ নামে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২ শতাংশ দায়মুক্ত মালিকানা থাকতে হবে।

অন্যদিকে অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে একই শর্ত পূরণ করতে হলে মনোনীত ব্যক্তির নিজ নামে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২০ শতাংশ মালিকানা থাকা প্রয়োজন।

পদে থাকলে মালিকানাও ধরে রাখতে হবে

প্রতিনিধি পরিচালক হওয়ার আগে নির্ধারিত পরিমাণ শেয়ার থাকলেই নিয়ম শেষ হচ্ছে না। ব্যাংকের পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পুরো সময় ওই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানিতে প্রয়োজনীয় মালিকানা বজায় রাখতে হবে।

অর্থাৎ নিয়োগের পর নির্ধারিত মালিকানার পরিমাণ কমে গেলে নতুন নির্দেশনার শর্ত আর পূরণ হবে না।

অনুমোদনের সময় শুধু মনোনয়নপত্র যথেষ্ট নয়

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ কিংবা পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই প্রক্রিয়াতেও এবার অতিরিক্ত নথির বাধ্যবাধকতা এসেছে।

অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়ার সময় মনোনীত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানিতে মালিকানা বা স্বত্ব থাকার প্রমাণ দিতে হবে। ফলে শুধু কোম্পানির মনোনয়নপত্রের ভিত্তিতে অনুমোদনের আবেদন করা যাবে না।

অর্থাৎ মনোনীত ব্যক্তি সত্যিই নির্ধারিত পরিমাণ শেয়ারের মালিক—এমন প্রমাণপত্রও আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

পুরোনো প্রতিনিধি পরিচালক পরিবর্তনেও প্রযোজ্য

নতুন নিয়মটি শুধু সার্কুলার জারির পর থেকে নতুন প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। সার্কুলার জারির ঠিক আগমুহূর্তে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির হয়ে নিয়োগ পাওয়া প্রতিনিধি পরিচালককে পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তন করার সময়ও একই শর্ত মানতে হবে।

ফলে পুরোনো প্রতিনিধি পরিচালকের ক্ষেত্রেও পরবর্তী পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের সময় নির্ধারিত শেয়ার মালিকানার শর্ত এবং তার প্রমাণপত্রের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে।

ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২-এর পরিচালক মো. বায়েজীদ সরকার স্বাক্ষরিত সার্কুলারে নতুন নির্দেশনাগুলো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পরিচালকদের অবগত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও শেয়ারধারকদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে অবহিত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, নতুন ব্যবস্থার ফলে ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শেয়ারধারক কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিনিয়োগ কমবে এবং পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালকদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণেও সহায়তা মিলবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ