ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

দল পুনর্গঠন ও দেশে ফেরা নিয়ে ভারতে হাসিনার জরুরি বৈঠক

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৩৬:০৭
দল পুনর্গঠন ও দেশে ফেরা নিয়ে ভারতে হাসিনার জরুরি বৈঠক

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দেশের বাইরে অবস্থান করেও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এরই অংশ হিসেবে ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লি ও কলকাতায় থাকা আওয়ামী লীগের ২১ জন শীর্ষ নেতাকে নিয়ে জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকে একদিকে দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে বৈঠক থেকে দেশে ফেরার কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি সামনে আসেনি। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। ফলে তার প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে এখনো নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ স্থির হয়নি।

দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আলোচনায় তিন বিকল্প

দলীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে তিনটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রথমটি বিমানপথে দেশে ফেরা। দ্বিতীয় সম্ভাবনা স্থলপথ ব্যবহার করা। আর তৃতীয় ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন কোনো কৌশল নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

কোন বিকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, সেটি এখনই চূড়ান্ত করা হয়নি। দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বৈঠকে নেতাদের জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

আলোচনায় ছিল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ

বৈঠকের গুরুত্ব শুধু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থাও আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে।

নেতাকর্মীরা বর্তমানে কী ভূমিকা পালন করছেন এবং মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সংগঠনকে কীভাবে আবার সক্রিয় করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়। দল পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে নেতাদের কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ কোন কৌশলে রাজনৈতিকভাবে এগোবে, সেই প্রশ্নটিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।

৫ আগস্টের পর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার এটিই প্রথম সরাসরি বা ভার্চুয়াল বৈঠক।

এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে ঘিরে দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

দেশে ফেরার পথে কূটনৈতিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি কেবল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতাও বিষয়টিকে কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছে।

এ কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও বিবেচনায় আসতে পারে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে অন্যান্য কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ দেশে ফেরার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ধারণে একাধিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখার বিষয়টি সামনে রয়েছে।

নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা ফেরার তারিখ নেই

১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠক থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। একইভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা আসেনি।

তবে দলকে পুনর্গঠন, সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটানো এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করার বিষয়গুলো আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রশ্ন এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এখন একই সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিমানপথ নাকি স্থলপথ বেছে নেওয়া হবে, অথবা অন্য কোনো কৌশল নেওয়া হবে—তা নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপথের দিকেও নজর থাকছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ