ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্ধ শিল্প ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ২০:৪৯:৫৫
বন্ধ শিল্প ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থায়নের নতুন পথ খুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানকে আবার উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফেরাতে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

নতুন স্কিমে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা—দুই পক্ষের জন্যই প্রথম ছয় মাস সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হারে সুদ পরিশোধ ও আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা সার্কুলারে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঋণে সুদের সীমা নির্ধারণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো যে প্রাক-অর্থায়ন নেবে, তার ওপর সুদের হার হবে ৪ শতাংশ। প্রাক-অর্থায়ন পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস ব্যাংককে এই সুদ দিতে হবে না।

ছয় মাসের এই বিরতি শেষ হলে ত্রৈমাসিক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেস পিরিয়ডের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের যে সুদ বকেয়া থাকবে, সেটিও পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে, ব্যাংকগুলো স্কিমের অর্থ ব্যবহার করে গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে, সেই ঋণের সুদহার ৭ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

গ্রাহকরাও পাবেন ছয় মাসের ছাড়

স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ আদায় করা যাবে না। এই সময়টিই তাদের জন্য গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে গণ্য হবে।

গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে ঋণের ওপর সুদ আদায় শুরু হবে। একই সঙ্গে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে জমা হওয়া বকেয়া সুদও নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করতে হবে।

তিন বছরজুড়ে আবেদনের সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, স্কিমটির মেয়াদ তিন বছর। এই সময়ের মধ্যে তহবিলের প্রাপ্যতা থাকলে ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে। নির্ধারিত তিন বছরের সময়সীমার মধ্যে আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো এক সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি।

তবে আবেদন করলেই অর্থ পাওয়া যাবে—এমন নয়। প্রাক-অর্থায়নের জন্য স্কিমের তহবিল থাকা প্রয়োজন হবে।

অর্থের ব্যবহার নজরে রাখবে ব্যাংক

স্কিম থেকে পাওয়া অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর। ঋণের অর্থ কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে, ঋণ আদায়ের অবস্থা কী এবং গ্রাহক অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগাচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।

এ ছাড়া গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাবও নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতার ভিত্তিতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখিত নির্দেশনা জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংকের মাধ্যমে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যক্রমে ফেরানোর জন্য ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ