ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

আইপিও আবেদনকারীদের জন্য বিএসইসির নতুন বার্তা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৭:২১:০৪
আইপিও আবেদনকারীদের জন্য বিএসইসির নতুন বার্তা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর সামনে নতুন একটি বিকল্প তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই—এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি আইপিওতে আসতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বর্তমান নিয়ম মেনেই আবেদন করার বার্তা দিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির পরামর্শ হলো, ভবিষ্যতে আইপিও বিধিমালায় পরিবর্তন হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কারণে কোনো কোম্পানির আবেদন প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখা বা বিলম্ব করা উচিত নয়। ইতোমধ্যে আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থান জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আইপিও আবেদনে বর্তমান নিয়মই কার্যকর

নতুন মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাওয়া কোম্পানিগুলোর জন্য বর্তমানে কার্যকর রয়েছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের জনসাধারণের কাছে প্রস্তাব) বিধিমালা, ২০২৫’। এই বিধিমালা অনুসরণ করেই আইপিওর আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

কমিশনের বক্তব্য, যারা ইতোমধ্যে আইপিওর জন্য আবেদন করেছেন কিংবা আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের সামনে এখন বিধিমালা পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংস্কারের কথা বিবেচনা করে বর্তমান আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়নি।

বরং পরে আইপিওসংক্রান্ত নিয়মে কোনো ধরনের সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হলে, সেটি প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে আগে আবেদন করা কোম্পানিগুলোও সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

নতুন মূলধন না তুলেও তালিকাভুক্তির সুযোগ

আইপিওর পাশাপাশি তালিকাভুক্তির আরেকটি পথ তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন। যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন করে মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই ব্যবস্থার জন্য ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে বিএসইসি। খসড়াটি জনমত গ্রহণের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ছাড়তে হবে না। বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের কাছে থাকা শেয়ার অফলোড করতে পারবেন। সেই শেয়ার অফলোডের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।

বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য

বিএসইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে পারা কোম্পানিগুলো এই ব্যবস্থায় আবেদন করতে পারবে।

এতে একদিকে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির শেয়ারবাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে আগে থেকেই শেয়ার ধারণ করে থাকা বিনিয়োগকারীদের সেই শেয়ার অফলোড করার পথও থাকবে। কমিশনের মতে, এর ফলে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

শিগগির কার্যকর হবে ডাইরেক্ট লিস্টিং

ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের খসড়া বিধিমালা এখন জনমত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। বিএসইসি জানিয়েছে, প্রক্রিয়া শেষে বিধিমালাটি শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে এবং এরপর তা কার্যকর করা হবে।

তাই প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে—এমন কোম্পানিগুলোকে আগাম প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে যেসব কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে নতুন মূলধন সংগ্রহ করে বাজারে আসতে চায়, তাদের জন্য বর্তমান বিধিমালার অধীনেই আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে বিএসইসি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ